ইমাম বুখারীর রহঃ মতে ইমাম আবূ হানিফা রাহ. কী সত্যিই মুরজিয়া আকীদার লোক ছিলেন??
.•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
🌾🎓🌾আপত্তি এবং খন্ডনঃ—
ইমাম আবূ হানিফা রহঃ কে দুইটা কারণে মুরজিয়া আকীদার অনুসারী হিসেবে অপবাদ দেওয়া হয়েছে ৷ এর একটা কারণ ইমাম বুখারী রহঃ বর্ননা করেছেন ৷
🌴🍁🌴ইমাম বুখারী রাহ. আবূ হানিফা রাহ. সম্পর্কে বলেছেন:—
2253 - نعمان بْن ثابت أَبُو حنيفة الكوفِي مولى لِبَنِي تيم اللَّه بْن ثعلبة روى عنه عباد بْن العوام وابْن المبارك وهشيم ووكيع ومُسْلِم بْن خَالِد وأَبُو مُعَاوِيَة والمقري كَانَ مرجئا سكتوا (عنه و - 1)
নু’মান ইবনে সাবিত আবূ হানিফা... তিনি মুরজিয়া ছিলেন: তারা (মুহাদ্দিসগণ) তার সম্পর্কে নীরব ছিলেন।
(তারীখুল কাবীর: ৮/৮১, ২২৫৩ নং রাবী)
.
এখানে বুখারী রহঃ দুইটি অভিযোগ করেছেন ৷
①আবূ হানিফা রহঃ মুরজিয়া ছিলেন ৷
②মুহাদ্দিসরা তার সম্পর্কে নীরব ছিলেন ৷
.
🌴🌺🌴①প্রথমতঃ
ইমাম আবূ হানিফা রহঃ কে মুরজিয়া বলার কারণ হিসেবে, ইমাম বুখারী রহঃ বলেছেনঃ—
2198 - سليم بْن عِيسَى القارئ الكوفِي، سَمِعَ الثَّوْرِيّ وحمزة الزيات، روى عَنْهُ أَحْمَد بْن حميد وضرار بْن صرد، قَالَ لي ضرار بْن صرد حَدَّثَنَا سليم سَمِعَ سُفْيَان: قَالَ لي حماد بْن أَبِي سُلَيْمَان أبلغ أبا حنيفة المشرك أني برئ منه، قَالَ: وَكَانَ يَقُولُ: القرآن مخلوق
হাম্মাদ ইবন আবী সুলাইমান বলেন, আবু হানীফা নামক মুশরিককে আমার পক্ষ থেকে জানাও যে, তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আবু হানীফা বলেঃ কোরআন সৃষ্ট”৷
.
[বুখারী, তারীখুল কাবীর ৪/১২৭ ]
🍂তাহক্বীক্বঃ বর্ননাটির (ضرار بْن صرد) আবূ নুয়াইম দ্বিরার ইবন সুরাদ মিথ্যাবাদী ৷
قال علي بن الحسن الهسنجاني سمعت يحيى بن معين يقول بالكوفة كذابان أبو نعيم النخعي وأبو نعيم ضرار بن صرد
وقال البخاري والنسائي متروك الحديث
وقال الدارقطني : ضعيف.
وقال أبو أحمد بن عدي : وضرار بن صرد هذا من المعروفين بالكوفة، وله أحاديث كثيرة، وهو من جملة من ينسب إلى التشيع بالكوفة
তার সম্পর্কে বুখারীর রহঃ উস্তাদ ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন রহঃ বলেনঃ “কুফার দু’জন মহা-মিথ্যাবাদী আছেঃ একজন নুআইম নাখয়ী, অন্যজন আবু নুআইম দিরার ইবন সুরাদ” ৷ ইমাম বুখারী ও নাসায়ী রহঃ বলেনঃ “সে পরিত্যক্ত হাদীস বর্ণনাকারী”, ইমাম নাসায়ীর ভাষায় পরিত্যক্ত অর্থ মিথ্যাবাদী।
দারাকুতনী বলেন, সে যঈফ ৷
ইবনে আদি রহঃ বলেন, সে কুফার শিয়া গোত্রের একজন ছিলো ৷
[তাহযীবুত তাহযীব ৪/৪৫৬, রাবী নং ৭৯৮
তাহযীবুল কামাল, মিযযী ১৩/৩০৩-৩০৫; আল জারহু ওয়াত তাদীল, ইবনু আবী হাতেম ৪/ তরজমা নংঃ ২০৪৬; দুয়াফাউল কাবীর, উকাইলী ২/২২২-২২৩; আল কামেল, ইবনু আদী ২/১০৫]
🎓আরেক রাবী (سُلَيْمُ بْنُ عِيسَى) তার সম্পর্কে ইমাম উকাইলী রহঃ বলেছেনঃ—
674 - سُلَيْمُ بْنُ عِيسَى مَجْهُولٌ فِي النَّقْلِ، حَدِيثُهُ مُنْكَرٌ غَيْرُ مَحْفُوظٍ
সে 'মাজহুলুন ফিন নাক্বল' এবং তার বর্ণিত হাদীস পরিত্যাক্ত ও সংরক্ষিত নয়'
[দুয়াফা আল কাবীর,উকাইলী ২/১৬৩]
↓
🌴🎓🌴প্রথম কথা হচ্ছে, ইমাম বুখারীর রহঃ এই ধারনাটাই মিথ্যা যে, আবূ হানিফা রহঃ মুরজিয়া আকীদা মোতাবেক কুরআন কে মাখলুক্ব বলেছেন ৷
কেননা, আবূ হানিফা রহঃ কুরআন কে মাখলুক্ব বলেন নি ৷
🍀 বুখারীর উস্তাদ ইমাম আহমাদ রহঃ এই বিষয়ের খন্ডন করে বলেছেনঃ—
.
قَالَ ابْنُ كَأْسٍ: ثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْمَرْوَزِيُّ، سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ، يَقُولُ: " لَمْ يَصِحَّ عِنْدَنَا أَنَّ أَبَا حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ، قَالَ: الْقُرْآنُ مَخْلُوقٌ
আমাদের নিকটে এটা সহীহ নয় যে, ইমাম আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ কুরআন কে মাখলুক্ব বলেছেন ৷৷
.
