🌻🌻🌻মাযহাব কেন মানি। ধারাবাহিক আলোচনা পর্ব-৫🌼🌼🌼🌼
🌺🌷💟🌼যুগশ্রেষ্ঠ মুফাসসিরীনে কেরাম মাযহাবপন্থী🌾🌾🍀🌻
যুগশ্রেষ্ঠ মুফাসসিরীনে কেরাম সকলেই মাযহাবপন্থী ছিলেনঃ
পূর্বোক্ত আলোচনা ও গায়রে মুকাল্লিদ বন্ধুদের ইমাম নওয়াব সিদ্দিক হাসান সাহেবের স্বীকারোক্তির পর একথা অস্পষ্ট থাকার কথা নয় যে, ইসলামে শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সর্বযুগেই উম্মতে মুসলিমা কোন না কোন মুজতাহিদ ও স্বীকৃত মাযহাব অনুসরণ করে দ্বীন ধর্ম পালণ করে আসছে। তথাপি আত্মপ্রশান্তির জন্য পাঠকের খিদমতে কুরআনের ধারক-বাহক মুফাসসিরীনে কেরামের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা পেশ করা হল। যারা স্ব-স্ব যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মুফাসসির ও কুরআন বিশেষজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও মাযহাব চতুষ্টয়ের কোন না কোন একটির মুকাল্লিদ ছিলেন।
হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মুফাস্সিরগণ এবং তাদের লিখিত কিতাবসমূহ
১. আবূ বকর আহমদ বিন আলী আল জাস্সাস রহ. মৃত্যু ৩৭০ হি. কিতাবের নাম আহকামুল কুরআন।
২. নসর ইবনে মুহাম্মাদ রহ. মৃত্যু ৩৭৩ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে সমরকন্দী।
৩. আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ রহ. মৃত্যু ৭০১ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে নাসাফী।
৪. মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুস্তফা রহ. মৃত্যু ৯৫২ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে আবিস সাঊদ।
৫. কাজী সানাউল্লাহ পানিপথী রহ. মৃত্যু ১২২৫ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে মাযহারী।
৬. ইসমাঈল হক্কী রহ. মৃত্যু ১১২৭ হি. কিতাবের নাম রুহুল বয়ান।
৭. শিহাবুদ্দীন মাহমূদ আলূসী রহ. মৃত্যু ১২০৭ হি. কিতাবের নাম রুহুল মাআনী।
৮. আশরাফ আলী থানবী রহ. মৃত্যু ১৩৬২ হি. কিতাবের নাম বয়ানুল কুরআন।
৯. মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ. মৃত্যু ১৩৯৬ হি. কিতাবের নাম মাআরিফুল কুরআন।
১০. মাওলানা ইদরীস কান্ধলভী রহ. মৃত্যু ১৩৯৪ হি. কিতাবের নাম মাআরিফুল কুরআন।
মালেকী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মুফাস্সিরগণ এবং তাদের লিখিত কিতাবসমূহ
১. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আন্দালূসী রহ. মৃত্যু ৫৪৩ হি. কিতাবের নাম আহকামুল কুরআন।
২. আব্দুল হক ইবনে গালেব রহ. মৃত্যু ৫৪৬ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে ইবনে আতিয়্যাহ।
