ইস্তিহাযা সংক্রান্ত নারীদের প্রয়োজনীয় ফাতাওয়া-মাসায়েল

 

ইস্তিহাযা সংক্রান্ত নারীদের প্রয়োজনীয় ফাতাওয়া-মাসায়েল

বালেগ হওয়ার পর থেকে একজন মহিলার জরায়ু হতে সাধারণত যে রক্ত নির্গত হয় তা তিন প্রকার: যথা- হায়েয, নিফাস ও ইস্তেহাযা। আজকে আমরা সর্বশেষ পর্ব ইস্তিহাযা নিয়ে আলোচনা করবো।

ইস্তেহাযার পরিচয়: হায়েয ও নিফাসের নির্দিষ্ট সময় ছাড়া অন্য সময়ে যে রক্ত দেখা দেয় সেটাকে "ইস্তেহাযা" বলে। ওই অবস্থার হুকুম হলো পবিত্র থাকার হুকুমের মতো। [আল বাহরুর রায়েক ১/২০০]

ইস্তিহাযার  রক্ত ​​মূলত অসুস্থতার রক্ত এবং দিনগুলিতে অনিয়ম মহিলাদের একটি সাধারণ অবস্থা, এর জন্য কোন বিশেষ দুআ-অজিফা নেই, এটি একজন ভালো ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা করা যেতে পারে।

মাসআলা-দুই হায়েযের মাঝে পবিত্রতার থাকার সর্বনিম্ন সময় সীমা হলো ১৫ দিন। পবিত্রতার ১৫ দিন পূর্ণ হওয়ার পূর্বে যে রক্ত শুরু হয় তা ইস্তেহাযা। যে মহিলার ধারাবাহিক ইস্তেহাযার রক্ত আসে,হায়েযের অভ্যাসের দিনগুলোতে তা হায়েযের রক্ত বলে বিবেচিত হবে।

البحرالرائق :(200/1):

"قال الأزهري: الاستحاضة سيلان الدم في غير أوقاته المعتادة". 

وفیہ ایضا:(223/1):

"(ولو زاد الدم على أكثر الحيض والنفاس فما زاد على عادتها استحاضة)؛ لأن ما رأته في أيامها حيض بيقين وما زاد على العشرة استحاضة بيقين وما بين ذلك متردد بين أن يلحق بما قبله فيكون حيضًا فلاتصلي وبين أن يلحق بما بعده فيكون استحاضةً فتصلي فلاتترك الصلاة بالشك فيلزمها قضاء ما تركت من الصلاة".

মাসআলা- এটা জেনে রাখা উচিত যে মাসিকের সর্বোচ্চ সময়কাল দশ দিন এবং নিফাসের সর্বোচ্চ সময়কাল চল্লিশ দিন। উল্লেখিত মেয়াদের পরেও যদি কোনো মহিলার রক্ত আসে তাহলে লক্ষ করা হবে যে,যদি তার পূর্ব থেকে কোনো অভ্যাস নির্ধারিত থাকে তাহলে সে অভ্যাসের পর আগত রক্ত সম্পূর্ণ টা ইস্তেহাযা বলে গণ্য হবে। আর যদি পূর্ব থেকে কোনো অভ্যাস নির্ধারিত না থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে হায়েযের দশদিন এবং নেফাসের চল্লিশ দিন গণনা করা হবে এবং বাকী দিনগুলো ইস্তেহাযা গণ্য করা হবে।

আর ইস্তেহাযা  বিধান হলো,যে ইস্তেহাযার দিনগুলোতে নামায,রোজা,কুরআন তেলাওয়াত এবং অন্যান্য ইবাদত সমূহ পালন করতে হবে।

আর ইস্তেহাযাগ্রস্থ নারী প্রত্যেক নামাযের ওয়াক্তের জন্য উযু করবে এবং ওয়াক্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত সে উযু দ্বারা নামায,কুরআন তেলাওয়াত,তাওয়াফ ইত্যাদি আদায় করবে। তবে শর্ত হলো উযু ভঙ্গকারী অন্য কোনো কারণ পেশ হতে পারবে না।

আর নামাযের ওয়াক্ত শেষ হতেই তার উযুও শেষ হয়ে যাবে। এবং পরবর্তী নামাযের জন্য পুনরাই উযু করা জরুরি।

تنویر الابصار مع الدر المختار 

’’(وَدَمُ اسْتِحَاضَةٍ) حُكْمُهُ (كَرُعَافٍ دَائِمٍ) وَقْتًا كَامِلًا (لَا يَمْنَعُ صَوْمًا وَصَلَاةً) وَلَوْ نَفْلًا (وَجِمَاعًا)؛ لِحَدِيثِ: «تَوَضَّئِي وَصَلِّي وَإِنْ قَطَرَ الدَّمُ عَلَى الْحَصِيرِ»‘‘.

