ইমাম আবু হানিফা রহঃ এর উপর জরাহ এবং আমাদের জবাব পর্ব- ০৩
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ইমাম আবু দাউদ রহ: এর মতে কী আবূ হানিফা রহঃ খারেজী এবং মুরজিয়া ছিলেন??
ইমাম আবূ দাউদ রহঃ কে প্রশ্ন করা হয়,
٢٦٤- قلتُ لأَبي داود: كان أَبو حنيفة يرى السيف؟ قال: نعم .وقال: قُبر أَبو حنيفة ببغداد بمقبرة الخيزران.
আবূ হানিফা রহঃ কী তরবারি দেখেছিলেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ ৷ এবং আরও বললেন ইমাম আবূ হানিফা রহঃ কে বাগদাদের খিজরান নামক স্থানে কবর দেওয়া হয়েছে ৷
(সুয়ালাতে আবূ দাউদ,পৃঃ৬৬, বর্ননা নং ২৬৪)
এটাকেই আহাফিরা প্রচার করছে যে, আবূ হানিফা রহঃ খারেজী ছিলেন (নাউযুবিল্লাহ) ৷
↓
অন্যত্র আবূ দাউদ রহঃ বলেছেনঃ—
١٧٨١- قال أَبو داود: كتب إِلي رجُل أنه سمع أبا ثور قال سمعت أبي قال: رأيت سالمًا الأفطس حين ضُربت عنقه بحران.سمعتُ أَبا داود يقول: سالم الأفطس كان يصحب أبا حنيفة على الإِرجاء
كان يوسُف بن عُمر أمر أن يضرب أَبو حنيفة كل يوم عشرة أسواط فكلم فيه سالم الأفطس فخلي عنه، وكان مولى لبني أُمية.
قال أَبو داود: كان إِبراهيم الذي يُقال له الإِمام محبوسًا عند سالم الأفطس فلما قدم عبد الله بن علي حران، دعا به فضرب عنقه.سمعتُ أَبا داود يقول: هو سالم بن عجلان.
ইয়াজিদের বংশধর বাদশাহ ইউসুফ বিন উমর ইমাম আবূ হানিফা রহঃ কে দশদিন যাবৎ বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দিয়েছিলো ৷ সালেম আল আফতাস এ সম্পর্কে বলেন যে, অতঃপর আবূ হানিফা রহঃ কে বেত্রাঘাত থেকে রেহাই দেওয়া হয় ৷ আর তিনি ছিলেন বনু উমাইয়্যার মাওলা (বন্ধু/গুরু/অভিভাবক) ৷
আবূ দাউদ রহঃ বলেন, ইব্রাহিম নামের লোকটি সালেম আল আফতাসের নিকটে ইমাম আবূ হানিফাকে রহঃ বন্দি রেখেছিলেন ৷ অতপর যখন আব্দুল্লাহ বিন আলী হারান এসেছিলো, সে ইমাম আবূ হানিফার রহঃ জন্য দুআ করলো এবং তার ঘাড়ে প্রহার করতে থাকলো ৷ আবূ দাউদ রহঃ বলেন, আমি শুনেছি, লোকটি ছিলো সালেম বিন আজলান ৷
(সুয়ালাতে আবূ দাউদ,পৃঃ ২৬৬, বর্ননা নং ১৭৮১ )
উল্লেখ্য, আবূ হানিফা রহঃ কে প্রহার করা হয়েছিলো, কারণ তিনি খলিফার পক্ষ থেকে বিচারপতির পদ নিতে অস্বীকার করেছিলেন ৷
এটাকেই আহাফিরা বানিয়েছে যে, আবূ দাউদ রহঃ বলেছেন, আবূ হানিফা রহঃ কে এক ব্যাক্তি ইরজার ব্যাপারে সঙ্গ দিতো ৷৷৷ (নাউযুবিল্লাহ)
↓
🌴🍂🌴আসলে, আহাফিদের উক্ত মিথ্যাচারগুলোর বিষয়ে আহলে হাদীস ফেরকার উৎস বা ভিত্তি কী??