৩. আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ আস সাআলাবী রহ. মৃত্যু ৮৭৬ হি. কিতাবের নাম আল জাওয়াহিরুল হিসান।
৪. মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আল কুরতুবী রহ. মৃত্যু ৬৭১ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে কুরতুবী।
৫. মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আন্দালূসী রহ. মৃত্যু ৭৪৫ হি. কিতাবের নাম আল বাহরুল মুহীত্ব।
৬. আবুল আব্বাস শিহাবুদ্দীন রহ. মৃত্যু ৭৫৪ হি. কিতাবের নাম আদ দুররুল মাসনুন।
৭. ইবনু উরফাহ রহ. মৃত্যু ৮০৩ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে ইবনে উরফাহ।
শাফেয়ী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মুফাস্সিরগণ এবং তাদের লিখিত কিতাবসমূহ
১. আলী ইবনে মুহাম্মাদ আত-ত্ববারী রহ. মৃত্যু ৩১০ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে ত্ববারী।
২. হুসাইন ইবনে মাসঊদ আল বাগাবী রহ. মৃত্যু ৫১৬ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে বাগাবী।
৩. মুহাম্মাদ ইবনে উমর আর রাযী রহ. মৃত্যু ৬০৬ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে কাবীর।
৪. আব্দুল্লাহ ইবনে বাইযাবী রহ. মৃত্যু ৬৮৫ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে বাইযাবী।
৫. আব্দুল্লাহ ইবনে খাযেন রহ. মৃত্যু ৭৪১ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে খাযেন।
৬. ইসমাঈল ইবনে আমর দিমাশকী রহ. মৃত্যু ৭৭৪ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে ইবনে কাসীর।
৭. জালালুদ্দীন মুহাল্লী রহ. মৃত্যু ৮৬৪ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে জালালাইন।
৮. জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহ. মৃত্যু ৯১১ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে জালালাইন।
৯. মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ শিরবীনী রহ. মৃত্যু ৯৭৭ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে খতীব।
হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মুফাস্সিরগণ এবং তাদের লিখিত কিতাবসমূহ
১. ইবনে আদেল আবী হাফস রহ. মৃত্যু ৮৮০ হি. কিতাবের নাম তাফসীরে লুবাব।
২. ইবনে রজব রহ. মৃত্যু ৭৯৫ হি. কিতাবের নাম তাহকীকু তাফসীরিল ফাতেহা।
৩. ইবনুল কায়্যিম আল জাওযিয়া রহ. মৃত্যু ৭৫১ হি. কিতাবের নাম আত তাফসীরুল কায়্যিম।
হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসগণ এবং তাদের লিখিত কিতাবসমূহ
১. ইমাম আবূ ইউসুফ রহ. মৃত্যু ১৮২ হি. কিতাবের নাম কিতাবুল আসার।
২. ইমাম মুহাম্মাদ রহ. মৃত্যু ১৮৯ হি. কিতাবের নাম মুয়াত্তা।
