মাযহাব কেন মানি, 🌿🌿🌼🌻🌻
ধারাবাহিক আলোচনা পর্ব-১১🌴🍀
🌹🌷সকল হাদীসের উপর আমল🌷🌷
হাদীসের কিতাবে সকল হাদীসের উপর আমল করতে বলা হয়নিঃ
সংকলকের নিজস্ব রুচি ও শর্ত অনুযায়ী হাদীসের কিতাবসমূহে নবুওয়াতের তেইশ বছরের বিভিন্ন ঘটনাবলী বর্ণিত হয়েছে। আর ইসলাম একদিনেই পূর্ণাঙ্গতা লাভ করেনি, ধাপে ধাপে বহু বছরে তা পূর্ণতা পেয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে প্রথম দিকের বহু বিধান পরবর্তীতে রহিত হয়ে গেছে। দ্বীনের সকল বিষয় সংরক্ষণের স্বার্থে সনদ সহীহ হওয়ার ভিত্তিতে মুহাদ্দিসীনে কেরাম এসব রহিত বিধানের বর্ণনা সম্বলিত হাদীসগুলোও তাদের কিতাবে সংকলন করেছেন। কিন্তু এগুলোর উপর আমল করা জায়েয নেই। বরং যে হাদীসের বিধান নবীজীর মৃত্যু পর্যন্ত বহাল ছিল কেবল তার উপরই আমল করতে হবে এবং সেটাকেই সুন্নাহ বলা হবে। এর বিপরীতে যে হাদীসের মধ্যে সুন্নাহ হওয়ার শর্ত পাওয়া যাবে না, হাদীস হিসেবে তাকে মাথার উপরে রাখতে হবে বটে কিন্তু তার উপর আমল করা যাবে না। এ-ই কারণ যে, হক্বপন্থীগণ নিজেদেরকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তারা নিজেদেরকে আহলুল হাদীস বলেন না। বরং এটা একটা গলত ফেরকার নাম, যারা না বুঝে বা কোন প্রলোভনে পড়ে এ নাম গ্রহণ করেছেন। উল্লেখ্য, কোন্ হাদীসের মধ্যে শর্ত দুটি পাওয়া যাওয়ায় তা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে আর কোন্ হাদীস উক্ত শর্তদ্বয় থেকে মুক্ত হওয়ার কারণে সুন্নাহ হয়নি বরং তা শুধু হাদীসই রয়ে গেছে তা সাধারণ মানুষ বুঝতে সক্ষম নয়। এর জন্য বিজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হওয়া সকল মুসলমানের জন্য নেহায়েত জরুরি। তাই সাধারণ লোকদের জন্য বিজ্ঞ আলেমের সাহচর্য ছাড়া হাদীস গবেষণা করা মারাত্মক গোমরাহীর কারণ।
সারকথা হলো, প্রতিটি সুন্নাহই হাদীস কিন্তু সকল হাদীস সুন্নাহ নয়। হ্যাঁ, অনেক হাদীসই শর্তসাপেক্ষে সুন্নাহর শামিল। বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী ইত্যাদি কিতাবসমূহের মধ্যে হাদীস ও সুন্নাহ মিশ্রভাবে সংকলিত হয়েছে। নবুওয়াতের ২৩ বছরে যা কিছু ঘটেছে বর্ণনাসূত্র সহীহ হলেই মুহাদ্দিসীনে কেরাম তা কিতাবে স্থান দিয়েছেন। তারা হাদীস ও সুন্নাহকে পৃথকভাবে লিখে যাননি। অর্থাৎ বুখারী শরীফে, মুসলিম শরীফে হাদীসও আছে সুন্নাহও আছে। অন্যদিকে এমন কিছু হাদীসের কিতাবও সংকলন করা হয়েছে যেগুলোতে শুধুমাত্র সুন্নাহ অর্ন্তভুক্ত হয়েছে। আমাদের ইমাম আবূ হানীফা রহ. সংকলিত কিতাবুল আসার, ইমাম মালেক রহ. সংকলিত মুআত্তা, ইমাম শাফেয়ী রহ. এর কিতাবুল উম্ম এ ক্ষেত্রে অন্যতম। আমাদের নিকট অতীতের আকাবিরদের মধ্যে হযরত থানবী রহ. এর তত্ত্বাবধানে যফর আহমদ উসমানী রহ. এর লেখা ইলাউসসুনান, আল্লামা নিমাবী রহ. এর লিখিত আসারুসসুনান ইত্যাদি কিতাব শুধুমাত্র সুন্নাহ এর সংকলন।
যাহোক সুন্নাহ ও হাদীসের আলোচ্য পার্থক্য না বোঝার কারণে, হাদীস মানার দাবীদারগণ নিজেরা ধোঁকায় পড়েছেন এবং অন্যদেরকেও বিভ্রান্ত করছেন। কাজেই সর্বসাধারণের জন্য বুখারী মুসলিম ইত্যাদি কিতাব বা কিতাবের বাংলা অনুবাদ দেখে আমল করা উচিত নয়। কেননা কোন্ হাদীস রহিত হয়ে গেছে আর কোনটা বহাল আছে বা কোনটা শুধু হাদীস আর কোনটা হাদীস হওয়ার সাথে সাথে সুন্নাহ এ পার্থক্য জানা না থাকার কারণে তার গোমরাহ হয়ে যাওয়ার সমূহ আশংকা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিখ্যাত তাবেঈ হযরত সুফিয়ান সাওরী রহ. এর উক্তিটি প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন,‘সরাসরি হাদীস সাধারণের জন্য গোমরাহকারী, তবে বিজ্ঞ আলেমের জন্য অসুবিধা নেই।’ এ জন্য জনসাধারণের কর্তব্য হলো, শরী‘আতের যে কোনো হুকুম-আহকামের ক্ষেত্রে হক্কানী আলেম-উলামার শরণাপন্ন হওয়া। এবং নিজের রিসার্চ ও গবেষণার উপর আমল না করে তাদের ফায়সালা অনুযায়ী আমল করা। এটা নিরাপদ রাস্তা ও নির্ভেজাল শরী‘আত।
ধারাবাহিক আলোচনা চলবে ইনশাআল্লাহ
writer: Mawlana Mujahidul Islam
