ডিজিটাল সালাফীজমের হাকিকতঃ সালাফি নাম দিয়ে পৃথিবীর ৯৯% মুসলমানকে এরা মুসলমানই মনে করেনা!!!

সালাফি নাম দিয়ে পৃথিবীর ৯৯% মুসলমানকে এরা মুসলমানই মনে করেনা।। এরচেয়েও নিকৃষ্টতম খারেজি আকিদা আর কি হতে পারে!! ডিজিটাল সালাফীজমের হাকিকত❗

________________________________________________
অত্যন্ত  দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় যে, আজ মুসলিম উম্মাহ ইতিহাসের ভয়াবহ অধ্যায় অতিক্রম করছে। উম্মাহের ঘাড়ে পশ্চাৎপদতার যে জগদ্বল পাথর জেঁকে বসেছে তার বহুবিধ কারণ রয়েছে। একদিকে অমুসলিমদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ষড়যন্ত্র অন্যদিকে মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কলহ। মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলি আজ সা¤্রাজ্যবাদের নগ্ন থাবায় আক্রান্ত। এমন কোন দিন অতিবাহিত হয় না, যেদিন মুসলিম উম্মাহের রক্ত আল্লাহর জমিন রঞ্জিত হয় না। অমুসলিমদের আক্রমণের স্বীকার মুসলিম উম্মাহের করুণ পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রত্যেক সচেতন ব্যক্তিই অবগত।
দ্বিতীয়তঃ মুসলিম উম্মাহ নিজেই তাঁর পশ্চাৎপদতার জন্য দায়ী। আজ তারা নিজেদের আচার-আচরণ, সামাজিকতা, রাজনীতি ও অর্থনীতি সবকিছুই অমুসলিমদের ছাঁচে ঢেলে সাজিয়েছে। এ সমস্ত ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় ধর্মের চিহ্নটুকুও খুঁজে পাওয়া যায় না। যেসমস্ত মুসলমান সঠিকভাবে ধর্মপালনে আগ্রহী এবং ধর্মের বিধি-বিধানের প্রতি যত্মশীল, তারাও আবার শতধা বিভক্ত। মুসলিম উম্মাহের এই  বিভক্তিতে ঈন্ধন যোগানর জন্য মাথা গজিয়ে উঠছে বিভিন্ন ফেরকা। ফেতনাবাজ শ্রেণী মুসলিম উম্মাহের এই নিদারূণ মুহূর্তেও ফেতনার ঢোল পিটাচ্ছে। উম্মাহের প্রতি করূণার পরিবর্তে মুসলিম উম্মাহকে একে অপরের প্রতি লেলিয়ে দিচ্ছে, ঘৃণার বিষ-বাষ্প তাদের মন ও মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ফলে তারা আপন মুসলিম ভাইকে এতটা ঘৃণা করছে, যতটা না তারা কাফের-মুশরিককে করে। আমরা প্রতিনিয়ত এ বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছি। বিচ্ছিন্নতাবাদ, ফেতনা সৃষ্টির ক্ষেত্রে যে ফেরকাটি বর্তমান সময়ে সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, সেটি হল, সালাফী বা আহলে হাদীস ফেতনা, যা ওহাবী ফেতনা  নামেও পরিচিত। শিয়া, কাদিয়ানী, ভ-পীর, কবরপূজারী এবং নাস্তিক-মুরতাদদের ফেতনায় উম্মাহের দেহে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, নব্য সৃষ্ট ফেতনাটি মুসলিম উম্মাহের সেই ক্ষতে মলম লাগানর পরিবর্তে লবণ লাগানর পথে অগ্রসর।  ফলে সালাফিয়্যাতের নামে বিকৃতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। রাসূল (সঃ) যেই চার মিশন নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন অর্থাৎ দাওয়াত, তা’লীম, তাযকিয়া ও জিহাদ, এর প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে এই ফেতনাবাজ শ্রেণী ফেতনার জন্ম দিয়েছে।
আক্বিদা থেকে শুরু করে ইসলামের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা সংস্কারের নামে নতুন ধ্যান-ধারণা প্রবর্তন করেছে এবং নব্য সৃষ্ট ধ্যান-ধারণা প্রতিষ্ঠার পিছনে তারা তাদের সর্বশক্তি ব্যয় করছে। ফলে ইলমের স্বল্পতার কারণে মুসলিম উম্মাহের একটি শ্রেণী তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। তাদের চিন্তা-চেতনা এবং ধ্যান-ধারনার বিদ্যালয়ে যারা পাঠ নিয়েছে, তারা মুসলিম সমাজে বিচ্ছিন্নতা, ঘৃণা, অপবাদ এবং কাঁদা-ছোঁড়াছুঁড়ির মহড়া দিচ্ছে। তারা নিজেদের জন্য স্বতন্ত্র মসজিদ নির্মাণ করেছে এবং স্বতন্ত্র মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছে। মুসলিম