( মানাকিবে আবূ হানিফা যহাবীঃ ৪৩,তারীখে বাগদাদী: ১৫/৫১৬)
কেননা, ইমাম আবূ হানিফা রহঃ পবিত্র কুরআন কে পরিষ্কারভাবে গাইরে মাখলুক্ব এবং আল্লাহর কালাম ই বলেছেন ৷ যেমনঃ—
وَالْقُرْآن غير مَخْلُوق
অর্থাৎ কুরআন গাইরে মাখলুক।
https://al-maktaba.org/book/6388/17
(ফিকহে আকবার - ২০ পৃঃ)
🍀আবার, খতিব বাগদাদী রহঃ লিখেছেনঃ
فأَخْبَرَنَا مُحَمَّد بن أَحْمَد بن رزق، قَالَ: حَدَّثَنَا عَليّ بن أَحْمَد بن مُحَمَّد -[517]- القَزْوِينِيّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْد الله مُحَمَّد بن شَيْبَان الرَّازِيّ العَطَّار بالري، قَالَ: سَمِعْتُ أَحْمَد بن الحَسَن النرمقي، قَالَ: سَمِعْتُ الحكم بن بشير، يَقُولُ: سَمِعْتُ سُفْيَان بن سَعِيد الثوري، والنعمان بن ثابت، يقولان: القُرْآن كلام الله غير مخلوق
সুফিয়ান সাওরী ও আবু হানিফা রাহ. উভয়ে ই বলেছেনঃ-
কুরআন আল্লাহর কালাম, মাখলূক নয়। (তারীখে বাগদাদী: ১৫/৫১৬)
🍀আবার, ইমাম আবূ হানিফা রহঃ থেকে এই ফতোয়াও আছে যে,
حَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو جَعْفَر السمناني، قَالَ: حَدَّثَنَا الحَسَن بن أَبِي عَبْد الله السمناني، قَالَ: حَدَّثَنَا الحُسَيْن بن رحمة الويمي، قَالَ: حَدَّثَنَا شجاع الثلجي، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّد بن سماعة، عن أَبِي يُوسُف، قَالَ: ناظرت أَبَا حنيفة ستة أشهر، حَتَّى قَالَ: من قَالَ: القُرْآن مخلوق فَهُوَ كافر.
আবূ ইউসুফ রহঃ বলেন, আমি আবূ হানিফার রহঃ দিকে ছয় মাস পর্যন্ত তাকিয়ে রইলাম, একসময়ে ইমাম আবূ হানিফা রহঃ বললেন, যে ব্যক্তি বলবে কুরআন মাখলুক্ব, সে কাফের ৷৷
(তারীখে বাগদাদী: ১৫/৫১৬)
🍀অন্যত্র আবূ ইউসুফ রহঃ বলেন:—
أَخْبَرَنَا الخلال، قَالَ: أَخْبَرَنَا الحريري، أَنَّ النخعي، حدثهم قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَد بن الصلت، قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْر بن الوليد، عن أَبِي يُوسُف، عن أَبِي حنيفة، قَالَ: من قَالَ: القُرْآن مخلوق فَهُوَ مبتدع، فلا يقولن أحد بقوله، ولا يصلين أحد خلفه.
ইমাম আবূ হানিফা রহঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআন কে মাখলুক্ব বললো, সে বিদআত করলো ৷ সুতরাং তোমরা এমন ব্যক্তির সাথে কথা বলবে না এবং উক্ত ব্যক্তির পিছনে সালাতও পড়বে না ৷
(তারীখে বাগদাদী: ১৫/৫১৬)
🌻আবু বকর ইবনে আবি শাইবা রহঃ বলেন:-
وَقَالَ النخعي: حَدَّثَنَا نَجِيح بن إِبْرَاهِيم، قَالَ: حَدَّثَنِي ابن أَبِي كرامة وراق أَبِي بَكْر بن أَبِي شَيْبَة، قَالَ: قدم ابن مبارك عَلَى أَبِي حنيفة، فَقَالَ لَهُ أَبُو حنيفة: ما هَذَا الَّذِي دب فيكم؟ قَالَ لَهُ: رجل يُقَال لَهُ: جهم، قَالَ: وما يَقُولُ؟ قَالَ: يَقُولُ: القُرْآن مخلوق، فَقَالَ أَبُو حنيفة: {كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِنْ يَقُولُونَ إِلا كَذِبًا}.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহঃ আবূ হানিফার রহঃ নিকটে উপস্থিত হলেন ৷ অতপর আবূ হানিফা রহঃ তাকে বললেনঃ আপনাদের মধ্যে এই ভাল্লুক টা কে? তিনি তাকে বললেনঃ একটা লোক, যাকে জাহম বলা হয় ৷ আবূ হানিফা রহঃ জিজ্ঞেস করলেনঃ সে কী বলে? ইবনে মোবারক রহঃ বললেনঃ সে বলে: কুরআন মাখলুক্ব ৷ তখন আবূ হানিফা রহঃ তেলাওয়াত করলেনঃ—“তাদের মুখ থেকে বের হওয়া বাক্য কী সাংঘাতিক! তারা তো শুধু মিথ্যাই বলে।”(সুরা কাহফঃ ০৫)
(তারীখে বাগদাদী: ১৫/৫১৬)
↓
তাহলে, যিনি মুরজিয়া আকীদার অনুরুপ কুরআন কে মাখলুক্ব বলা লোক কে কাফের/বিদআতী বলেন, তার বিরুদ্ধে মুরজিয়া হওয়ার অভিযোগ কতটা হাস্যকর সেটা বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখেনা😊😊।
↓
🍀সেইজন্যেই সুলাইমান আল জাওযাজানী রহঃ এবং মুয়াল্লা বিন মানসুর আর রাজী রহঃ বলেনঃ—
وَقَالَ النخعي: حَدَّثَنَا مُحَمَّد بن شاذان الجَوْهَرِيّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا سُلَيْمَان الجَوْزَجَانيّ، وَمُعَلَّى بن منصور الرَّازِيّ، يقولان: ما تكلم أَبُو حنيفة ولا أَبُو يُوسُف، ولا زُفَر، ولا مُحَمَّد، ولا أحد من أصحابهم في القُرْآن، وإنما تكلم في القُرْآن بِشْر المريسي، وابن أَبِي دؤاد، فهؤلاء شانوا أصحاب أَبِي حنيفة.
[ذكر الروايات عمن حكى عن أبي حنيفة القول بخلق القرآن]
না আবূ হানিফা, না আবূ ইউসুফ, না যুফার, না মুহাম্মদ, না তাদের অন্য কোনো সাথী কুরআন কে মাখলুক্ব বলেছেন ৷ বরং বিশর আল মুরাইসি এবং ইবনে আবূ দাউদ কুরআন কে মাখলুক বলেছিলেন ৷ এরাও তাদের মতোই আবূ হানিফার রহঃ সাথী ৷৷
(তারীখে বাগদাদী: ১৫/৫১৬)
🌻ইমাম আহমদ রহঃও বলেছেন যে,
وَقَالَ النخعي: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْر المروذي، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْد الله أَحْمَد بن حَنْبَل، يَقُولُ: لم يصح عندنا أَنَّ أَبَا حنيفة كَانَ يَقُولُ: القُرْآن مخلوق.