৩. ইমাম ত্বহাবী রহ. মৃত্যু ৩১১ হি. কিতাবের নাম ত্বহাবী শরীফ।
৪. আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. মৃত্যু ১৮১ হি. কিতাবের নাম কিতাবুল জিহাদ।
৫. আবূ ইয়া’লা আল মূসিলী রহ. মৃত্যু ৩০৭ হি. কিতাবের নাম মুসনাদে আবূ ইয়া’লা।
৬. আলাউদ্দীন মুগলতায়ী রহ. মৃত্যু ৭৬২ হি. কিতাবের নাম ইকমালু তাহযীবিল কামাল।
৭. আলাউদ্দীন ইবনুত তুরকুমানী রহ. মৃত্যু ৭৪৫ হি. কিতাবের নাম আল জাওহারুননাকী।
৮. বদরুদ্দীন আল আইনী রহ. মৃত্যু ৮৫৫ হি. কিতাবের নাম উমদাতুল ক্বারী।
৯. মুল্লা আলী কারী রহ. মৃত্যু ১০১৪ হি. কিতাবের নাম মিরক্বাত।
১০. ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন রহ. মৃত্যু ২৩৩ হি. কিতাবের নাম তারীখে ইবনে মাঈন।
১১. ইউসুফ যাইলাঈ রহ. মৃত্যু ৭৬২ হি. কিতাবের নাম নাসবুর রায়া।
মালেকী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসগণ এবং তাদের লিখিত কিতাবসমূহ
১. ইবনে আব্দিল বার মালেকী রহ. মৃত্যু ৪৬৩ হি. কিতাবের নাম আত তামহীদ।
২. আবূ বকর ইবনুল আরাবী রহ. মৃত্যু ৫৪৩ হি. কিতাবের নাম আরিযাতুল আহওয়াযি।
৩. আবূ আব্দিল্লাহ আয যুরকানী রহ. মৃত্যু ১১২২ হি. কিতাবের নাম শরহুয যুরকানী।
শাফেয়ী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসগণ এবং তাদের লিখিত কিতাবসমূহ
১. ইবনে হিব্বান রহ. মৃত্যু ৩৫৪ হি. কিতাবের নাম সহীহ ইবনে হিব্বান।
২. ইবনে খুযাইমা রহ. মৃত্যু ৩১১ হি. কিতাবের নাম সহীহ ইবনে খুযাইমা।
৩. আবূ দাউদ আত ত্বয়ালিসী রহ. মৃত্যু ২০৪ হি. কিতাবের নাম মুসনাদে ত্বয়ালিসী।
৪. আলী ইবনে উমর আদ দারাকুতনী রহ. মৃত্যু ৩৮৫ হি. কিতাবের নাম সুনানে দারাকুতনী।
৫. আবূ বকর আল বাএটাকী রহ. মৃত্যু ৪৫৮ হি. কিতাবের নাম সুনানে বাএটাকী।
৬. হাকেম আবূ আব্দিল্লাহ রহ. মৃত্যু ৪০৫ হি. কিতাবের নাম মুসতাদরাকে হাকেম।
৭. ইবনুল আসীর রহ. মৃত্যু ৬০৬ হি. কিতাবের নাম আল কামেল ফিত তারীখ।
৮. মুহিউদ্দীন আন নববী রহ. মৃত্যু ৬৭৬ হি. কিতাবের নাম রিয়াযুস সালিহীন।
১০. আবুল হাজ্জাজ আল মিযযী রহ. মৃত্যু ৭৪২ হি. কিতাবের নাম তাহযীবুল কামাল।
১০. শামসুদ্দীন আয যাহাবী রহ. মৃত্যু ৭৪৮ হি. কিতাবের নাম তাযকিরাতুল হুফফায।
১১. হাফেয ইবনে হাজার রহ. মৃত্যু ৮৫২ হি. কিতাবের নাম ফাতহুল বারী।
১২. হাফেয শাসুদ্দীন আস সাখাবী রহ. মৃত্যু ৯০২ হি. কিতাবের নাম ফাতহুল মুগীছ।
১৩. ইবনে আসাকির রহ. মৃত্যু ৫৭১ হি. কিতাবের নাম তারীখে দিমাশক।
১৪. আবূ বকর আল বাগদাদী (খতীব) রহ. মৃত্যু ৪৬৩ হি. কিতাবের নাম তারীখে বাগদাদ।
💟💟💟বড় বড় মুহাদ্দিসগণ মাযহাবপন্থী💝💝💝💝💝💝💝
বড় বড় হাদীস বিশারদগণ নির্দিষ্ট ইমামের অনুসরণ করতেনঃ