সমাজের একটা অংশকে তাদের অনুগামী বানিয়ে সে অংশকে বৃহত্তর মুসলিম সমাজ থেকে পৃথক করেছে। তারা মুসলমানদের সমাজে বাস করে, অথচ আপন মুসলিম ভাই সম্পর্কে এমন ধারণা ও ঘৃণা পোষণ করে যে, মুসলমানদের শত্রুরাও তা করে না। একই কাতারে নামায আদায় করে, অথচ নিজের পাশের মুসল্লী ভাইকে মুশরিক বলতে দ্বিধা করে না, এমনকি তারা যে ইমামের পিছে নামায আদায় করছে, সেও তাদের আক্রমণ থেকে মুক্তি পায় না । অথচ তারা যে ধ্যাণ-ধারণার উপর ভিত্তি করে এগুলো করছে, তা তাদের হাতেই সৃষ্ট; সালাফে-সালেহীন তাদের এ সমস্ত কর্মকা- থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
রাসূল (সঃ) কর্তৃক আনীত চার মিশনের কোনটিই তাদের আক্রমণ থেকে মুক্তি পায়নি। সর্বক্ষেত্রে সংস্কারের নামে তারা তাদের নিজস্ব ধ্যান-ধারনার অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে। আক্বীদার ক্ষেত্রে তারা এমন কিছু ধ্যাণ-ধারণার জন্ম দিয়েছে, যার সাথে সালাফে-সালেহীনের ন্যুনতম কোন সম্পর্ক নেই, যার অধিকাংশ হিজরী অষ্টম শতাব্দী কিংবা তার পরে অস্তিত্ব লাভ করেছে। 
 যেমন তারা আল্লাহর জন্য দেহ, দিক ও সীমা সাব্যস্ত করেছে। আল্লাহ তায়ালার সাথে নশ্বর বিষয় যুক্ত হওয়ার আক্বিদা তাদের হাতেই সৃষ্ট। এছাড়াও তারা আল্লাহ তায়ালার জন্য বসার আক্বিদা এবং জাহান্নামের আগুন শেষ হওয়া ইত্যাদি আক্বিদা পোষণ করে। আর যারা তাদের সৃষ্ট আক্বিদায় বিশ্বাস স্থাপন করে না, তাদেরকে কাফের, মুশরিক, জাহমিয়া, মুয়াত্তিলা, পথভ্রষ্ট.. ইত্যাদি বিশেষণে বিশেষিত করে।নাউযুবিল্লাহ,, 
ইলমে ফিকহের ক্ষেত্রে তারা সংস্কারের নামে তাকলীদকে হারাম করেছে এবং মাযহাবের অনুসারীদেরকে কাফের, মুশরিক, পথভ্রষ্ট ইত্যাদি বলতে দ্বিধা করেনি। যেহেতু ইসলামের দীর্ঘ ইতিহাসে হিজরী তৃতীয় শতকের পর থেকে অধিকাংশ মুহাদ্দিস, ফকীহ, মুফাসসির, ঐতিহাসিক এবং সাহিত্যিক কোন না কোন মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, এজন্য পূর্বের কেউ তাদের আক্রমণ থেকে মুক্তি পায়নি। 
نعم هكذا يضللون و يكفرون و يبدعون أئمة السلفية و سادتهم و باسم السلفية-فيا سبحان الله- و كما يقال: الجنون فنون . و نسأل الله العافية
“আর এভাবেই তারা সালাফে-সালেহীন ও পূর্ববর্তী ইমামদের পথভ্রষ্ট, কাফের, বিদআতী ইত্যাদি বলে থাকে। আর এ সব কিছু তারা সালাফিয়্যাতের নামে করে থাকে। সুবহানাল্লাহ! তাদের অবস্থা তো এমন যে, বলা হয়ে থাকে, “আল-জুনুনু ফুনুন” (পাগলামির বিভিন্ন আর্ট বা শিল্প রয়েছে)। আমরা আল্লাহর নিকট এর থেকে পরিত্রাণ কামনা করি।
 [মাওকিফু আইম্মাতিল হারাকাতিস সালাফিয়্যা ফিত তাছাউফি ওয়াছ ছুফিয়্যা’ এর ভূমিকা, আব্দুল হাফিয বিন মালিক আব্দুল হক মক্কী, পৃষ্ঠা-৮]
ইলমে হাদীস বিশেষ করে ইলমুল জারাহ ওয়াত তা’দীলের ক্ষেত্রে তারা তাদের নিজস্ব মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে পরস্পর সংঘর্ষপূর্ণ মতামত দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে উসূলে হাদীসের নিয়ম ভঙ্গ করে খিয়ানতের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। তাদের কেউ কেউ হাদীসের কিতাব সমূহকে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ‘সহীহ’ ও ‘যয়ীফ’ এ দু’ভাগে ভাগ করে কিতাব রচনা করেছে। এক্ষেত্রে মারাত্মক যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তা হল, উম্মতের অনেকে তাঁদের সংঘর্ষপূর্ণ মতামতের ব্যাপারে অবগত না হয়ে তাদের অন্ধ অনুকরণ করছে। দেখা গেছে, একই হাদীসকে ভিন্ন ভিন্ন কিতাবে সহীহ ও যয়ীফ বলেছেন। সম্প্রতি ১৪২৪ হিঃ সনে জর্দানের দারুন নাফাইস থেকে প্রকাশিত আওদা বিন হাসান আওদা এর একটি সংকলন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তিনি এমন পাঁচশত হাদীস উল্লেখ করেছেন, যে সমস্ত হাদীসকে শায়খ নাসীরুদ্দিন আলবানী (রহঃ) তাঁর বিভিন্ন কিতাবে কখনও যয়ীফ আবার কখনও সহীহ বলেছেন।