আমাদের নিকটে এটা সহীহ নয় যে, আবূ হানিফা রহঃ কুরআনকে মাখলুক্ব বলেছিলেন ৷
(তারীখে বাগদাদী: ১৫/৫১৬)
↓↓
🌻খোদ ইমাম বুখারী রহঃ ই হয়তোবা কনফিউশনে ছিলেন যে, ”হাম্মাদ বিন আবি সুলাইমান” ইমাম আবূ হানিফা রহঃ কে মুরজিয়া আকীদার বলেছেন? নাকি “আবূ ফুলান” কে ৷
কেননা, বুখারী রহঃ অন্যত্র আবূ হানিফার রহঃ জায়গায় “আবূ ফুলান” এনেছেন:—
وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ: حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الْقَارِئُ، قَالَ: سَمِعْتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ، يَقُولُ: قَالَ لِي حَمَّادُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ: «§أَبْلِغْ أَبَا فُلَانٍ الْمُشْرِكَ أَنِّي بَرِيءٌ مِنْ دِينِهِ» ، وَكَانَ يَقُولُ: «الْقُرْآنُ مَخْلُوقٌ»
হাম্মাদ ইবন আবী সুলাইমান বলেন, “আবূ ফুলান” নামক মুশরিককে আমার পক্ষ থেকে জানাও যে, তার সাথে আমার দ্বীনের বিষয়ে কোনো সম্পর্ক নেই। আবু ফুলান বলেঃ কোরআন সৃষ্ট”৷
('আত-তারীখুল কাবীর' ২/১২৭ বর্ননা নংঃ ১২৯৮)
↓
🌻আর, ৬ষ্ঠ হিজরী শতকের প্রসিদ্ধ শাফিয়ী ফকীহ ও আকীদা বিশেষজ্ঞ ইমাম শাহরাস্তানী মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল কারীম ইবন আহমদ (৪৬৭-৫৪৮ হি) মুরজিয়া ফিরকার ‘‘গাস্সানিয়া’ নামক দলের প্রধান কূফার ‘গাস্সান’ নামক ব্যক্তির বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন:—
ومن العجيب أن غسان كان يحكي عن أبي حنيفة رحمه الله مثل مذهبه، ويعده من المرجئة، ولعله كذب كذلك عليه،
‘‘আশ্চর্য বিষয় যে, গাস্সান প্রচার করত যে, আবূ হানীফা (রাহ)-এর মত তাঁর মতেরই মতো!! এবং সে তাঁকে মুরজিয়া হিসেবে প্রচার করত। সম্ভবত এগুলিও তাঁর নামে এ ব্যক্তির মিথ্যাচার।’’
[শাহরাসতানী, আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/১৪১]
সুতরাং আবূ হানিফা রহঃ কুরআনকে মাখলুক্ব বলা মুরজিয়া আকীদার লোক ছিলেন, বিষয়টা সহীহভাবে প্রমাণিত নয় ৷৷৷৷
↓
🍀🌴🍀অনেকের অভিযোগ/অপবাদ মোতাবেক ইমাম আবূ হানিফা রহঃ কে আরেকটা কারণে মুরজিয়া ধারণা করা হয়, সেটা হলোঃ তিনি নাকি বিশ্বাস করতেন যে,
زعموا أن الإيمان هو المعرفة والإقرار بالله ورسوله وبما جاء من عنده جملة على ما ذكره البرهوتي
ঈমান হলো আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর নিকট থেকে যা কিছু এসেছে তা সামগ্রিকভাবে জানা (হৃদয়ের জ্ঞান) ও মুখে স্বীকার করা (অন্তরের বিশ্বাস ও মুখের স্বীকারোক্তিই ঈমান, কর্ম ঈমানের অংশ নয়)। বারহূতী তা উল্লেখ করেছেন।’’
অর্থাৎ, আবূ হানিফার রহঃ আকীদা নাকি এমন ছিলো যে,
وكان يقول لا يضر مع الإيمان معصية كما لا ينفع مع الكفر طاعة...
ঈমান ঠিক থাকলে পাপ করলে কোনো অসুবিধা নেই; যেমন কাফিরের নেক কর্ম তার কাজে লাগবে না।...
↓
🌴🎓🌴ইমাম আবূ হানীফা রহঃ কে এই কারণে ‘‘মুরজিয়া’’ আখ্যায়িত করার বিষয়ে ইমাম শাহরাস্তানী মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল কারীম ইবন আহমদ (৪৬৭-৫৪৮ হি) বলেন:
كان يقال لأبي حنيفة وأصحابه مرجئة السنة وعده كثير من أصحاب المقالات من جملة المرجئة ولعل السبب فيه أنه لما كان يقول: الإيمان هو التصديق بالقلب وهو لا يزيد ولا ينقص ظنوا أنه يؤخر العمل عن الإيمان والرجل مع تجرده في العمل (تبحره في العلم) كيف يفتي بترك العمل. وله سبب آخر وهو أنه كان يخالف القدرية والمعتزلة الذين ظهروا في الصدر الأول. والمعتزلة كانوا يلقبون كل من خالفهم في القدر مرجئا وكذلك الوعيدية من الخوارج. فلا يبعد أن اللقب إنما لزمه من فريقي المعتزلة والخوارج...
‘‘আবূ হানীফা ও তাঁর সাথীদেরকে সুন্নী মুরজিয়া বলা হতো। অনেক লেখক তাঁকে মূল মুরজিয়াদের অন্তর্ভুক্ত করে উল্লেখ করেছেন। সম্ভবত এর কারণ যে, তিনি বলতেন: ঈমান হলো অন্তরের বিশ্বাস এবং ঈমানের হ্রাসবৃদ্ধি হয় না। এজন্য তারা ধারণা করেছেন যে, তিনি আমলকে ঈমান থেকে বিচ্চিন্ন করেছেন। যে মানুষ এত গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন, এত বেশি আমল করতেন তিনি কিভাবে আমল বর্জনের ফাতওয়া দিতে পারেন!?
এর অন্য একটি কারণ রয়েছে।
প্রথম যুগে (তাঁর যুগে) প্রকাশিত কাদারিয়া ও মুতাযিলীদের তিনি চরমভাবে বিরোধিতা করতেন। আর কাদারিয়া মতের বিষয়ে যারাই মুতাযিলীদের বিরোধিতা করত তাদের সকলকেই মুরজিয়া বলত। খারিজীগণও তাই করত। এজন্য খুবই সম্ভব যে, মুরজিয়া আখ্যাটি ইমাম আবূ হানীফা মুতাযিলী ও খারিজীগণ থেকেই পেয়েছেন।...’’
