ইমাম আবু হানিফার বিরুদ্ধে আরোপিত একটি অপবাদের জবাব(দলিলসহ)!!!

ইমাম আবু হানিফা রহঃ এর বিষয়ে ইমাম দারাকুতনীর জরাহ, তাহক্বীক্কের আলোকে বাতিলঃ—

🍂🌻ইমাম দারাকুতনী রহ: উল্লেখ করেছেন:—
 حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُبَشِّرٍ ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ الْوَاسِطِيُّ ، ثَنَا إِسْحَاقُ الْأَزْرَقُ ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ ، عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - : " مَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٌ ، فَقِرَاءَةُ الْإِمَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ " . 
“আবু হানিফা থেকে, তিনি মূসা ইবনে আবী আয়শা থেকে, তিন আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ ইবনুল হাদ থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা:) থেকে, তিনি রাসূল সা: থেকে, তিনি বলেন, যদি কেউ ইমামের পিছনে সালাত আদায় করে তাহলে ইমামের কুরআন তিলাওয়াত ই উক্ত মুক্তাদীর কিরাআত।
এই হাদীস বর্ননা করার পর ইমাম দারাকুতনী বলেন:-
 لَمْ يُسْنِدْهُ عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ غَيْرُ أَبِي حَنِيفَةَ ، وَالْحَسَنُ بْنُ عُمَارَةَ ، وَهُمَا ضَعِيفَانِ 
মূসা ইবনে আয়েশা থেকে আবু হানিফা এবং আল-হুসাইন ইবনে উমারা ব্যতীত অন্য কেউ মারফূ ভাবে বর্ণনা করেননি। তারা উভয়ে হাদীসশাস্ত্রে দুর্বল। 

(সুনানে দারাকুতনী, হা: ১২০৬)

↧↧↧
  ↧
🌺🌷🌺পর্যালোচনাঃ—

ইমাম দারাকুতনী এই হাদীসে আবু হানিফা রহঃ কে দুর্বল বলার দুটি কারণ আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। 

①একটি কারণ হলো:— দারাকুতনী আবু হানিফার রহঃ ঘোর বিরুধী ছিলেন। কারণ এ হাদীসে তিনি বলেছেন এটি মারফূ হিসেবে আবু হানিফা রহঃ ও হুসাইন ইবনে উমারা রহঃ তারা “উভয়েই” বর্ণনা করেছেন । 
কিন্তু তিনি ১২০৬ নং হাদীসের আলোচনায় শুধু আবু হানিফা রহঃ কে দোষি প্রমাণ করার নিয়্যতে বলেন:-
 ، وَلَمْ يَذْكَرْ فِي هَذَا الْإِسْنَادِ " جَابِرًا " غَيْرُ أَبِي حَنِيفَةَ
আবু হানীফা (রহঃ) ব্যতীত অন্য কেউ জাবের (রাঃ)-এর উল্লেখ করেননি। (সুনানে দারাকুতনী,হা: ১২০৯)

💝💗💝আসুন দেখি,আবু হানিফা রহঃ ই শুধুমাত্র এককভাবে হাদীসটা বর্ননা করেছেন? নাকি অন্যান্য রাবীগণও একই মতন বর্ননা করেছিলেন?

   قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَدَّادٍ عَنْ أَبِي الْوَلِيدِ ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ : أَنَّ رَجُلًا قَرَأَ خَلْفَ النَّبِيِّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ ، فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ رَجُلٌ فَنَهَاهُ ، فَلَمَّا انْصَرَفَ ، قَالَ : أَتَنْهَانِي أَنْ أَقْرَأَ خَلْفَ النَّبِيِّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - ؟! فَتَذَاكَرَا ذَلِكَ حَتَّى سَمِعَ النَّبِيُّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - : " مَنْ صَلَّى خَلْفَ الْإِمَامِ ، فَإِنَّ قِرَاءَتَهُ لَهُ قِرَاءَةٌ "
আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ (রহঃ) ... জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি যুহর অথবা আসরের নামাযে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে কিরাআত পড়তে থাকলে এক ব্যক্তি তাকে ইংগিতে কিরাআত পাঠ থেকে বিরত থাকতে বলেন। নামাযশেষে লোকটি বলল, আপনি কি আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে কিরাআত পড়তে নিষেধ করেন? তারা এ সম্পর্কে পরস্পর কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হলো। শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতে পান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ "কোন ব্যক্তি ইমামের পিছনে নামায পড়লে ইমামের কিরাআতই তার কিরাআত"। (দারাকুতনী: ১২০৯ নং হাদীস)