 বর্তমানে সালাফীদের কারণে ইলমে হাদীস যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, তার আলোচনা করেছেন শায়েখ মামদুহ তাঁর “আল-ইত্তিজাহাতুল হাদিসিয়্যা” নামক বিখ্যাত গ্রন্থে। আগ্রহী পাঠকগণ কিতাবটি অধ্যয়ন করতে পারেন।
রাসূল (সঃ) এর জীবনের অন্যতম একটি মিশন ছিল, জিহাদ তথা কিতাল ফি সাবিলিল্লাহ (আল্লাহর পথে সশস্ত্র যুদ্ধ)। ইহুদী-খ্রিষ্টানদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে এক্ষেত্রেও সালাফীরা তাদের নিজস্ব চিন্তা-চেতনার অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে এবং এমন কিছু মূলনীতি তৈরি করেছে যার মাধ্যমে তারা উম্মতকে এই ফরয আমল থেকে বিরত রাখতে পারে। তাদের এসমস্ত ভ্রান্ত নীতিগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন শায়েখ ড.আব্দুর রাজ্জাক বিন খলিফা শায়যী তাঁর الخطوط العريضة لأدعياء السلفية (আল-খুতুতুল আরিযা লি-আদইয়াইস সালাফিয়্যা) নামক গ্রন্থে। 
এছাড়াও শায়েখ আব্দুল আযিয বিন মানসুর তাঁর الرد علي أدعياء السلفيىة (আর-রদ্দু আলা আদইয়াইস সালাফিয়্যা) নামক কিতাবে জিহাদ সম্পর্কে সালাফীদের ভ্রান্তি আলোচনা করেছেন। 
 ড. শায়যী তাঁর কিতাবে সালাফীদের যে সমস্ত মূলনীতি উল্লেখ করেছেন, তন্মধ্যে ১৯ নং মূলনীতি হল,  الجهاد تكليف ما لا يطاق في هذا الزمان ولا إثم في تركه (এই যামানায় জিহাদ হল এমন বিধান, যা পালন করা সম্ভব নয়, সুতরাং তা ছেড়ে দিলে কোন গোনাহ হবে না)
সালাফীদের ২০ নং মূলনীতি হল, أفضل الجهاد اليوم ترك الجهاد ، وأفضل الإعداد ترك الإعداد (বর্তমানে উত্তম জিহাদ হল, জিহাদ ছেড়ে দেয়া এবং উত্তম প্রস্তুতি হল, কোন প্রস্তুতি গ্রহণ না করা)
সালাফীদের অন্ধ অনুকরণ প্রসঙ্গে শায়েখ আইমান আল-জওয়াহেরী বলেন-
وكان هؤلاء المتبعون - رغم ما يتشدقون به من تحررهم من التقليد المذهبي - أشد الناس تقليداً بتلك الطائفة، وامتدت هذه الدعوى وسرت في أوساط الآلاف من الشباب المسلم، حتى اصبحت أمرا مسلماً
“এ সমস্ত অনুসারীরা মাযহাবের অনুসরণের ব্যাপারে চরম কঠোরতা আরোপ করলেও তাদের সমগোত্রীয় আলেমদের তাকলীদের (অনুসরণ) ব্যাপারে অন্ধ। তাদের এ ধ্যান-ধারণা অসংখ্য মুসলিম যুবকের মাঝে জেঁকে বসেছে, এমনকি বিষয়টি তাদের নিকট গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে
” [ইবনে বায বাইনাল হাকিকতি ওয়াল ওহাম, শায়েখ ড. আইমান আল-জওয়াহেরী, মাজাল্লাতুল মুজাহিদিনি, সংখ্যাঃ একাদশ। প্রথম বর্ষ। ৩ রা শা’বান, ১৪১৫ হিঃ] 
শায়েখ জওয়াহেরী বলেন-
لقد عاش الآف الشباب اسرى لهذه الاسماء الرنانة - ابن باز، العثيمين وأبي بكر الجزائري - يتبعونهم... أو على الأقل لا يجرؤون على مخالفتهم حتى وإن عظم خطأهم وفحش انحرافهم
“অনেক যুবক নিম্নোক্ত নামের অন্ধভক্তে পরিণত হয়েছে-ইবনে বায, ইবনে উসাইমিন, আবু বকর জাযায়েরী এবং তাদের অনুসরণ করে থাকে। অথবা অন্তঃত পক্ষে তাদের বিরোধীতার সাহস দেখায় না, যদিও তারা সুস্পষ্ট ও বড় বড় মারাত্মক ভুল করে।
[ইবনে বায বাইনাল হাকিকতি ওয়াল ওহাম, আইমানআল-জওয়াহেরী]
শায়েখ ইবনে বায (রহঃ) ইসরাইলের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য বৈধ এ মর্মে ফতোয়া প্রদান করলে তাঁর সম্পর্কে শায়েখ জওয়াহেরী (হাফিঃ) বলেন-
إن ابن باز وطائفته؛ هم علماء السلطان، الذين يبيعوننا لأعدائنا في مقابل راتب أو منصب، وإن غضب من غضب، ورضي من رضي 
“নিশ্চয় ইবনে বায ও তাঁর সমগোত্রীয়রা সরকারী আলেম, যারা পদ অথবা টাকার বিনিময়ে আমাদেরকে বিক্রি করে দিতে চায়; আমার এ কথায় কেউ রাগান্বিত হলে হোক! কেউ সন্তুষ্ট হলে হোক!”