[শাহরাসত্মানী, আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/১৪১-১৪২; লাখনবী, আর-রাফউ ওয়াত তাকমীল, ৩৫২-৩৬২]
🌴🍀🌴 স্বয়ং আবু হানিফা রহঃ মুরজিয়াদের বাতিল আকীদার সমালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে লিখেছেন ৷
ইমাম আবূ হানিফা রহঃ বলেন:—
وَلاَ نَقُوْلُ: إِنَّ الْمُؤْمِنَ لاَ يَضُرُّهُ الذُّنُوْبُ، وَلاَ نَقُوْلُ: إِنَّهُ لاَ يَدْخُلُ النَّارَ، وَلاَ نَقُوْلُ: إِنَّهُ يَخْلُدُ فِيْهَا، وَإِنْ كَانَ فَاسِقاً بَعْدَ أَنْ يَخْرُجَ مِنَ الدُّنْيَا مُؤْمِناً. وَلاَ نَقُوْلُ: إِنَّ حَسَنَاتِنَا مَقْبُوْلَةٌ وَسَيِّئَاتِنَا مَغْفُوْرَةٌ كَقَوْلِ الْمُرْجِئَةِ.......
আমরা বলি না যে, পাপ মুমিনের কোনো ক্ষতি করবে না। আমরা এও বলি না যে, মুমিন জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। আমরা এও বলি না যে, মুমিন অনন্তকাল জাহান্নামে থাকবে। মুমিন যদি ফাসিক বা পাপী হয় কিন্তু ঈমানসহ পৃথিবী ত্যাগ করে তবে তার বিষয়ে আমরা এরূপ বলি না। আমরা বলি না যে, আমাদের নেক কর্মগুলো কবুলকৃত এবং পাপরাশি ক্ষমাকৃত। মূলতঃ এরূপ কথা মুরজিয়াগণ বলে.....৷
(দেখুনঃ আল-ফিকহুল আকবার:১/৪৫-৪৯)
তাহলে যিনি মুরজিয়াদের বিরুদ্ধে বলেছেন, তিনি নিজেই কীভাবে মুরজিয়া হোন??
এবিষয়ে ইমাম আবূ হানিফার রহঃ ছাত্রদের আকীদাও অনুরূপ, যেটা ইমাম তাহাবী রহঃ আবূ হানিফার রহঃ ছাত্রদের মুরজিয়া বিরোধী আকীদার বিষয়ে বিস্তারিত বলেছেন ৷
(দেখুনঃ- আল-আকীদাতুত তহাবী, পৃ. ১৩-১৫)
↓
🌴🎓🌴মূলতঃ ইমাম আবূ হানিফা রহঃ সম্পর্কে বুখারীর রহঃ অন্তরে বিষ ঢুকিয়েছিলো তার উস্তাদ নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ ৷
যার সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণ বলেছেন:—
كان يضع الحديث في تقوية السنة وحكايات في ثلب أبي حنيفة كلها كذب
‘‘তিনি সুন্নাতকে শক্তিশালী করার জন্য জাল হাদীস তৈরি করতেন এবং আবূ হানীফার নিন্দায় কাহিনী তৈরি করতেন যা সবই মিথ্যা।’
’[তাহযীবুত তাহযীব ১০/৪৬২,৪৬৩]
🍀🌻🍀শাইখ সালেহ আল-ফাওযানকে আবু হানিফা মুরজিয়া হওয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এবং বলেছেন আবু হানিফা হলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের ইমাম।
.
মুরজিয়াগণ আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভূক্ত নয়। শাইখ এর বক্তব্য দেখুন:- https://www.youtube.com/watch?v=zC2qOsfFigQ
↓↓
🌴🎓🌴দ্বিতীয় অভিযোগের জবাবঃ—
ইমাম বুখারী রহঃ ২ নম্বরে বলেছেন যে, সাকাতু আনহু বা আবূ হানিফা রহঃ কে মুহাদ্দিসীনরা পরিত্যাগ করেছেন বা তার সম্পর্কে নীরব রয়েছেন ৷
এটাও মিথ্যা কথা ৷৷
কেননা, ইমাম আবূ হানিফা রহঃ থেকে মুহাদ্দিসরা হাদীস বর্ণনা করেছেন ৷ আবূ হানিফা রহঃ সম্পর্কে জরাহ তাদিল করা হয়েছে ৷ তাহলে মুহাদ্দিসরা তাকে পরিত্যাগ করলেন বা নীরব থাকলেন কীভাবে????
.
🍀বুখারীর উস্তাদ হযরত আলী ইবনে মাদানী রহঃ বলেন:—
2112 - وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ: أَبُو حَنِيفَةَ رَوَى عَنْهُ الثَّوْرِيُّ، وَابْنُ الْمُبَارَكِ، وَحَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، وَهُشَيْمٌ، وَوَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، وَعَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، وَجَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، وَهُوَ ثِقَةٌ لَا بَأْسَ بِهِ،
আবু হানীফা (রাহ.) থেকে সুফিয়ান ছাওরী, ইবনুল মুবারক, হাম্মাদ ইবনে যায়েদ, হুশাইম ইবনে বাশীর, ওকী ইবনুল জাররাহ, আব্বাদ ইবনুল আওয়াম ও জাফর ইবনে আউন বর্ণনা করেছেন।
আবূ হানিফা রহঃ সিক্বাহ, তার বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই ৷ ৷
(জামেউল বায়ানিল ইলম, বর্ননা নং ২১১১,, ২১১২)
https://al-maktaba.org/book/22367/1413#p1
🍀বুখারীর আরেক উস্তাদ ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন রহঃ বলেন:—
قَالَ وَنا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْحَافِظُ قَالَ نَا عبد الله بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ قَالَ سُئِلَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ فَقَالَ ثِقَةٌ مَا سَمِعْتُ أَحَدًا ضَعَّفَهُ هَذَا شُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ يَكْتُبُ إِلَيْهِ أَنْ يحدث ويأمره وَشعْبَة شُعْبَة
আব্দুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন ইবরাহীম দাওরাকী (২৭৬ হি) বলেন যে,