উৎস হলো, একটা বানোয়াট বর্ননাঃ—
82- وسمعت ابي يقول سالت ابا نعيم يا ابا نعيم من هؤلاء الذين تركتهم من اهل الكوفة كانو يرون السيف والخروج على السلطان فقال على رأسهم ابو حنيفة وكان مرجئا يرى السيف
আবূ জাফর মুহাম্মাদ ইবন উসমান ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবী শাইবা কূফী (২৯৭ হি)। তিনি লিখেছেন:
‘‘আমি আমার পিতা (উসমান ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবী শাইবা ১৫৬-২৩৯ হি)-কে বলতে শুনেছি, আমি আবূ নুআইম (ফাদল ইবন দুকাইন: ১৩০-২১৮ হি)-কে প্রশ্ন করলাম, হে আবূ নুআইম! তরবারীতে বিশ্বাস করে ও (ফাসিক সরকারের বিরুদ্ধে) রাষ্ট্রদ্রোহিতা সমর্থন করে কুফায় এরূপ কাদেরকে রেখে এসেছেন? তিনি বলেন: এদের প্রধান হলেন আবূ হানীফা। তিনি মুরজিয়া ছিলেন এবং তরবারীতে সমর্থন করতেন।’’
[মুহাম্মাদ ইবন উসমান ইবন আবী শাইবা, মাসাইল, পৃ. ১২৮-১২৯]
অর্থাৎ ফাসিক সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বা অস্ত্রধারণ যেহেতু খারেজীর কাজ, তাই আবূ হানিফা রহঃ খারেজী😊😊😊 ৷৷
🍂তাহক্বীক্বঃ এই বর্ননার মূল রাবী (مُحَمد بْن عثمان بْن أَبِي شيبة) মুহাম্মাদ ইবন উসমান ইবন আবী শাইবা (রাহ) কূফার প্রসিদ্ধ আলিম ছিলেন। তবে তার সততা প্রশ্নবিদ্ধ ছিলো ।
قَالَ وتحول مُحَمد بْن عثمان بْن أَبِي شيبة إِلَى بغداد وترك الكوفة ولم أر له حديثا منكرا فأذكره وأما عبد الله بن أحمد فقال: كذاب وقال ابن خراش كان يضع الحديث وقال البرقاني لم أزل أسمعهم يذكرون أنه مقدوح فيه وداود بن يحيى يقولون محمد بن عثمان كذاب وقال جعفر بن محمد الطيالسي كان كذابا ولم أر له حديثا منكرا..
তার সম্পর্কে কুফার সুপ্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস হাফিয মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ মুতাইয়ান কুফী (২০২-২৯৭) বলেন: তিনি মিথ্যাবাদী। আব্দুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন হাম্বাল বলেন: তিনি মিথ্যাবাদী। ইবন খিরাশ বলেন: তিনি জালিয়াতি করতেন। বারকানী বলেন: আমি সবসময়ই শুনতাম যে, তিনি অনির্ভরযোগ্য। জাফর তায়ালিসী, আব্দুল্লাহ ইবন ইবরাহীম ইবন কুতাইবা, জাফর ইবন হুযাইল, মুহাম্মাদ ইবন আহমদ আদাবী ও অন্যান্য মুহাদ্দিস তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন।
(ইবন আদী, আল-কামিল ফী যুয়াফাঃ ৬/২৯৫; রাবী নং ১৭৮২, যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফ্ফায ২/১৭১; রাবী নং ৬৮১, ইবন হাজার, লিসানুল মীযান ৫/২৮০; রাবী নং ৯৬৫, সুয়ূতী, তাবাকাতুল হুফ্ফায, পৃ. ৫৬)
↓
🌴🎓🌴স্বাভাবিকভাবেই দুইটা প্রশ্ন জাগে:-
①আবূ হানিফা রহঃ যদি শাসকের বিরুদ্ধে তরবারী ধারণকারী খারেজী ই হতেন, তবে তাকে শাসক কর্তৃক বিচারপতির পদ অফার করা হয়েছিলো কেনো?