রাসূল (সঃ) এর অন্যান্য আমল যেমন, দাওয়াত ও তাবলীগ এবং ইসলামি সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে সমস্ত দল কাজ করে যাচ্ছে, সালাফীরা তাদের গোমরা, পথভ্রষ্ট ইত্যাদি আখ্যায়িত করেছে। অনেকে তাদেরকে কাফির মুশরিক বলতে দ্বিধা করে না।
শায়েখ ইউসুফ বিন সায়্যেদ হাশেম রিফায়ী তাঁর পুস্তিকা نصيحة لإخواننا علماء نجد (নজদের আলেমদের প্রতি নসিহত)  নজদের উলামায়ে কেরামকে উদ্দেশ্য করে  লিখেছেন-
إذا اختلف معكم أحد في موضوع أو أمر فقهيٍّ أو عقديٍّ أصدرتم كتبًا في ذمه وتبديعه أو تشريكه
ফিকহ, আক্বিদা অথবা অন্য কোন বিষয়ে তোমাদের সাথে কেউ যখন মতানৈক্য করে, তখন তোমরা তাকে নিন্দা করে, বিদআতী ও মুশরীক আখ্যায়িত করে কিতাব প্রকাশ করে থাকো।
لقد كفَّرتم الصوفية، ثم الأشاعرة، وأنكرتم واستنكرتم تقليد واتباع المذاهب الأربعة : أبي حنيفة ومالك والشافعي وأحمد بن حنبل
“তোমরা সর্বপ্রথম সূফীদেরকে কাফের বলেছো, অতঃপর আশআরীদেরকে। তোমরা চার মাযহাবের তাকলীদ ও অনুসরণকে অস্বীকার করেছ কিংবা অপছন্দ করেছ অর্থাৎ আবু হানিফা, মালেক, শাফেয়ী ও আহমাদ ইবনে হাম্বল”
[নসিহাতুন লি-ইখওয়ানিনা উলামায়ে নজদ, পৃষ্ঠা-২৮-২৯]
كفرتم الصوفية ثم الأشاعرة والماتردية و هم سواد المسلمين، ثم التفتم إلي الإخوان، ثم التبليغيين ثم بقية الدعاة و المكفرين....فماذا أبقيتم غيركم من المسلمين؟
“তোমরা সূফীদেরকে কাফের বলেছ। অতঃপর আশআরী ও মাতুরীদেরকে কাফের বলেছ; অথচ এরা হল, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম। অতঃপর তোমরা ইখওয়ানুল মুসলিমীন, তাবলীগ এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দায়ী ও ইসলামী চিন্তাবিদদের কাফের সাব্যস্ত করেছ। তোমরা নিজেদেরকে ব্যতীত আর কাদেরকে মুসলমান হিসেবে বাকী রেখেছ?”