‘‘আমার উপস্থিতিতে ইয়াইয়া ইবন মায়ীনকে আবূ হানীফা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়, আমি শুনছিলাম, তিনি বলেন: আবু হানিফা রহঃ নির্ভরযোগ্য-বিশ্বস্ত। কেউ তাঁকে দুর্বল বলেছেন বলে আমি শুনি নি। এ তো শুবা ইবনুল হাজ্জাজ, তিনি আবূ হানীফাকে হাদীস বর্ণনা করতে লিখেন এবং অনুরোধ করেন। আর শুবা তো শুবাই।’’
[ইবন আব্দুল বার্র, আল-ইনতিকা, পৃ. ১২৭।]
↓
أَخْبَرَنَا ابن رزق، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَد بن عَليّ بن عُمَر بن حُبَيْش الرَّازِيّ، قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّد بن أَحْمَد بن عصام، يَقُولُ: سَمِعْتُ مُحَمَّد بن سَعْد العوفي، يَقُولُ: سَمِعْتُ يَحْيَى بن معين، يَقُولُ: كَانَ أَبُو حنيفة ثقة لا يحدث بالحديث إِلا ما يحفظ، ولا يحدث بما لا يحفظ
ইবন মায়ীনের ছাত্র মুহাম্মাদ ইবন সাদ আল-আউফী বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন রহঃ কে বলতে শুনেছিঃ—
‘‘আবূ হানীফা হাদীসে নির্ভরযোগ্য-বিশ্বস্ত ছিলেন। যে হাদীস তাঁর মুখস্থ, সে হাদীস ছাড়া কোনো হাদীস তিনি বলতেন না। যা তাঁর মুখস্থ নয় তা তিনি বলতেন না।’’
(তারিখে বাগদাদ পৃষ্ঠাঃ ১৫/৫৭৩)
ইবনে মাঈন রহঃ আরো বলেছেন যে,
وَقَالَ ابْنُ مَعِينٍ فِيمَا رَوَاهُ عَنْهُ صَالِحُ بْنُ مُحَمَّدٍ جَزَرَةٌ وَغَيْرُهُ: أَبُو حَنِيفَةَ ثِقَةٌ،
স্বালেহ ইবনে মুহাম্মদ এবং অন্যান্যরাও আবূ হানিফা রহঃ কে সিক্বাহ বলেছেন ৷
(মানাক্বিবে আবূ হানিফা, যহাবীঃ ৪৫)
↓
🍀হাফিজুল হাদীস ইমাম ইয়াযিদ ইবন হারূন ওয়াসিতী রহঃ বলেন:—
اُخْبُرْنَا عمر بن إِبْرَاهِيم قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا احْمَد بن عَطِيَّة قَالَ ثَنَا تَمِيم بن الْمُنْتَصر قَالَ كنت عِنْد يزِيد بن هَارُون فَذكر أَبُو حنيفَة فنال إِنْسَان مِنْهُ فَأَطْرَقَ طَويلا قَالُوا رَحِمك الله حَدثنَا فَقَالَ كَانَ أَبُو حنيفَة تقيا نقيا زاهدا عَالما صَدُوق اللِّسَان احفظ اهل زَمَانه سَمِعت كل من أَدْرَكته من أهل زَمَانه يَقُول إِنَّه مَا رأى أفقه مِنْهُ
‘‘আবূ হানীফা আল্লাহ-ভীরু, পবিত্র ও সংসারবিরাগী আলিম ছিলেন। তিনি সত্যপরায়ণ এবং তাঁর যুগের সবচেয়ে বড় হাফিযে হাদীস ছিলেন। তাঁর যুগের যত মানুষকে আমি পেয়েছি সকলকেই বলতে শুনেছি: তিনি ফিকহের বিষয়ে আবূ হানীফার রহঃ চেয়ে অধিক পারদর্শী আর কাউকে দেখেন নি।’’
[সাইমারী, আখবারু আবি হানিফাঃ ৪৬)
🍀খোদ ইমাম বুখারী রহঃ নিজেই আবূ হানিফা রহঃ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন,
.
436 - حَدثنَا مُوسَى ثَنَا أَبُو عوَانَة عَن مُغيرَة عَن أبي حنيفَة........
(ইমাম বুখারী) তিনি মুসা থেকে, তিনি আবু আওয়ানা থেকে,তিনি মুগীরা থেকে, তিনি আবু হানিফা থেকে।
(বুখারী, তারীখুল আওসাত্ব: ১/১০৫, হাদীস নং ৪৩৬)
🍀ইমাম নাসাঈ রহঃ আবূ হানিফা রহঃ থেকে হাদীস বর্ননা করেছেনঃ-
7301 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ النُّعْمَانِ يَعْنِي أَبَا حَنِيفَةَ،...
ইমাম নাসাঈ খবর পেয়েছেন আলী ইবনে হুজর থেকে, তিনি বলেন আমি খবর পেয়েছি ঈসা বিন ইউনুস থেকে,তিনি আবূ হানিফা রহঃ থেকে...
(সুনানে কুবরা নাসাঈ, ৬/৪৮৬ হাঃ ৭৩০১)
🍀ইবনে হাজার রহঃ আবূ হানিফা রহঃ থেকে যারা হাদীস বর্ননা করেছেন, তাদের নাম বলেছেন:—
817 – "ت س – النعمان" بن ثابت التيمي أبو حنيفة الكوفي وعنه ابنه حماد وإبراهيم بن طهمان وحمزة بن حبيب الزيات وزفر بن الهذيل وأبو يوسف القاضي وأبو يحيى الحماني وعيسى بن يونس ووكيع ويزيد بن زريع وأسد بن عمرو البجلي وحكام بن يعلى بن سلم الرازي وخارجة بن مصعب وعبد المجيد بن أبي رواد وعلي بن مسهر ومحمد بن بشر العبدي وعبد الرزاق ومحمد بن الحسن الشيباني ومصعب بن المقدام ويحيى بن يمان وأبو عصمة نوح بن أبي مريم وأبو عبد الرحمن المقري وأبو عاصم وآخرون
وقال محمد بن سعد العوفي سمعت ابن معين يقول كان أبو حنيفة ثقة لا يحدث بالحديث إلا بما يحفظه ولا يحدث بما لا يحفظ وقال صالح بن محمد الأسدي عن بن معين كان أبو حنيفة ثقة في الحديث
(তাহযিবুত তাহযিবঃ ১০/৪৪৯, রাবী নং ৮১৭)
🍀আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে আয়ুন রহঃ বলেনঃ—
حدثني ابي قال حدثني ابي قال حدثني ابو بكر محمد بن جعفر بن اعين قال سمعت احمد بن منصور الرمادي يقول ادركنا ممن حدث عن ابي حنيفة .يزيد بن هارون و عبد الرازاق بن همام و ابا عاصم النبيل و ابا نعيم و ابا عبد الحمن المقري.قال الرمادي. وروي عنه سفيان الثوري و سفيان بن عيينة و عباد بن عوام و حاتم بن اسماعيل.و وكيع .و يحيي بن آدم.و عيسي بن يونس و يزيد بن هارون .و عبد الله بن داؤد وسلم بن سالم