🌻লক্ষ করুন! ইমাম দারাকুতনী সনদের أَبُو الْوَلِيدِ (আবুল ওলীদ) কে مَجْهُولٌ অপরিচিত বলেছেন।

এটা দারাকুতনীর ভূল। কারণ মূসা ইবনে আবী আয়শার উস্তাদ আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ ও আবুল ওলীদ আলাদা কেউ নন। বরং আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদের কুনিয়াত বা উপনাম ই হলো “আবুল ওয়ালিদ”
যেমনঃ-মুসনাদে আবু হানিফার ১/৪১০, ৪১৪, ৪১৮, ৪২১ তে আছে:—
عَنْ أَبِي الْحَسَنُ مُوسَى، عَنْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَدَّادِ بْنِ الْهَادِ اللَّيْثِيُّ الْمَدَنِيُّ أَبُو الْوَلِيدِ ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ....

তেমনিভাবে, “আবু ওয়ালিদ” আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদের কুনিয়াত বা উপনাম ছিলো সেটা স্পষ্টভাবে :- ইমাম জহাবী রহঃ “সিয়ার এবং কিতাবে তারিখুল ইসলাম” is.gd/53AG24. কিতাবে এ লিখেছেন ,,, ৷ ইমাম ইবনে মানজুয়্যাহ রহঃ তার “রিজাল সহীহ মুসলিম" এ লিখেছেন,,খতিব আল-বাগদাদী রহ: তার “তারিখে বাগদাদে” লিখেছেন,, ইবনে মনজুর রহ: তার “তারিখে দামেস্ক" তে লিখেছেন,,,ইবনে হিব্বান রহ: তার “ছিকাতে” লিখেছেন,,, ইমাম হাকেম-রহঃ এর সমর্থন করেছেন ‘‘আল মুকাতানা ফী সারাদিল কুনা’’ গ্রন্থে।

দেখুনঃ
লিংক নং ১:—is.gd/dmQOK5
লিংক নং ২:—is.gd/mVFyDT

এখানে ভূল বুঝার কারণ হলো মাঝে عَنْ শব্দটি (লিপিকারের ভূলবসত) যোগ হওয়ায়। 

②দ্বিতীয় কারণঃ- দারাকুতনী তার ইলাল (১৩/৩৭৩) কিতাবে বলেছেন, এই হাদীসে জাবের (রা:) উল্লেখ্যের ক্ষেত্রে আবু হানিফা وهم বা ভূল করেছেন। কারণ হিসেবে বলেছেন, এক জামায়াত হাফেযে হাদীস মুসা ইবনে আবী আয়শা রহঃ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ রাঃ থেকে মুরসাল ভাবে রাসূল (সা:) থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু হানিফা রহঃ ভূল করেছেন বা তার ভূল হয়েছে। এই দৃষ্টিকোন থেকে দারাকুতনীর নিকট আবু হানিফা যঈফ বা দুর্বল।

এ ছাড়া তিনি আর কোন কারণ বলেননি। 

আসলেই কী ইমাম দারাকুতনীর তথ্য অনুযায়ী আবু হানিফা রহ: এককভাবে মারফূ তথা জাবের (রা:)-কে উল্লেখ করেছেন? 