[নসিহাতুন লি-ইখওয়ানিনা উলামায়ে নজদ, ইউসুফ বিন সাইয়্যেদ হাশেম রিফাঈ, পৃষ্ঠা-৭১]
سلطتم من المرتزقة الذين تحتضنونهم من رمى بالضلالة والغواية الجماعات والهيئات الإسلامية العاملة في حقل الدعوة، والناشطة لإعلاء كلمة الله تعالى، والآمرة بالمعروف والناهية عن المنكر، كـ " التبليغ " و " الإخوان المسلمين " ، والجماعة " الديوبندية " التي تمثل علماء الهند وباكستان وبنغلاديش،
“তোমাদের খাদ্যে পালিত এবং তোমাদের কোলে আশ্রিতরা দাওয়াতের ময়দানে কর্মরত বিভিন্ন জামাত ও সংগঠন যারা আল্লাহর কালিমা সমুন্নত করার উদ্দেশ্যে এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের মত আমল আঞ্জাম দিচ্ছে, তাদেরকে ভ্রষ্ট ও ভ্রান্ত হওয়ার ফতোয়া দান করে। যেমন- তাবলীগ, ইখওয়ানুল মুসলিমীন, দেওবন্দী জামাত যার অধিকাংশ হল, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের উলামায়ে কেরাম”
[নসিহাতুন লি-ইখওয়ানিনা উলামায়ে নজদ, ইউসুফ বিন সাইয়্যেদ হাশেম রিফাঈ, পৃষ্ঠা-৩০]
শায়েখ ড.আব্দুর রাজ্জাক বিন খলিফা শায়যী তাঁর الخطوط العريضة لأدعياء السلفية (আল-খুতুতুল আরিযা লি-আদইয়াইস সালাফিয়্যা) নামক কিতাবে জামায়াতে ইসলাম সম্পর্কে সালাফীদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে লিখেছেন-
الأصل الثالث عشر لأصول أتباع السلفية الجديدة هو قولهم أن الجماعات الإسلامية ماهي إلا امتداد للفرق الضالة من معتزلة وأشاعرة وخوارج وقدرية وجهمية ، تنتهج منهج الخلف في العقيدة ، فأصبح بدل أن يقال هؤلاء أشاعرة وهؤلاء معتزلة صار يقال هؤلاء أخوان ، وهؤلاء تبليغ ..
“নব্য সালাফিয়্যাতের দাবীদারদের ১৩ নং মূলনীতি হল, জামাত ইসলাম মূলতঃ ভ্রান্ত দল। এটি মু’তাযেলা, আশআরী, খারেযী, ক্বাদেরীয়া, জাহমিয়াদের সহযোগী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এরা পরবর্তীদের আক্বিদায় বিশ্বাসী। ‘এরা হল আশআরী, এরা হল, মু’তাযেলী’ এ কথার পরিবর্তে এখন তারা বলে, ‘এরা হল, ইখওয়ান, এরা হল তাবলীগ...”
[আল-জামে ফির রদ্দি আলাল জামিয়া, খ--১, পৃষ্ঠা-১১৭]
সালাফীরা আশআরী আক্বিদায় বিশ্বাসীদেরকে কাফের বলে থাকে এবং হাফেয ইবনে হাজার আলকালানী (রহঃ), ইমাম নববী (রহঃ) আশআরী আক্বিদায় বিশ্বাসী হওয়ায় তাদের বিখ্যাত কিতাব, ফাতহুল বারী ও রিয়াযুস সালিহীন পুড়িয়ে ফেলার মত প্রকাশ করে। তাদের আক্বিদার বিরোধী হওয়ার কারণে তারা ফাতহুল বারির উপর, আক্বিদাতুত ত্বাহাবী উপর টিকা সংযোজন করেছে এবং এ কিতাবগুলির মাঝে তাদের নিজস্ব আক্বিদাগুলোর অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে। 
  শায়েখ আব্দুল্লাহ বিন বায (রহঃ) “আক্বিদাতুত ত্বাহাবী” এর টিকা সংযোজন করেছেন। শায়েখ বিন বাযের কিতাবের নাম হল, “তা’লিকাতু বিন বায আলা আক্বিদাতিত ত্বহাবী”। 
এছাড়াও সালাফী আলেমদের সম্মিলিতভাবে লিখিত কিতাব, التعليقات الأثرية على العقيدة الطحاوية لأئمة الدعوة السلفية (আত-তা’লিকাতুত আছারিয়া আলা আক্বিদাতিত ত্বাহাবীয়া লি-আইম্মাতিদ দাওয়াতিস সালাফিয়্যা)। 
আক্বিদাতুত ত্বহাবীর উপর সংযোজিত টীকা লেখায় যারা অংশগ্রহণ করেছেন, তারা হলেন, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আযিয বিন মানে (রহঃ), শায়েখ আব্দুল্লাহ বিন বায (রহঃ) এবং শায়েখ নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহঃ)। আক্বিদাতুত ত্বাহাবীর উপর সংযোজিত শায়েখ বিন বাযের একটি টীকা উদ্ধৃতি হিসেবে এখানে উল্লেখ করছি। এতে পাঠকবৃন্দের নিকট সুস্পষ্ট হবে যে, তারা কিভাবে তাদের নিজস্ব ধ্যান-ধারণা ইসলামী আক্বিদায় অনুপ্রবেশ করিয়েছে। 
আল্লাহ তায়ালার দিক সম্পর্কে ইমাম ত্বহাবী (রহঃ) আক্বিদাতুত ত্বহাবীয়াতে লিখেছেন-
وتَعالَى عَنِ الحدُودِ والغَاياتِ
“আল্লাহ তায়ালা সব ধরণের হদ, সীমা ও পরিমাপ থেকে পবিত্র”
শায়েখ বিন বায (রহঃ) আল্লাহ তায়ালার জন্য হদ বা সীমা সাব্যস্ত করতে গিয়ে ইমাম ত্বহাবীর উক্ত বক্তব্যের ব্যাখ্যা করেছেন-
فمراده بالحدود يعني التي يعلمها البشرৃ فإثبات الحد في الاستواء أو غيره فمراده حد يعلمه الله سبحانه ولا يعلمه العباد
“অর্থাৎ এখানে হদ বা সীমা দ্বারা উদ্দেশ্য হল, যে সীমা সম্পর্কে মানুষ অবগত। ইসতিওয়া বা এজাতীয় শব্দ দ্বারা যে হদ বা সীমা নির্ধারিত হয় তার দ্বারা এমন সীমা উদ্দেশ্য যা আল্লাহ তায়ালা জানেন, বান্দা জানে না।”
অথচ আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত “আল্লাহ তায়ালা যে সব ধরণের হদ বা সীমা থেকে পবিত্র, এ আক্বিদায় বিশ্বাসী, যা সুস্পষ্টভাষায় ইমাম ত্বাহাবী (রহঃ) উল্লেখ করেছেন। 
সালাফীরা দিক সম্পর্কে তাদের নিজস্ব আক্বিদা কিভাবে সংযোজন করেছে পাঠকবৃন্দ লক্ষ্য করুন!