আমি আহমদ ইবনে মানসূর আর-রমাদী রহঃ কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন আমরা ঐ ঐসকল মোহাদ্দেসদের পেয়েছি যারা আবূ হানিফা রঃ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, যেমনঃ ইয়াজিদ ইবনে হারুন, আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হুমাম, আবু আসেম, আন-নুবাইল, আবু নাঈম, আবু আঃ রহমান আল-মিকরী, রমাদী রহঃ আরো বলেন, আরো যেসকল মোহাদ্দেস আবু হানিফা রঃ থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা হলেন ইমাম সুফিয়ান সাওরী রহঃ সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা, ইবাদত ইবনে আওয়াম, হাতেম ইবনে ইসমাঈল ওকী ইবনুল জার্রাহ, ইয়াহইয়া ইবনে আদম, ঈসা ইবনে ইউনুস, ইয়াজিদ ইবনে হারুন, আব্দুল্লাহ ইবনে দাউদ, সলম ইবনে সালেম রহঃ।
(ফাযায়েলে আবী হানীফাঃ ১০৬)
🍀 সদরুল আয়িম্মা মক্কী “মানাকিবুল ইমাম আ‘যম” কিতাবে (১/ ২০৩) লিখেছেনঃ—
وذكر الموفق المكي بسنده الى اسماعيل بن بشر قال كنا في مجلس المكى فقال حدثنا ابو حنيفه فصاح رجل غريب حدثنا عن ابن جريج ولا تحدثنا عن ابي حنيفة فقال المكي انا لا نحدث السفهاء حرمت عليك ان تكتب عني قم عن مجلسى فلم يحدث حتى اقيم من مجلسه ثم قال حدثنا ابو حنيفه ومر فيه
وفي رواية ابراهيم ابن ابى بكر المرابطى فغضب غضبا شديدا حتى رؤى ذلك في وجهه فقال الرجل تبت وخطأت فابى ان يحدثهم مناقب الامام الاعظم للموفق ج١ص٢٠٤
ইসমাইল বিন বিশর বর্ণনা করেন যে, একবার আমরা ইমাম মক্কী বিন ইবরাহীম বলখী রহঃ এর দরসের মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। তিনি বর্ণনা শুরু করলেন حدثنا ابوحنيفة উপস্থিতদের মধ্যে এক অপরিচিত ব্যক্তি চিৎকার করে বললো حدثنا عن ابن جريج ولا تحدثنا عن ابى حنيفة (আমাদেরকে ইবনে জুরাইজের হাদীস বর্ণনা করুন। আবু হানীফার হাদীস বর্ণনা করবেন না।) তার উপর ইমাম মক্কী এত রাগান্বিত হলেন যে, চিহারার রঙ পরিবর্তন হয়ে গেল। তিনি বলতে লাগলো
انا لا نحدث السفهاء حرمت عليك ان تكتب عنى قم من مجلسى .
(আমরা বেয়াকুফ ও নির্বোধদের কাছে হাদীস বর্ণনা করি না। আমার কাছ থেকে হাদীস লিখা তোমার জন্য হারাম। তুমি আমার মজলিস থেকে উঠে যাও।)
সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ ব্যক্তিকে দরসের মজলিস থেকে উঠানো না হলো তিনি হাদীস বর্ণনা করলেন না। যখন সে বের হলো তখন আবার সেই থেকে حدثنا ابوحنيفة এর সিলসিলা ও ধারাবাহিকতা শুরু হলো।
একই ঘটনা হযরত ইব্রাহিম ইবনে আবি বকর আল মুরাবিতী এর সূত্রে বর্ণিত যে,
মক্কী ইবনে ইব্রাহিম প্রচন্ড রেগে গেলেন। রাগের চিহ্ন তার চেহারায় ফুটে উঠল। তা দেখে লোকটি বলতে লাগলো আমি তাওবা করলাম, ভুল করে ফেলেছি, তবুও তিনি এতটা রাগান্বিত ছিলেন যে, আর হাদিস বর্ণনা করেন নি।
(ছদরুল আয়িম্মা মক্কী কৃত “মানাকিবুল ইমাম আযম” ১/২০৪)
🍀 ইমাম মিসআর ইবনে কিদাম (১৫৫হি.) বলেনঃ—
أَبُو يَحْيَى بْنُ أَبِي مَيْسَرَةَ، ثَنَا خَلادُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: قَالَ مِسْعَرُ بْنُ كِدَامٍ: «طَلَبْتُ مَعَ أَبِي حَنِيفَةَ الْحَدِيثَ، فَغَلَبَنَا وَأَخَذْنَا فِي الزُّهْدِ، فَبَرَعَ عَلَيْنَا وَطَلَبْنَا مَعَهُ الْفِقْهَ، فَجَاءَ مِنْهُ مَا تَرَوْنَ
আমরা আবু হানীফার সঙ্গে হাদীস অন্বেষণ করেছি তো তিনি আমাদের চেয়ে এগিয়ে গেছেন। আমরা তার সঙ্গে যুহদ অর্জনে নিমগ্ন হয়েছি, তিনি আমাদের চেয়ে অগ্রগামী হয়ে গেছেন। এবং আমরা তার সঙ্গে ফিকহ হাসিল করেছি ৷ তিনি কী (অসাধ্য সাধন) করেছেন তা তো তোমরাই দেখছো।’
[ মানাকিবু আবী হানীফা ওয়া সাহিবায়হি আবী ইউসুফ ওয়া মুহাম্মাদ, ইমাম যাহাবী পৃ. ৪৩]
🍀আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহঃ)বলতেন:
أخبرنَا عبد الله بن مُحَمَّد الْحلْوانِي قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا عَليّ بن صَالح الْبَغَوِيّ عَن الْحسن بن عَرَفَة الْعَبْدي قَالَ قَالَ عبد الله بن الْمُبَارك لَا نكذب الله فِي أَنْفُسنَا إمامنا فِي الْفِقْه أَبُو حنيفَة وَفِي الحَدِيث سُفْيَان فَإِذا اتفقَا لَا أُبَالِي بِمن خالفهما ـ
‘‘আমাদের নিজেদের বিষয়ে আল্লাহকে মিথ্যা বলব না! ফিকহের বিষয়ে আমাদের ইমাম হলেন আবূ হানীফা রহঃ এবং হাদীসের বিষয়ে আমাদের ইমাম সুফইয়ান সাওরী রহঃ । আর যখন দুজন কোনো বিষয়ে একমত হন, তখন আমরা তাঁদের বিপরীতে আর কাউকে পরোয়া করি না।’’
https://al-maktaba.org/book/6651/123
[সাইমারী, আখবারু আবী হানীফা, পৃ. ১৪০; খতীব বাগদাদী, তারীখ বাগদাদ ১৩/৩৩৭; যাহাবী, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ৬/৩৯৮]
🍀অনুরূপ ইয়াহইয়া সাঈদ আল কাত্বান রহঃ বলেন:—
وقال أحمد بن علي بن سعيد القاضي سمعت يحيى بن معين يقول سمعت يحيى بن سعيد القطان يقول لا تكذب الله ما سمعنا أحسن من رأى أبي حنيفة وقد أخذنا بأكثر اقواله