সত্যকথা হলো:- ইমাম দারাকুতনীর আবু হানিফা রহ বিদ্বেষীর কারণে ওখানে ভূল তথ্য দিয়েছেন । কেননা, প্রথমতঃ স্বয়ং ইমাম দারাকুতনী নিজেই ১২০৬ নং হাদীসে স্বীকার করেছেন, হাদীসটি আবু হানিফা ও হুসাইন ইবনে উমারা দুইজন ই জাবের রহঃ উল্লেখসহ বর্ণনা করেছেন। 

আসুন দেখি-আবু হানিফা রহঃ ছাড়াও অন্যান্যদের বর্ননার আরো কয়েকটি হাদীসঃ- 

🍃১🍃প্রথমে, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদের রাঃ বর্ননাটাই দেখি:-
2797 - عَنِ الثَّوْرِيِّ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادِ بْنِ الْهَادِ اللَّيْثِيِّ قَالَ: صَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الظُّهْرَ أَوِ الْعَصْرَ، فَجَعَلَ رَجُلٌ يَقْرَأُ خَلْفَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَرَجُلٌ يَنْهَاهُ، فَلَمَّا صَلَّى قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كُنْتُ أَقْرَأُ وَكَانَ هَذَا يَنْهَانِي، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٌ فَإِنَّ قِرَاءَةَ الْإِمَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ»

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ রাঃ থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, একদা রাসূল সাঃ যোহর অথবা আছরের নামায পড়তেছিলেন, এক ব্যক্তি রাসূল সাঃ এর পেছনে কিরাত পড়া শুরু করলো। অন্য জন বাধা দিলো। যখন রাসূল সাঃ নামায শেষ করলেন তখন সে ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাঃ আমি আপনার পিছনে কিরাত পড়তে ছিলাম। আর এই লোক আমাকে বাধা দিয়েছে। তখন রাসূল সাঃ বললেন, যে ব্যক্তির ইমাম থাকবে ইমামের কিরাত হলো সে ব্যক্তির কিরাত।

(মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকঃ ২/১৩৫ হাদীস নং ২৭৯৭)

হাদীসটির স্তরঃ সহীহ, মারফূ ৷ এ হাদীসের সকলেই বুখারী মুসলিমের মশহুর রাবী ৷৷
আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ রাঃ এর বিষয়ে ইবনে হাজার রহ. বলেন, له رؤية “তিনি রসূলুল্লাহ স.কে দেখেছেন”। (আল ইসাবা:৬১৯২ )

🍃২🍃 মূসা বিন আবু আয়শা রহঃ থেকে শরীক ও সুফিয়ান সাওরীর বর্ননাঃ—
 ‏
1075/1 وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ منيع: أبنا إسحاق الأزرق، ثنا سفيان وشريك، عن موسى ابْنِ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادِ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: "مَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٌ فَقِرَاءَةُ الْإِمَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ"
জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ বর্ননা করেছেন: রাসুলুল্লাহ সঃ ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তির ইমাম থাকবে ইমামের কিরাত হলো সে ব্যক্তির কিরাত।

(ইতহাফুল খিয়ারাতিল মাহারা, বূসীরী পৃঃ ২/৮০)

হাদীসটির স্তরঃ সহীহ,মারফূ ৷ শিহাবুদ্দীন বূসীরী রাহ. (৮৪০হি.) বলেন:—
إِسْنَادُ حَدِيثِ جَابِرٍ الْأَوَّلِ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ،
‘আহমদ ইবনে মানীর সনদ সহীহাইনের (বুখারী-মুসলিমের) সনদের শর্তে সহীহ ৷(১০৭৫/১)

🍃৩🍃 ত্বলহা্ ইবনে আবী সাঈদের রহঃ বর্ণনা:—

339 - كَمَا أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ , أنَا أَبُو عَلِي الْحَافِظُ , نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الْأَشْعَثِ , نا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ , نا ابْنُ وَهْبٍ , حدَّثَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ , عَنْ طَلْحةَ , عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ , عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادِ بْنِ الْهَادِ , عَنْ أَبِي الْوَلِيدِ , عَنْ جَابِرٍ , أَنَّ رَجُلًا صَلَّى خَلْفَ رَسُول اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الظُّهْرِ أَوِ الْعَصْرِ يَعْنِي فَقَرَأَ , فَأَوْمَى إِلَيْهِ رَجُلٌ فَنَهَاهُ فَأَبَى , فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ: أَتَنْهَانِي أَنْ أَقْرَأَ خَلْفَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَتَذَاكَرَا ذَلِكَ حتَّى سَمِعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُول اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَلَّى خَلْفَ إِمَامٍ فَإِنَّ قِرَاءَةَ الْإِمَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ»