و في الشامية: ’’(قَوْلُهُ: لَا يَمْنَعُ صَوْمًا إلَخْ) أَيْ وَلَا قِرَاءَةً وَمَسَّ مُصْحَفٍ وَدُخُولَ مَسْجِدٍ، وَكَذَا لَا تُمْنَعُ عَنْ الطَّوَافِ إذَا أَمِنَتْ مِنْ اللَّوْثِ، قُهُسْتَانِيٌّ عَنْ الْخِزَانَةِ ط‘‘. (١/ ٢٩٨)

وفیه أیضاً: ’’وَكَطَهَارَةِ الْمُسْتَحَاضَةِ وَالْمُتَيَمِّمِ تُنْتَقَضُ عِنْدَ خُرُوجِ الْوَقْتِ‘‘. (٢/ ٣٦٩)

আর যদি উল্লেখিত নারীর ইস্তেহাযার রক্ত ধারাবাহিক ভাবে আসতে থাকে এবং এতটুকু সময়ের জন্যও বন্ধ না হয় যাতে পবিত্র-পরিচ্ছন্ন হয়ে ফরজ নামায আদায় করতে পারে তাহলে সে মহিলা মাজুর [তথা অপারগ]

এর হুকুমে গণ্য হবে। 

আর মাজুরের হুকুম হলো যে,মাজুর ব্যক্তি প্রত্যেক নামাযের ওয়াক্ত আসার সাথে সাথেই নতুন উযু করবে এবং এ উযু দ্বারা পরবর্তী ওয়াক্ত পর্যন্ত ফরজ,নফল নামায যে পরিমাণ ইচ্ছা আদায় করতে পারবে এবং রোজা রাখা সহ কোরআনে কারীমও তেলাওয়াত করতে পারবে।

আর যদি এ পরিমাণ সময় রক্ত বন্ধ থাকে যাতে পবিত্র- পরিচ্ছন্ন হয়ে ওয়াক্তি ফরজ নামায আদায় করতে পারে,তাহলে এই অবস্থায় পরিপূর্ণ পবিত্র-পরিচ্ছন্ন হয়ে নামায আদায় করতে হবে।

আর ইস্তেহাযাগ্রস্থ নারীর সাথে সহবাস করাও বৈধ।

"ودم الإستحاضة حکمه کرعاف دائم وقتًا کاملاً لایمنع صومًا وصلاةً ولو نفلاً وجماعَا؛ لحدیث: توضئي وصلي وإن قطر الدم علی الحصیر". [الدرالمختار مع ردالمحتار:باب الحیض، (۱: ۲۹۸) ط: سعید ]

نیز  فتاوی شامی  

"( وصاحب عذر من به سلس ) بول لايمكنه إمساكه ( أو استطلاق بطن أو انفلات ريح أو استحاضة ) أو بعينه رمد أو عمش أو غرب، وكذا كل ما يخرج بوجع و لو من أذن وثدي وسرة (إن استوعب عذره تمام وقت صلاة مفروضة) بأن لا يجد في جميع وقتها زمناً يتوضأ ويصلي فيه خالياً عن الحدث (ولو حكماً)؛ لأن الإنقطاع اليسير ملحق بالعدم (وهذا شرط) العذر (في حق الإبتداء، وفي) حق (البقاء كفى وجوده في جزء من الوقت) ولو مرةً (وفي) حق الزوال يشترط (استيعاب الإنقطاع) تمام الوقت (حقيقةً)؛ لأنه الإنقطاع الكامل. (وحكمه: الوضوء) لا غسل ثوبه ونحوه (لكل فرض) اللام للوقت كما في - ﴿ لِدُلُوْكِ الشَّمْسِ ﴾ [الإسراء: 78] - (ثم يصلي) به (فيه فرضاً ونفلاً)، فدخل الواجب بالأولى (فإذا خرج الوقت بطل)". [1/ 305،  کتاب الطهارة، مطلب في أحکام المعذور، ط: سعید]

Khairul Islam 7/8/2021

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.