‘‘আমাদের নিজেদের বিষয়ে আল্লাহকে মিথ্যা বলব না! আবু হানিফা রঃ এর মতো উত্তম সিদ্ধান্ত আমি আর কারো কাছে পাইনি
---ইবনে মাঈন রহঃ বর্ণনা করেন ইয়াহ ইয়া ইবনে সাঈদ আল কাত্বান রহঃ ফতওয়া সংক্রান্ত ব্যাখ্যায় কুফাবাসীদের অভিমত কে প্রাধান্য দিতেন।
(তারিখে বাগদাদ ১৩/৩৪৫-৩৪৬ তাহযীবুত তাহযিব, ১০/৪৫০ )
🍀ইমাম বাইহাকী রহঃ ইমাম আবু হানিফা রঃ কে জরাহ-তাদীলের ইমাম বলে স্বীকৃতি দিয়েছেনঃ—
أَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ الْمَالِينِيُّ أَنَا أَبُو أَحْمَدَ بْنُ عَدِيٍّ الْحَافِظُ نَا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْقَطَّانُ نَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحوَارِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا يَحْيَى الْحِمَّانِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا حَنِيفَةَ يَقُولُ: مَا رَأَيْتُ فِيمَنْ رَأَيْتُ أَفْضَلَ مِنْ عَطَاءٍ , وَلَا لَقِيتُ فِيمَنْ لَقِيتُ أَكْذَبَ مِنْ جَابِرٍ الْجُعْفِيِّ مَا أَتَيْتُهُ بِشَيْءٍ قَطُّ مِنْ رَأْيِي إِلَّا جَاءَنِي فِيْهِ بِحَدِيثٍ وَزَعَمَ أَنَّ عِنْدَهُ كَذَا وكَذَا أَلْفَ حَدِيثٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يُظْهِرْهَا
وَأَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ أَنَا أَبُو أَحْمَدَ أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ نَا -[158]- مَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ نَا عَبْدُ الْحَمِيدِ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا سَعْدٍ الصَّاغَانِيُّ يَقُولُ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى أَبِي حَنِيفَةَ فَقَالَ: مَا تَرَى فِي الْأَخْذِ عَنِ الثَّوْرِيِّ؟ فَقَالَ: اكْتُبْ عَنْهُ مَا خَلَا حَدِيثَ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ , وَحَدِيثَ جَابِرٍ الْجُعْفِيِّ
আবূ হানিফা রহঃ বলেছেন,
তোমরা সুফিয়ান থেকে হাদিস লিপিবদ্ধ কর, কিন্তু হাদীসের সুত্রে আলী থেকে আবু ইসহাকের হাদীস এবং জাবের জুফির হাদীস গ্রহণ করবেনা ৷
(বায়হাকী আল কিরাত খলফাল ইমাম, পৃঃ১৫৭ হাঃ ৩৪৫)
🍀ইবনু মুবারাক রহঃ বলেন:—
أخبرنَا عمر قَالَ ثَنَا مكرم قَالَ ثَنَا احْمَد قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن مقَاتل قَالَ سَمِعت ابْن الْمُبَارك يَقُول قدم مُحَمَّد بن وَاسع إِلَى خُرَاسَان فَقَالَ قبيصَة قد قدم عَلَيْكُم صَاحب الدعْوَة قَالَ فَاجْتمع عَلَيْهِ قوم فَسَأَلُوهُ عَن أَشْيَاء من الْفِقْه فَقَالَ إِن الْفِقْه صناعَة لشاب بِالْكُوفَةِ يكنى أَبَا حنيفَة فَقَالُوا لَهُ إِنَّه لَيْسَ يعرف الحَدِيث فَقَالَ ابْن الْمُبَارك كَيفَ تَقولُونَ لَهُ لَا يعرف لقد سُئِلَ عَن الرطب بِالتَّمْرِ قَالَ لَا بَأْس بِهِ فَقَالُوا حَدِيث سعد فَقَالَ ذَاك حَدِيث شَاذ لَا يُؤْخَذ بِرِوَايَة زيد ابي عَيَّاش فَمن تكلم بِهَذَا لم يكن يعرف الحَدِيث
‘‘(ইরাকের প্রসিদ্ধ তাবিয়ী মুহাদ্দিস) মুহাম্মাদ ইবন ওয়াসি (১২৩ হি) খুরাসানে আগমন করেন। তখন কিছু মানুষ তাঁর নিকট সমবেত হয়ে ফিকহের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন: ফিকহের বিষয়ে পারদর্শী কূফার আবূ হানীফা নামক এক যুবক। তারা বলেন: তিনি তো হাদীস জানেন না। তখন ইবনুল মুবারাক বলেন: আপনারা কিভাবে বলছেন তিনি হাদীস জানেন না? খুরমা খেজুরের বিনিময়ে গাছ পাকা খেুজর ক্রয় করার বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন: এতে অসুবিধা নেই। তখন তাঁকে বলা হয়, সা’দ (রা)-এর হাদীসে এর আপত্তি রয়েছে? তিনি বলেন: এ হাদীসটি শায (দুর্বল); যাইদ আবী আইয়াশের বর্ণনা গ্রহণ করা যায় না।’- এ হাদীসের একমাত্র রাবী যাইদ ইবন আইয়াশ, তিনি অজ্ঞাতপরিচয়।- ইবনুল মুবারাক বলেন: যে ব্যক্তি এভাবে সনদ যাচাই করতে পারে তাঁর বিষয়ে কিভাবে বলা যায় যে, তিনি হাদীস জানতেন না?’’
(সাইমারী, আখবারু আবী হানীফাহ, পৃ. ২৬। মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান, মুআত্তা ৩/১৬২)
🍀মুয়াফফাক বিন আহমদ আলমক্কী রাহ. (৫৬৪ হি.) আবু ইসমা সা’দ ইবনে মুয়ায রাহ.-থেকে তিনি আবু সুলায়মান জুযাজানী থেকে, তিনি ইমাম মুহাম্মাদ রাহ. থেকে, আর তিনি ইমাম আবু ইউসুফ রাহ. থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ বলেন-
كنا نكلم أبا حنيفة في باب من أبواب العلم، فإذا قال بقول واتفق عليه أصحابه درت على مشايخ الكوفة هل أجد في تقوية قوله حديثا أو أثرا؟ فربما وجدت الحديثين أو الثلاثة فآتيه بها، فمنها ما يقبله ومنها ما يرده، فيقول : هذا ليس بصحيح أوليس بمعروف، وهو موافق لقوله! فأقول له : وما علمك بذلك؟ فيقول : أنا عالم بعلم الكوفة.