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাঃ বলেন:- এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে যোহর বা আসরের সালাতে কুরআন পড়েছে। একজন তাকে ইশারা করে নিষেধ করলেন। কিন্তু সে তা মানল না। সালাত শেষে সে বলল, তুমি কি আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে কুরআন পড়তে নিষেধ করছ? এভাবে দুজন আলোচনা শুরু করলে একপর্যায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনলেন। তখন তিনি বললেন, “যে ইমামের পেছনে সালাত পড়ে ইমামের কেরাতই তার কেরাত”।

(আল-কিরাআত খালফাল ইমাম, বায়হাকী, হা/৩৩৯)

বিশ্লেষনঃ— এই (طلحة بن أبي سعيد الإسكندراني) তলহা ইবনে আবু সায়ীদ আলইস্কানদারী সম্পর্কে ইমাম আহমদ রহঃ বলেন, ‘তার থেকে লাইছ ইবনে সা‘দ ও ইবনুল মুবারক বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমদ রহঃ বলেন:- ماأرى به بأسا আমি তার মধ্যে কোনো সমস্যা মনে করিনা। ইমাম আবু যুরআ বলেন, ‘তিনি ثقة বা নির্ভরযোগ্য । আবু হাতেম বলেন, صالح তিনি স্বলেহ । 
ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, ‘তিনি পরিচিত।’

(আল-জারহ ওয়াত তাদীল: ৪/৪৭৬-৪৭৭,রাবী নং ২০৪৯, আল-ঈলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল ২/৫৩০; তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ২৯৬৯ )

ইবনে হিব্বান রহঃ ثقة রাবীদের জীবনি নিয়ে সংকলিত ‘আছছিকাত’ গ্রন্থে (৬/৬৮৯) তাকে উল্লেখ করেছেন।
ইমাম যাহাবী তার কাশেফ গ্রন্থে (রাবী নং ২৪৭১) এবং ইবনে হাজার তার তাকরীব (রাবী নং ৩০২১) গ্রন্থে সিকাহ বলেছেন।

🍃৪🍃 ইসরাইল ইবনে ইউনুসের রহঃ বর্ননাঃ—

1296 - وَإِذَا أَبُو بَكْرَةَ حَدَّثَنَا قَالَ: ثنا أَبُو أَحْمَدَ قَالَ: ثنا إِسْرَائِيلُ , عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ , عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ شَدَّادٍ , عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ
ইমাম তহাবী আবু বাকরা থেকে, তিনি আবু আহমদ থেকে, তিনি ইসরাইল (ইবনে ইউনুস) থেকে, তিনি মূসা ইবনে আবী আয়েশা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ থেকে, তিনি বসরাবাসী একজন থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রায় অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। -(শরহু মা'আনিল আছার তহাবী ১/২১৭, হা/ ১২৯৬)

বিশ্লেষণ:— আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ রাঃ নিজেও একজন সাহাবী ছিলেন ৷ আর তিনি এখানে বলেছেন যে, তিনি বর্ননা করেছেন বসরাবাসীর একজন থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সঃ থেকে। তাহলে বুঝা গেলো যে, নিঃসন্দেহে হাদীসটি মারফূ। কেননা, সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ রাঃ অযৌক্তিকভাবে কোনো তাবেঈর থেকে বর্ননা করবেন না! ! 
(আল-ইসতীআব ফী মারিফাতিল আসহাব, ইবনে আবদুল বার ৩/৯২৬; উসদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবা, ইবনুল আছীর ২/৬২০; আলইসাবা ফী তাময়ীযিস সাহাবা, ইবনে হাজার ৫/১)

তাহলে, দেখা গেলো- আবু হানিফা রহঃ ও হুসাইন রহঃ সহ মোট ছয়জন রাবী হাদীসটি মারফূ এবং পাঁচজন জাবের (রা:) উল্লেখসহ মারফূ হিসেবে র্বণনা করেছেন। যেখানে হাদীসটি পাঁচজন জাবের রাঃ উল্লেখসহ মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সেখানে শুধু আবু হানিফা ররঃ কে وهم বা ভূলের অভিযোগে অভিযুক্ত করে তাকে যঈফ সাবস্ত করা মোটেই ইনসাফের কাজ হতে পারেনা। বরং এসকল (চার জন) নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিসদের খেলাফ না হওয়ায় বুঝা যায় আবু হানিফা রহঃ সঠিক ভাবে হাদীসটির সনদ ও মতন মুখস্থ রাখতে পেরেছেন। এতে প্রমাণিত হয় আবু হানিফা নির্ভরযোগ্য। সুতরাং আবু হানিফা যঈফ হওয়ার বিষয়টি ইমাম দারাকুতনীর ভূল তথ্যের উপর নির্ভর ছিল। তাই ইমাম দারাকুতনীর যঈফ হওয়ার দাবীটি বাতিল। 