শুধু মুফাসসিরীনে কেরামই নন বরং মুহাদ্দিসীনে কেরাম যাঁদের ত্যাগ-তিতিক্ষা ও কুরবানী, মুজাহাদার বদৌলতে হাদীসে নববীর সুবিশাল ভাণ্ডার আজও পর্যন্ত অবিকলভাবে বিদ্যমান তাঁরাও কোন না কোন মাযহাবের অনুসরণ করে চলতেন। তাঁরা কেউ নিজের লেখা হাদীসের কিতাব অনুযায়ী চলেননি বা কাউকে মাযহাব বাদ দিয়ে তাঁদের কিতাব অনুযায়ী চলতে বলেননি।
উদাহরণতঃ ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম তিরমিযী ও ইমাম ইবনে মাজাহ রহ. শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন।(আত তাবাকাতুশ শাফেইয়্যাহ ১/৪২৫-৪২৬)
তাহাবী শরীফ প্রণেতা ইমাম তাহাবী রহ. হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। ইমাম আবূ দাউদ ও ইমাম নাসায়ী রহ. হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। (মাআরেফুস সুনান ১/৮২-৮৩)
কী আশ্চর্য! এত বড় বড় হাদীস বিশারদগণও নিজ নিজ কিতাবের উপর আমল না করে চার মাযহাবের কোন এক মাযহাব অনুসরণ করেছেন। এমন কি উপর্যুক্ত কোন একজন মুহাদ্দিসও নিজ নিজ কিতাবের ভূমিকায় একথা বলেননি যে, তোমরা আমার এই কিতাব পড়ে পড়ে দ্বীন পালন করবে। বরং তাঁরা দ্বীন পালনের উদ্দেশ্যে মাসআলা মাসাইল ও ফাতাওয়া জানার জন্য লোকদেরকে মাযহাবের ইমামদের শরণাপন্ন হতে বলতেন।
উদাহরণতঃ বিশিষ্ট মুহাদ্দিস হযরত ইয়াযীদ ইবনে হারুন রহ. তাঁর বিশিষ্ট শাগরেদ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আলী ইবনুল মাদীনী, যুহাইর ইবনে হারব ও অন্যান্য বিশিষ্ট মুহাদ্দিসীনদের নিয়ে এক মজলিসে বসে ছিলেন। ইতোমধ্যে এক ব্যক্তি এসে কোন ব্যাপারে তাকে ফাতাওয়া জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, আমাদের নিকট কেন এসেছো, কোন ইলমওয়ালার নিকট যাও। উপস্থিত শাগরেদদের মধ্যে আলী ইবনুল মাদীনী প্রশ্ন করলেন, জনাব! আপনার নিকট উপস্থিত এই বিশাল ব্যক্তিত্বের অধিকারীগণ কি আহলে ইলম নন? তিনি উত্তর দিলেন, না, আহলে ইলম তো ইমাম আবূ হানীফা রহ. ও তার শাগরেদগণ। (ইরশাদুল ক্বারী ৩২) অর্থাৎ ফিকাহবিদগণ প্রকৃত আহলে ইলম। এ কথাটি ইমাম তিরমিযী রহ.ও তার জামে তিরমিযী হাদীস নং ৯৯০ এর শেষে উল্লেখ করেছেন। নিজেদের জ্ঞান ও বুদ্ধি বিবেচনার প্রতি আস্থাশীল বন্ধুগণ এ ঘটনা নিজেদের থেকে কর্মকাণ্ড ও পদক্ষেপ সম্পর্কে পুনর্বিবেচনা করে দেখতে পারেন।
যা হোক, বলা হচ্ছিল, মুহাদ্দিসীনে কেরামও কোন না কোন মাযহাব অনুসরণ করে চলতেন। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, কেন? কেন তারা নিজেরা মুজতাহিদ পর্যায়ের ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও নিজ নিজ হাদীসের কিতাবের উপর আমল না করে মাযহাবের অনুসরণ করতেন?