‘আমরা আবু হানীফা রাহ.-এর সাথে একটি অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করতাম। এরপর যখন তিনি সিদ্ধান্ত দিতেন এবং তার সঙ্গীরাও একমত হতেন তখন আমি কুফার শায়েখগণের কাছে যেতাম তার সিদ্ধান্তের সমর্থনে আরো কোনো হাদীস বা আছার পাই কিনা। কখনো দুইটি বা তিনটি হাদীস পেতাম। তাঁর কাছে পেশ করার পর তিনি কোনোটি গ্রহণ করতেন আবার কোনোটি এই বলে বর্জন করতেন যে, এটি সহীহ নয় বা মারুফ নয়। অথচ তা তার সিদ্ধান্তের অনুকূলে। আমি বলতাম, এ সম্পর্কে আপনার ইলম কীরূপ। তিনি বলতেন, আমি কূফা নগরীর ইলমের ধারক।
এই ঘটনা বর্ণনা করার পর আবু ইসমা যা বলেছেন তার সারকথা এই যে, ‘ইমাম রাহ. সত্য বলেছেন। সত্যি তিনি ছিলেন কুফার মনীষীগণের কাছে সংরক্ষিত ইলমের ধারক। শুধু তাই নয় (হাদীস আছার এবং কুরআন-সুন্নাহর) অন্যান্য শহরের অধিকাংশ ইলমেরও তিনি ধারক ছিলেন।
[মুয়াফফাক আলমক্কী রাহ., ‘মানাকিবু আবী হানীফা’’ : ২/১৫১-১৫২)
সুতরাং ইমাম আবূ হানিফার রহঃ উপরে ইমাম বুখারীর রহঃ কোনো অভিযোগ ই সত্য সঠিক নয় ৷৷
এরপরেও যদি কেউ বলতে চান যে, সত্য হোক বা মিথ্যা, আবূ হানিফা রহঃ কে ইমাম বুখারী রহঃ মুরজিয়া বলেছেন, তাই আবূ হানিফার রহঃ হাদীস/ফিকাহ গ্রহন করা যাবে না ৷
তাদের কে বলবো যে, ইমাম বুখারী রহঃ তার সহীহুল বুখারীতে অনেক মুরজিয়া, কাদারিয়া ও খারিজী মুহাদ্দিসগের হাদীস সংকলন করেছেন।
যেমন:-
১। কায়েস ইবনে মুসলিম জাদালী (মৃ. ১২০ হি.)। তাকে ইমাম আবূ দাউদ রহঃ সহ অনেকেই মুরজিয়া বলেছেন ৷ তার হাদীস ইমাম বুখারী তার সহীহুল বুখারী তে সংকলন করেছেন। বুখারী শরীফ: ৪৫, ১৫৫৯, ১৫৬৫, ১৭২৪, ১৭৯৫, ২০০৫ নং হাদীসসহ আরো অনেক হাদীস। সে মুরজিয়া হওয়ার অপরাধে কেউ তাকে পরিত্যক্ত বলেননি। এমনকি ইমাম বুখারীও নয়।
👇
২। আইউব ইবনে আয়েজ হলো মুরজিয়া। স্বয়ং ইমাম বুখারী তাকে মুরজিয়া বলেছেন। (আয-যুয়াফা উস-সাগীর: ১৮পৃ.)
ইমাম বুখারী তাকে মুরজিয়া হওয়ার অপরাধে পরিত্যক্ত বলেননি। বরং তার হাদীস তিনি তার সহীহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন। বুখারী শরীফ: ৪৩৪৬ নং হাদীস।
👇
৩। আতা ইবনে মাইমুনা হলো কাদারিয়া। ইমাম বুখারী বলেন, সে কাদারিয়া। (আয-যুয়াফা উস সাগীর: ৮৯ পৃ.। )
ইমাম বুখারী তাকে কাদারিয়া হওয়ার অপরাধে পরিত্যক্ত বলেননি। রবং তার হাদীস তিনি তার সহীহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন। সহীহ বুখারী: ১৫০, ১৫১, ১৫২, ২১৭, ৫০০, ৬১৯২ নং হাদীস।
👇
৪। ইমরান ইবনে হিত্তানের ন্যায় খারিজী রবং শীর্ষ খারেজী নেতার বর্ণিত হাদীসও ইমাম বুখারী তার সহীহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন।
ইমাম যাহাবী রহঃ বলেন,
ﻣﻦ ﺭﺅﻭﺱ ﺍﻟﺨﻮﺍﺭﺝ
ইমরান শীর্ষ খারেজীদের অন্যতম।
(সিয়ারু আলামিন নুবালা:৫/১২১)
.
ইমাম বুখারী এই খারেজী লিডার ইমরান ইবনে হিত্তান এর দুটি হাদীস সংলকল করেছেন। সহীহ বুখারী: ৫৮৩৫, ৫৯৫২ নং হাদীস।
.
এ ইমরান সেই, যে আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী (রা:) এর ঘাতক/হত্যাকারী খারেজী আব্দুর রহমান ইবনে মুলজিমের ন্যায় বদবখতের শোকগাথা লিখেছেন।
(তারীখুল ইসলাম বাশার: ২/৯৮১)
.
🌻তাছাড়া ইমাম বুখারী তার সহীহ বুখারীতে আরো বহু মুরজিয়ার হাদীস সংকলন করেছেন।
⛳ বসরার তাবিয়ী তালক ইবনে হাবীব আল-আনাযী ৯০ হি.),
⛳ কুফার তাবিয়ী যার্র ইবনে আব্দুল্লাহ মুরহাবী (১০০ হি.),
⛳ বুফার তাবিয়ী আমর ইবনে মুররা জামালী (১২৮ হি.)
⛳ হাররানের তাবিয়ী সালিম ইবনে আজলান আল-আফতাস (১৩৫ হি.)
⛳ ও কুফার তাবিয়ী উমার ইবনে র্যুর ইবনে আব্দুল্লাহ (১৫৩ হি.)।
👇
এমন বহু মুরজিয়া, কাদারিয়া বর্ণনাকারী হাদীস তিনি তার সহীহ বুখারীতে সংকলন করেছেন। এমনকি ইমাম বুখারীর অনেক উস্তাদ মুরজিয়া ছিল।
👇
মুরজিয়া হওয়ার কারণে কোন মুহাদ্দিসকে তিনি পরিত্যক্ত কলেননি। বরং বহু মুরজিয়ার হাদীসও তিনি সংকলন করেছেন। কিন্তু মুরজিয়ার কারণে ইমাম ইমাম আবু হানিফাকে তিনি পরিত্যক্ত সাব্যস্ত করেছেন।
👇
এই ক্ষেত্রে বুখারী আবু হানিফার রহঃ প্রতি ইনসাফ করতে পারেননি। এতে আবু হানিফা রাহ. বিষয়ে বুখারীর রাহ. জারহ অগ্রহনযোগ্য।