 ইমাম ত্বাহাবী (রহঃ) লিখেছেন-
لا تَحويهِ الجِهَاتُ السِّتُّ كسَائِرِ المُبْتَدَعَاتِ
“আল্লাহ তায়ালাকে ছয় দিকের কোন দিক পরিবেষ্টন করে না যেমন সৃষ্ট অন্য কোন বস্তু তাকে পরিবেষ্টন করে না।”
শায়েখ বিন বায  (রহঃ) লিখেছেন-
مراده:الجهات الست المخلوقة، وليس مراده نفي علو الله واستوائه على عرشه؛ لأن ذلك ليس داخلا في الجهات الست، بل هو فوق العالم ومحيط به
“ছয় দিক দ্বারা উদ্দেশ্য হল, মাখলুক বা সৃষ্ট ছয় দিক। এর দ্বারা আল্লাহর জন্য ‘জিহাতে উলু’ ও ইসতেওয়া আলাল আরশকে অস্বীকার করা উদ্দেশ্য নয়। কেননা “জিহাতে উলু” তথা উপরের দিক ছয় দিকের অন্তর্ভূক্ত নয়, বরং এটি মহাবিশ্বের উপরে এবং মহাবিশ্বকে বেষ্টন করে আছে”
[“তা’লিকাতু বিন বায আলা আক্বিদাতিত ত্বহাবী” পৃষ্ঠা-৫, মাজমুঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, খ--২, পৃষ্ঠা-৭৮ (শামেলা)]
ইবনে বায (রহঃ) কিভাবে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আক্বিদাকে তাদের আক্বিদার সাথে মিশ্রিত করেছেন, তা স্পষ্ট। এখানে তিনি সংঘর্ষপূর্ণ অনেক গুলো কথা একত্র করেছেন, যা আলোচনা করার জায়গা এটি নয়। আমাদের উদ্দেশ্য হল, সালাফীরা কিভাবে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আক্বিদাকে নিজেদের ছাঁচে ঢেলে সাজিয়েছেন এবং একে ইসলামের আক্বিদা বলে প্রচার করছেন সেটা উল্লেখ করা”
রাসূল (সঃ) এর চার আমলের অন্যতম আমল হল, তাযকিয়াতুন নফস তথা আত্মশুদ্ধি অর্জন। যাকে পরিভাষায়, তাছাউফ, সুফিয়্যা, ইত্যাদি বলা হয়। ইসলামের অন্যান্য আমলের মত তাছাউফও সালাফীদের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। বরং অন্যান্য আমলের প্রতি তাদের আক্রমণের তুলনায় তারা তাছাউফের বুকে যে খঞ্জর বসিয়েছে তা আরও বেশি মারাত্মক ও বিষাক্ত। 
এটাও তারা সালাফিয়্যাত তথা সালাফে-সালেহীনের অনুসণের নামে করেছে। তাছাউফের প্রতি তাদের কতটা আক্রোশ ও বিদ্বেষ তা তাদের কথা থেকেই লক্ষ্য করুণ!
হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজালী (রহঃ) এর বিখ্যাত কিতাব “ইহইয়াউ উলুমুদ দ্বীন”-এ উল্লেখিত হাদীসগুলোর উৎস উল্লেক করে এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন আল্লামা হাফেয যাবিদি (রহঃ)। সম্প্রতি “ইহইয়াউ উলুমুদ দ্বীন” এর হাদীসগুলোর উৎস সম্পর্কে যারা কিতাব লিখেছেন যেমন-আল্লামা ইরাকী (রহঃ), আল্লামা সুবকী (রহঃ) এবং আল্লামা যাবিদি  (রহঃ), তাদের লিখিত কিতাবগুলি থেকে চয়ন করে আবু আব্দুল্লাহ মাহমুদ বিন মুহাম্মাদ আল-হাদ্দাদ একটি কিতাব লিখেছেন। এ কিতাবের ভূমিকায় আল্লামা মোর্তজা যাবিদি (রহঃ) সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে আবু আব্দুল্লাহ মাহমুদ বিন মুহাম্মাদ আল-হাদ্দাদ লিখেছেন-
(حنفي المذهب أشعري العقيدة قادري الإرادة نقشبندي السلوك) والقادرية والنقشبندية من طرق الصوفية، وهي كلها سبل الشياطين
“আল্লামা যাবিদি (রহঃ) ছিলেন, হানাফী মাযহাবের অনুসারী, আক্বিদার ক্ষেত্রে আশআরী, তাছাউফের ক্ষেত্রে ক্বাদেরী ও নকশবন্দী। ক্বাদেরিয়া ও নকশ বন্দিয়া হল সুফীদের তরীকা, আর এ সব তরীকা হল শয়তানের তরীকা ""নাউযুবিল্লাহ, 
আমরা আল্লাহর কাছে এ ধরণের উক্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
 হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ قَالَ مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ
“যে আমার ওলীদের সাথে শত্রুতা পোষণ করল, আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম।”[বুখারী শরীফ, হাদীস নং ৬৫০২]
তাছাউফ সম্পর্কে সালাফীদের নগ্ন মিথ্যাচার দেখলে একজন মুসলমানের লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে যাবে। একি কোন মুসলমানের ভাষা! সুবহানাল্লাহ!
 পূর্ববর্তীদের অনুসরণের মুখোশে সেই পূর্ববর্তীদের প্রতি এতটা মিথ্যাচার! এতটা ঘৃণা! এতটা বিদ্বেষ! তারা কিভাবে সালাফী হওয়ার দাবী করে!?
প্রিয় পাঠক! সালাফে-সালেহীনের অনুসরণের মুখোশে তাদের প্রতি মিথ্যাচার লক্ষ্য করুন! 
শায়েখ আব্দুর রহমান ওকীল তাঁর مصرع التصوف নামক কিতাবের ভূমিকায় লিখেছেন-
إن التصوف.. ابتدعه الشيطان ليسخر معه عباد الله في حربه لله ولرسله ، إنه قناع المجوس يتراءى بأنه لرباني ، بل قناع كل عدو صوفي للدين الحق فتش فيه تجد برهمية وبوذية وزرادشتية ومانوية وديصانية ، تجد أفلاطونية وغنوصية ، تجد فيه يهودية ونصرانية و وثنية جاهلية
“নিশ্চয় শয়তান তাছাউফ আবিষ্কার করেছে যেন এর মাধ্যমে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল (সঃ) এর সাথে যুদ্ধের ক্ষেত্রে আল্লাহর বান্দাদেরকে তার অনুগামী বানাতে পারে। এটি অগ্নিপূজকদের আখড়া যেখানে সে নিজেকে মনে যে, সে আল্লাহর ওলী। বরং এটি আল্লাহর দ্বীনের শত্রু সূফিদের আখড়া। তুমি তাতে খুজে দেখ! তাতে ব্রাহ্মণবাদ, বৌদ্ধ ধর্ম, যারাদুশতী, মনাতত্ত্ব, দিসানী দেখতে পাবে। দেখবে প্লেটোর মতবাদ ও গনুসী মতবাদ। তাতে পাবে ইহুদী ধর্ম, খ্রিষ্ট ধর্ম, হিন্দু ধর্ম ও জাহিলিয়্যাত।”[মাসরাউত তাছাউফ, পৃষ্ঠা-১৯]
উপরোক্ত সালাফীর উক্তি থেকে সালাফীদের আসল চেহারা উপলব্ধি করতে কারও কষ্ট হবে না। আল্লাহ আমাদেরকে এধরণের সালাফিয়্যাত থেকে মুক্তি দান করুন।আমিন,
و الله يشهد أن السلفية لا علاقة لها البتة بكل ذلك، و لا يقول بشيء من ذلك أي من السلف الصالح رضي الله عنهم، إلا إن أرادوا بالسلف: سلفهم من الخوارج و المفسدين و نحوهم. فنعم- و أما سلف المسلمين- السلف الصالح فإنهم بريئون و رب الكعبة من هذه الضلالات. 