💝🌻💝 হাদীসটি অন্য রাবীর সুত্রেও সাহাবী জাবির (রা:)থেকে উল্লেখ আছে। যেমনঃ—

 3802 - حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ حَسَنِ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كَلُّ مَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٌ فَقِرَاءَتُهُ لَهُ قِرَاءَةٌ»

মালেক ইবনে ইমাঈল, হাসান ইবনে স্বলেহ থেকে, তিনি আবুয যুবায়ের থেকে, তিনি সাহাবী জাবির(রা:) থেকে, তিনি নবী (সা:) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, যার ইমাম আছে ইমামের কেরাতই তার কেরাত। 
(মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ: ৩৮০২)

🌻বিশ্লেষণঃ— হাসান বিন সালেহ ثقةٌ “নির্ভরযোগ্য” রাবী এবং তাঁর বিরুদ্ধে তাদলীসের কোন অভিযোগ নেই। হযরত ইবনে আদী রহ. বলেন: ولم أجد له حديثا منكرا مجاوز المقدار، وَهو عندي من أهل الصدق “বড় ধরণের কোন মুনকার হাদীস আমি তাঁর থেকে পাইনি। তিনি আমার দৃষ্টিতে সত্যবাদী”। (আলকামিল: ৪৪৮) হাসান বিন সালেহ-এর জন্ম ১০০ হিজরীতে আর আবুয যুবাইর-এর মৃত্যু ১২৬ হিজরীতে। ২৬ বছরের যৌথ জীবনে উভয়ের সাথে হাজার বারও সাক্ষাত সম্ভব। যদিও হাসান বিন স্বলেহ জাবির আয় জু'ফী এবং লাইছ রহঃ থেকেও উক্ত হাদীসটি বর্ননা করেছেন 

🍀মালেক বিন ইসমাঈলের মু'তাবী ইসহাক:—

1297 - حَدَّثَنَا أَبُو أُمَيَّةَ، قَالَ: ثنا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ السَّلُولِيُّ، قَالَ: ثنا الْحَسَنُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ جَابِرٍ، وَلَيْثٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , مِثْلَهُ
ইসহাক বিন মনসুর আস সালুলী বলেন, তিনি পেয়েছেন হাসান বিন স্বলেহ রহঃ থেকে তিনি জাবির(জু'ফী) এবং লাইছ রহঃ থেকে, তারা আবুয যুবাইর রহঃ থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ননা করেন, জাবির রাঃ রাসুলুল্লাহ সঃ থেকে অনুরূপ বর্ননা করেছেন ৷
(মা'আনিল আছার, তহাবীঃ ১২৯৭, ১২৯৮)

🍀আরেক মু'তাবী আবু নুয়াইমঃ-

1075/3 رَوَاهُ عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ: ثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، ثَنَا الحسن بن صالح عن جابر، عن أبي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - ... فَذَكَرَهُ.
قُلْتُ: حَدِيثُ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ هَذَا إِسْنَادُهُ صَحِيحٌ، رِجَالُهُ كُلُّهُمْ ثِقَاتٌ
1264 / 3 - رَوَاهُ عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ: ثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ صالح عن جابر، عن أبي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - ... فَذَكَرَهُ.
قُلْتُ: إِسْنَادُ حَدِيثِ جَابِرٍ الْأَوَّلِ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ

আবু নুয়াইম হাসান বিন স্বলেহ থেকে, তিনি জাবির থেকে তিনি আবুয-যুবায়ের থেকে তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ননা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সঃ থেকে অনুরূপ বর্ননা করেছেন ৷

(ইতহাফুল খিয়ারাতিল মাহারা বূসীরী,হা/১০৭৫,১২৬৪)

