Question: আসসালামু আলাইকুম।মেডিটেশন,যোগব্যায়াম সম্পর্কে বিস্তারিত যদি লিখতেন।আমি কোথাও যেন পড়েছিলাম এটা জায়েজ না এবং মারাত্মকভাবে আকিদার সাথে সাংঘর্ষিক।
জাজাকাল্লাহু খাইরান
Answer: Affan Bin Sharfuddin
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম।
সাধারণভাবে প্রচলিত ধ্যান বা মেডিটেশন কোন ধর্মীয় বিষয় না বরং সাইকোলজিক্যাল এক্সারসাইজ। মেডিটেশনের পদ্ধতিগত বিভিন্নতা আছে। এবং মেডিটেশন নিয়ে এর সাথে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর মানসিকতায়ও বৈচিত্র্য আছে। মেডিটেশন যদি বৈধ পন্থায় হয় এবং ভুল কোন কন্সেপ্টকে কেন্দ্র করে না হয় তাহলে তা সরাসরি হারাম বলার অবকাশ নেই।
তবে যেহেতু মুসলিমদের নিজস্ব মেডিটেশন প্রক্রিয়া আছে তাই অন্যদের শেখানো এসব কর্মকাণ্ডের চেয়ে ইসলামী পন্থায় ইবাদত ও আল্লাহর যিকিরে মশগুল হওয়া এবং মুসলিম ধর্মগুরুদের শেখানো পদ্ধতিতে মুরাকাবা/মেডিটেশনই মানসিক প্রশান্তি ও মনস্তাত্ত্বিক সমৃদ্ধির জন্য অনেক অনেক বেশি ফলপ্রসূ। মু'মিনদের জন্য এটাই সবচেয়ে উত্তম, উপকারী ও অনুমোদিত পন্থা।
আপনি মেডিটেশনের যে মেথড সম্পর্কে জানতে চান তা বিস্তারিত কোন একজন আলেমকে লিখিত বা মৌখিক আকারে জানিয়ে যাচাই বাছাই করে নিন।
কোয়ান্টাম মেথডে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকুন।
হিন্দু রিচুয়াল হিসেবে যোগব্যায়ামে অংশগ্রহণ করা নিঃসন্দেহে হারাম। এর উৎস যেহেতু হিন্দু সংস্কৃতি তাই এর সাথে নূন্যতম সাদৃশ্যও ত্যাগ করতে হবে। শুধুমাত্র এক্সারসাইজ হিসেবেও কোন ইয়োগা স্টেপ ফলো করা যাবেনা। এটাই তাক্বওয়া ও মুমিনসুলভ সতর্কতা।
তবে নিছক এক্সারসাইজ মেথড হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বিকৃত দুয়েকটা ইয়োগা স্টেপের সাথে কারো স্টেপ মিলে গেলে বা অজ্ঞতা হেতু চেরি পিকিঙের মতো দুয়েকটা স্টেপ কেউ ফলো করলে তা সরাসরি ভিনধর্মের কাজে অংশগ্রহণ ও কত্বয়ী হারাম হবেনা। এবং তাকে অমুসলিম কিংবা ফাসেকও আখ্যা দেয়া যাবেনা।
কারন বর্তমানে এর উল্লেখযোগ্য একটা অংশ সারা বিশ্বে নিছক একটা এক্সারসাইজ মেথড হিসেবে সর্বমহলে চর্চিত হচ্ছে। ফলে ফিকহের উসূল অনুসারে ধীরে ধীরে তা 'উমুমে বালওয়ার' অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পথে। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বেনিফিট অব ডাউট পাবেন। তার উদ্দেশ্য ও কন্সেপ্ট অনুসারে তার উপরে বিধান আরোপিত হবে।
তবে মূল উৎসের বিচারে সবসময়ই এটা মুসলিমদের জন্য পরিত্যাজ্য ও নিষিদ্ধ।
আল্লাহু আ'লামু বিসসাওয়াব।