“আল্লাহ তায়ালা সাক্ষী রয়েছেন যে, এধরণের কর্মকা-ের সাথে সালাফে-সালেহীনের কোন সম্পর্ক নেই। সালাফে-সালেহীনের কেউ এধরণের কথা বলেননি। হ্যাঁ, তারা যদি সালাফ বা পূর্ববর্তী লোক বলতে তাদের পূর্ববর্তী খারেজী ও এজাতীয় ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশ্য নেয়, তাহলে তা ঠিক। কা’বার রবের শপথ! মুসলমানদের পূর্ববর্তী বুযুর্গগণ (সালাফে-সালেহীন) এধরণের ভ্রান্তি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত”
[মাওকিফু আইম্মাতিল হারাকাতিস সালাফিয়্যা ফিত তাছাউফি ওয়াছ ছুফিয়্যা’ এর ভূমিকা, আব্দুল হাফিয বিন মালিক আব্দুল হক মক্কী, পৃষ্ঠা-৭]
বিজ্ঞ পাঠক! সালাফীদের তাছাউফ বিদ্বেষ ও ইলমি খিয়ানতের চিত্র দেখুন! সালাফীদের ইমামতুল্য আলেম শায়েখ আবু বকর জাবের আল-জাযাইরি “ইলাত তাছাউফ ইয়া ইবাদাল্লা” নামক কিতাবে লিখেছেন-
و التعريف الصحيح للتصوف هو: أنه بدعة (ضلالة) من شر البدع، و أكثرها اضلالا، و أكبرها ضلالة
“তাছাউফের সঠিক সংজ্ঞা হল, এটি বিদআত (১), যালালাত বা ভ্রষ্টতা (২), সর্বনিকৃষ্ট বিদআত (৩) তার চেয়েও ভযঙ্কর ভ্রষ্টতা (৪) ও বড় বিভ্রান্তি (৫)”
[ইলাত-তাছাউফ ইয়া ইবাদাল্লাহ, পৃষ্ঠা-১৪]
বিজ্ঞ পাঠক! লক্ষ্য করুণ! মাত্র তিন লাইনে পাঁচটি নিন্দনীয় শব্দ ব্যবহার করেছেন। আল্লাহু আকবার! এটাই কি তাদের সালাফিয়্যাতের আদর্শ! এর প্রতিই কি তারা বিশ্ববাসীকে ফ্রি বই বিতরণ করে দাওয়াত দিয়ে থাকে!?
তাদের সম্পর্কে শায়েখ ড.আব্দুর রাজ্জাক বিন খলিফা শায়যী তাঁর الخطوط العريضة لأدعياء السلفية (আল-খুতুতুল আরিযা লি-আদইয়াইস সালাফিয়্যা) নামক কিতাবের দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকায় লিখেছেন-
فهذه هي الطبعة الثانية من الخطوط العريضة لاصول أدعياء السلفية ، جمعنا فيها مجموعة أخرى من أصول هذه المجموعة التي ظهرت على المسلمين بالتبديع والتفسيق والتجريم ، والتكفير ، واستعملت كل ألفاظ التنفير والتحقير مع دعاة الإسلام خاصة ، كوصفهم بالزندقة،والإلحاد،والخروج...الخ
“এটি খুতুতুল আরিযা নামক কিতাবের দ্বিতীয় সংস্করণ। এতে আমি সেই দলের মূলনীতিগুলো উল্লেখ করেছি যারা মুসলিম উম্মাহের মাঝে আত্মপ্রকাশ করেছে মুসলমানদেরকে বিদআতী, ফাসেক, পাপী, কাফের ইদ্যাদি সাব্যস্ত করার জন্য। এক্ষেত্রে উম্মাহের দায়ীদের ব্যাপারে  তারা সবধরণের নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্য শব্দ ব্যবহার করেছে যেমন-তাদেরকে যিন্দিক, মুরতাদ, খারেজী...ইত্যাদি বলেছে।”
[আল-জামে ফির রদ্দি আলাল জামিয়া, খ--১, পৃষ্ঠা-১০৫]
সালাফিয়্যাতের দাবীদার আবু বকর জাযায়েরীর উক্ত সংজ্ঞার সাথে সালাফীদের ইমামদের ইমাম শায়েখ ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর ছাত্র আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) তাছাউফ সম্পর্কে কী বলেছেন একটু লক্ষ্য করুণ!
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) তাঁর طريق الهجرتين (ত্বরিকুল হিযরাতাইন) নামক কিতাবে লিখেছেন-
"ومنها أن هذا العلم "التصوف" هو من أشرف علوم العباد وليس بعد علم التوحيد أشرف منه وهو لا يناسب إلا النفوس الشريفة ولا يناسب النفوس الدنيئة المهينة
“এই ইলম তথা তাছাউফের ইলম বান্দার সমস্ত ইলমের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত ইলম। ইলমুত তাওহীদ তথা তাওহীদের ইলমের পরে এর চেয়ে উত্তম ইলম আর নেই। এই ইলমের জন্য শুধু উত্তম ও সম্মানিত হৃদয় উপযুক্ত, কোন নিকৃষ্ট, নীচ হৃদয় এর উপযুক্ত নয়”
[ত্বরিকুল হিযরাতাইন, আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ),
পৃষ্ঠা-২৬০-২৬১]

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.