যেমনঃ—
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের রহঃ ছাত্র আহমদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন কাসিম ইবন মুহরিয রহঃ বলেন:—
سمعت يحيى بن معين يقول كان أبو حنيفة لا بأس به وكان لا يكذب ... وسمعت يحيى يقول مرة أخرى أبو حنيفة عندنا من أهل الصدق ولم يتهم بالكذب ولقد ضربه ابن هبيرة على القضاء فأبى أن يكون قاضيا
‘‘আমি ইয়াহইয়া ইবন মায়ীনকে বলতে শুনেছি, আবূ হানীফার বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই। তিনি মিথ্যা বলতেন না। ... আমি ইয়াহইয়াকে অন্য একবার বলতে শুনেছি: আবূ হানীফা আমাদের নিকট সত্যপরায়ন, তাঁকে মিথ্যায় অভিযুক্ত করা হয় নি। (ইরাকের উমাইয়া গভর্নর) ইবন হুবাইরা (১৩২ হি) তাঁকে বিচারক পদ গ্রহণে বাধ্য করতে প্রহার করেন; তা সত্ত্বেও তিনি বিচারপতির পদ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।’’
[ইবন মায়ীন, মারিফাতুর রিজাল ১/৭৯]
উল্লেখ্য, শাসক টা মুতাযিলা আকীদার লোক ছিলো ৷
②ইমাম আবূ দাউদ রহঃ যদি আবূ হানিফা রহঃ কে খারেজী বা মুরজিয়া মানতেন, তবে তিনি ইমাম আবূ হানিফার রহঃ জন্য দুআ করতেন কেনো???
🍀খারেজী বা মুরজিয়ার জন্য মাগফিরাতের দুআ করা কোন হাদীস মোতাবেক জায়েজ??
حَدثنَا عبد الله بن مُحَمَّد بن عبد المؤمن بْنِ يَحْيَى رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ أَنا أَبُو بكر مُحَمَّد بن بكر بن عبد الرازق التَّمَّارُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ دَاسَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا دَاوُدَ سُلَيْمَانَ بْنَ الأَشْعَثِ بْنِ إِسْحَاقَ السِّجِسْتَانِيَّ رَحِمَهُ اللَّهُ يَقُولُ رَحِمَ اللَّهُ مَالِكًا كَانَ إِمَامًا رَحِمَ اللَّهُ الشَّافِعِيَّ كَانَ إِمَامًا رَحِمَ اللَّهُ أَبَا حَنِيفَةَ كَانَ إِمَامًا
ইমাম আবূ দাউদ রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ—
আল্লাহ মালেকের উপর রহম করুন, তিনি ছিলেন ইমাম!!
আল্লাহ ইমাম শাফেয়ী রহঃএর উপর রহম করুন, তিনি ছিলেন ইমাম!!
আল্লাহ আবু হানিফা রহঃএর উপর রহম করুন, তিনি ছিলেন ইমাম!!!
(আল-ইনতিক্বা লি ইবনে আব্দুল বার,পৃষ্ঠাঃ ৩২, জামেউল বায়ানিল ইলম পৃষ্ঠাঃ ২/১১১৩ বর্ননা নং ২১৮৬ )
🌻ইমাম আবূ দাউদ রহঃ তো আবূ হানিফার রহঃ বিষয়ে বলেছেনঃ—
٢٧٧- سمعتُ أَبا داود يقول: أَبو حنيفة خير من ألف مثل عمرو بن عُبيد.
ইমাম আবূ হানিফা রহঃ আমর ইবনে উবাইদের মতো লোকের চাইতে হাজার গুনে শ্রেষ্ঠ ছিলেন ৷
(সুয়ালাতে আবূ দাউদ,পৃঃ ৬৭, বর্ননা নং ২৭৭ )
সুতরাং ইমাম আবূ দাউদ রহঃ আবূ হানিফা রহঃ কে জরাহ করেন নি ৷৷
লেখক- মাওলানা Ariful Islam হাফিজাহুল্লাহ