🍀আরেক মু'তাবী আসওয়াদ ইবনে আমেরঃ—

14643 - حَدَّثَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، أَخْبَرَنَا حَسَنُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " مَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٌ، فَقِرَاءَتُهُ لَهُ قِرَاءَةٌ " 

আসওয়াদ বিন আমের হাসান বিন স্বলেহ থেকে,তিনি আবুয যুবায়ের থেকে তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে তিনি রাসুলুল্লাহ সঃ থেকে রাসুলুল্লাহ সঃ বলেন: যার ইমাম আছে তার জন্য ইমামের কিরাতই যথেষ্ট ৷
(মুসনাদে আহমদ, হা/১৪৬৪৩)

💝🌻💝 হাসান বিন স্বলেহ এরও মু'তাবি আছে:—

قَالَ مُحَمَّدٌ , حَدَّثَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ الْعَبَّاسِ التِّرْمِذِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَلِيَّةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَلَّى خَلْفَ الإِمَامِ، فَإِنَّ قِرَاءَةَ الإِمَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ»

ইসমাঈল বিন আলিয়্যাহ আইয়ূব থেকে, তিনি ইবনে জুবাইর থেকে তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে ৷ তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সঃ বলেছেন:— যে ব্যক্তি ইমামের পিছনে সালাত পড়ে, তার জন্য ইমামের কিরআত ই যথেষ্ঠ ৷ (মুয়াত্তা মালেক, হা/১১৭)

↓↓
 ↓
🌻হাদীসটা সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাত রাঃ এবং জাবির রাঃ ছাড়াও ইবনে ওমর রাঃও বর্ননা করেছেনঃ—
1299 - وَحَدَّثَنَا فَهْدٌ، قَالَ: ثنا أَحْمَدُ، قَالَ: ثنا ابْنُ حَيٍّ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا مِثْلَهُ
(মা'আনিল আছার তহাবী, হা/১২৯৯)

এই সকল সূত্রে তো ইমাম আবু হানিফা রহঃ নেই।
সুতরাং দারাকুতনীর ইনসাফের প্রতি আপত্তি থেকেই গেলো যে, আবু হানিফা রহ একক হলে এগুলোতে তাহলে জাবের রা: উল্লেখ করেছেন কে??

অতএব, ইমাম আবু হানিফার রহঃ কোন ভূল হয়নি অথবা তিনি এই হাদীসে এককও কোনোভাবেই নন । যেখান আবু হানিফার ভূল হওয়ার দাবী বাতিল, তখন তিনি যঈফ বা দুর্বল, এই দাবীও বাতিল প্রমাণিত হয়।
 
সুতরাং ইমাম আবু হানিফার বিষয়ে দারাকুতনী নিজেই ভূল তথ্যের উপর ভূল জরাহ করেছেন। 
এরপরেও ইমাম দারাকুতনীর জরাহ আবু হানিফার বিষয়ে পেশ করা মানে হলো, হাওয়ার উপর ইমারাত প্রতিষ্ঠা করা। 

💝🌻💝ইমাম আবু হানিফা রহঃএর হাদীসের জ্ঞান:—

أَبُو يَحْيَى بْنُ أَبِي مَيْسَرَةَ، ثَنَا خَلادُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: قَالَ مِسْعَرُ بْنُ كِدَامٍ: «طَلَبْتُ مَعَ أَبِي حَنِيفَةَ الْحَدِيثَ، فَغَلَبَنَا وَأَخَذْنَا فِي الزُّهْدِ، فَبَرَعَ عَلَيْنَا وَطَلَبْنَا مَعَهُ الْفِقْهَ، فَجَاءَ مِنْهُ مَا تَرَوْنَ

🍂 ইমাম মিসআর ইবনে কিদাম (১৫৫হি.) বলেন, ‘আমরা আবু হানীফার সঙ্গে হাদীস অন্বেষণ করেছি তো তিনি আমাদের চেয়ে এগিয়ে গেছেন। আমরা তার সঙ্গে যুহদ অর্জনে নিমগ্ন হয়েছি, তিনি আমাদের চেয়ে অগ্রগামী হয়ে গেছেন। এবং আমরা তার সঙ্গে ফিকহ হাসিল করেছি ৷ তিনি কী (অসাধ্য সাধন) করেছেন তা তো তোমরাই দেখছো।’