এর উত্তর ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম কুতুবে সিত্তাহর দরস প্রচলনকারী হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ. এর বক্তব্য থেকে কিছুটা অনুমান করা যায়। ফুয়ুযুল হারামাইন গ্রন্থে তিনি লিখেছেন, আমার খেয়াল ছিল, আল্লাহ তা‘আলা আমাকে কুরআন হাদীসের যে ইলম দান করেছেন তার আলোকে (কোনো মাযহাবের তাকলীদ না করে) নিজে নিজেই মাসআলা বের করে চলতে থাকি। কিংবা আমি যাঁদের নিকট হাদীসের কিতাব পড়ে এসেছি যাঁরা শাফেয়ী অথবা মালেকী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, তাঁদের মাযহাব অনুসরণ করি। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে ইলহামের মাধ্যমে আমাকে হানাফী মাযহাব মানতে বাধ্য করা হয়েছে যে, হে শাহ ওয়ালীউল্লাহ! ভারতবর্ষের সাধারণ মুসলমানগণ সকলেই হানাফী, কাজেই এখানে তোমাকে হানাফী মাযহাব অনুসরণ করতে হবে। দেখুন, এত অগাধ ইলম ও পাণ্ডিত্যের অধিকারী ব্যক্তিকে পর্যন্ত নিজ ইলম অনুযায়ী চলার অনুমতি দেয়া হয়নি। এমনকি শাফেয়ী ও মালেকী মাযহাব মানারও এজাযত দেয়া হয়নি। কারণ এ অঞ্চলের মুসলমানগণ হানাফী হওয়ায় তিনি যদি অন্য মাযহাব গ্রহণ করতেন তাহলে তার ইলম দ্বারা ভারতবর্ষের মুসলমানদের কোনো উপকার হতো না।
মুহাদ্দিসীনে কেরামের মাযহাব অনুসরণের আরেকটি কারণ এ-ও যে, যুগ ও সময়ের বিবেচনায় তাঁরা ছিলেন মাযহাবের ইমামগণ বিশেষত: ইমাম আবূ হানীফা রহ. এর শিষ্য কিংবা শিষ্যের শিষ্য পর্যায়ের। ফলে একদিকে ইমামুল মাযহাবগণের জ্ঞান-পাণ্ডিত্য ও দ্বীনি খেদমত সম্পর্কে তাঁরা ছিলেন সম্যক অবগত, অপরদিকে তাঁরা ইলম অর্জন করে হাদীসের কিতাবসমূহ সংকলন করার বহু আগেই মুজতাহিদ ইমামগণ নিজেদের স্মৃতিপটে সংরক্ষিত হাদীস ভাণ্ডার থেকে সারনির্যাস বের করে ফিকহ সংকলন করে রেখে গিয়েছিলেন। কাজেই একজন মুহাদ্দিসকে প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়ার পর সর্বপ্রথম মাযহাবের ইমাম সংকলিত ফিকহের আলোকে দ্বীনের অনুসরণ করে তারপর মুহাদ্দিস হতে হয়েছে। কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন ইমাম বুখারী রহ. সংকলিত সহীহ বুখারীর কোনো কোন বাব ও শিরোনাম যা ফিকহুল বুখারী হিসেবে প্রসিদ্ধ ইমাম শাফেয়ীর মাযহাবের বিপরীত লক্ষ্য করা যায়। তাহলে কিভাবে তাকে শাফেয়ী বা মাযহাবপন্থী বলা যায়? এর জবাব হল, মাযহাবপন্থী হওয়ার পাশাপাশি তিনি নিজেও মুজতাহিদে মুতলাক পর্যায়ের ব্যক্তিত্ব ছিলেন। কাজেই ক্ষেত্র বিশেষে দলীলের ভিত্তিতে ইমামুল মাযহাবের বিপরীত মত পোষণ করায় তাকে লা মাযহাবী বলে প্রচার করার সুযোগ নেই। যেমন ইমাম আবূ হানীফা রহ. এর সুযোগ্য শাগরিদ ইমাম আবূ ইউসুফ রহ. ইমাম মুহাম্মাদ রহ. কোন কোন মাসআলায় ইমাম আবূ হানীফা রহ. এর সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। এ জন্য তাঁরা কি ইমাম আবূ হানীফার অনুসারী ছিলেন না? তবে এ কাজটি একমাত্র মুজতাহিদ পর্যায়ের লোকের জন্যই বৈধ, যে কোন আলেম এমনটি করতে পারবে না। করলে সে গোমরাহ সাব্যস্ত হবে। বলছিলাম, মুহাদ্দিসীনে কেরাম ছিলেন ইমাম আবূ হানীফা রহ. এর শিষ্য কিংবা শিষ্যের শিষ্য। এটা কোনো মৌখিক কাব্য নয়। নিচের চিত্রটি লক্ষ্য করুনঃ
ধারাবাহিক আলোচনা চলবে ইনশাআল্লাহ 💝
writer: Mawlana Mujahidul Islam