[ মানাকিবু আবী হানীফা ওয়া সাহিবায়হি আবী ইউসুফ ওয়া মুহাম্মাদ, ইমাম যাহাবী পৃ. ৪৩]

🍂মুয়াফফাক আলমক্কী রাহ. (৫৬৪ হি.) ‘মানাকিবু আবী হানীফা’’ গ্রন্থে (খন্ড ২, পৃষ্ঠা : ১৫১-১৫২) আবু ইসমা সা’দ ইবনে মুয়ায রাহ.-এর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন। তিনি আবু সুলায়মান জুযাজানী থেকে, তিনি ইমাম মুহাম্মাদ রাহ. থেকে, আর তিনি ইমাম আবু ইউসুফ রাহ. থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু ইউসুফ বলেন-
كنا نكلم أبا حنيفة في باب من أبواب العلم، فإذا قال بقول واتفق عليه أصحابه درت على مشايخ الكوفة هل أجد في تقوية قوله حديثا أو أثرا؟ فربما وجدت الحديثين أو الثلاثة فآتيه بها، فمنها ما يقبله ومنها ما يرده، فيقول : هذا ليس بصحيح أوليس بمعروف، وهو موافق لقوله! فأقول له : وما علمك بذلك؟ فيقول : أنا عالم بعلم الكوفة.

‘আমরা আবু হানীফা রাহ.-এর সাথে একটি অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করতাম। এরপর যখন তিনি সিদ্ধান্ত দিতেন এবং তার সঙ্গীরাও একমত হতেন তখন আমি কুফার শায়েখগণের কাছে যেতাম তার সিদ্ধান্তের সমর্থনে আরো কোনো হাদীস বা আছার পাই কিনা। কখনো দুইটি বা তিনটি হাদীস পেতাম। তাঁর কাছে পেশ করার পর তিনি কোনোটি গ্রহণ করতেন আবার কোনোটি এই বলে বর্জন করতেন যে, এটি সহীহ নয় বা মারুফ নয়। অথচ তা তার সিদ্ধান্তের অনুকূলে। আমি বলতাম, এ সম্পর্কে আপনার ইলম কীরূপ। তিনি বলতেন, আমি কূফা নগরীর ইলমের ধারক।

এই ঘটনা বর্ণনা করার পর আবু ইসমা যা বলেছেন তার সারকথা এই যে, ‘ইমাম রাহ. সত্য বলেছেন। সত্যি তিনি ছিলেন কুফার মনীষীগণের কাছে সংরক্ষিত ইলমের ধারক। শুধু তাই নয় (হাদীস আছার এবং কুরআন-সুন্নাহর) অন্যান্য শহরের অধিকাংশ ইলমেরও তিনি ধারক ছিলেন।

🍂মোস্তফা সাবাঈ রহঃ তার “সুন্নতু ওয়া মাকানাতিহা লিল সাবাঈ” কিতাবে লিখেনঃ—

5 - لقد كتب أبو حنيفة عن أربعة آلاف شيخ، حتى عَدَّهُ الذهبي في " تذكرته " التي هي ثبت الحفاظ، وَحَدَّثَ عَنْهُ يحيى بن نصر فقال: «دَخَلْتُ عَلَيْهِ فِي بَيْتٍ مَمْلُوءٍ كُتُبًا، فَقُلْتُ لَهُ: " مَا هَذَا؟ "، فَقَالَ: " هَذِهِ الأَحَادِيثُ مَا حَدَّثَ مِنْهَا إِلاَّ اليَسِيرَ الذِي يُنْتَفَعُ بِهِ "».
ইমাম আবু হানিফা রহঃ চার হাজার শায়েখ থেকে হাদীস লিখেছেন ৷ এমনকী ইমাম যহাবী রহঃ তার “তাযকিরাতুল হুফফাজ” এ উল্লেখ ইমাম আবু হানিফা রহঃ কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি প্রমাণিত হাফিজুল হাদীস ৷৷ এবং ইয়াহইয়া ইবনে নসর রহঃ ইমাম আবু হানিফা রহঃ সম্পর্কে বলেনঃ আমি তার বাড়িতে গিয়ে দেখলাম তার ঘর কিতাবে পরিপূর্ণ ৷ আমি জিজ্ঞেস করলাম-এগুলো কী?? তিনি বললেনঃ এগুলো হলো “হাদীসসমূহ” ৷ আমি এগুলো থেকে প্রয়োজন মাফিক খুব সামান্যই আলোচনা করেছি ৷

(সুন্নতু ওয়া মাকানাতিহা লিল সাবাঈ, ১/৪৫০)

🍂ইমাম সুফিয়ান ছাওরী বলেন, ‘আবু হানীফা (রাহ.) ছিকা রাবী কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের মধ্যে সেটা গ্রহণ করতেন যা তাঁর নিকট ‘সহীহ’। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলের মধ্যে শেষটি গ্রহণ করতেন। এবং যার উপর ক‚ফার আলেমগণকে পেয়েছেন সেটা গ্রহণ করতেন। এরপর একশ্রেণির লোক তার নিন্দা করেছে। আল্লাহ আমাদের সকলকে মাফ করুন।’ 

-[ফাযাইলু আবী হানীফা ওয়া আখবারুহু ওয়া মানাকিবুহু, ইবনে আবিল আওয়াম পৃ. ৯৯; আলইনতিকা, ইবনে আবদুল বার পৃ. ২৬২ ]

🍂ইমাম হাসান ইবনে সালেহ (১৬৯হি.) বলেন, ‘আবু হানীফা (রাহ.) ছিলেন (কুরআন-সুন্নাহর) সমঝদার ও পরিপক্ব আলেম। তাঁর কাছে রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস ‘সহীহ’ প্রমাণিত হলে তা ছেড়ে অন্য কিছু অবলম্বন করতেন না।’

[ -ফাযাইলু আবী হানীফা ওয়া আখবারুহু ওয়া মানাকিবুহু, ইবনে আবিল আওয়াম পৃ. ৮৬; আলইনতিকা, ইবনে আবদুল বার পৃ. ১৯৯]

🍂ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন (২৩৩হি.)-কে আবু হানীফা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘তিনি ছিকা। তাঁকে যয়ীফ বলতে আমি কাউকে শুনিনি। এই যে শুবা পত্রমারফত তাঁকে নির্দেশ করছেন যেন (প্রেরিতকে) তিনি হাদীস বর্ণনা করেন। আর শুবা তো শুবাই!’ 
-[আলইনতিকা, ইবনে আবদুল বার পৃ. ১৯৭] 

🍂তিনি অন্যত্র বলেন, ‘আবু হানীফা ثقة । তিনি শুধু এমন হাদীসই বর্ণনা করেন যা (ভালভাবে) ইয়াদ করেন। আর যা (ভালভাবে) ইয়াদ করেন না তা বর্ণনা করেন না।’ 
-[তারিখে বাগদাদ ১৩/৪৪৯; তাহযীবুল কামাল ২৯/৪২৪]

🍂ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী (২৩৪হি.) বলেন, আবু হানীফা (রাহ.) থেকে সুফিয়ান ছাওরী, ইবনুল মুবারক, হাম্মাদ ইবনে যায়েদ, হুশাইম ইবনে বাশীর, ওকী ইবনুল জাররাহ, আব্বাদ ইবনুল আওয়াম ও জাফর ইবনে আউন বর্ণনা করেছেন। এবং তিনি ছিকা, তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।’
 -[জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাযলিহি, ইবনে আবদুল বার ২/১০৮৩]

🍂ইমাম যাহাবী বলেন, ﻭ‍ﻛ‍‍ﺎ‍ﻥ‍ ‍ﻣ‍‍ﻦ‍ ‍ﺃ‍ﺫ‍ﻛ‍‍ﻴ‍‍ﺎﺀ ‍ﺑ‍‍ﻨ‍‍ﻲ‍ ‍ﺁ‍ﺩ‍ﻡ তিনি (আবু হানিফা) ছিলেন আদম সন্তানদের মধ্যে বড় বড় মেধাবীদের অন্যতম। (আল-ইবার: ১৬৪ পৃ.।)

🍂ইমাম শিহাবুদ্দিন ইবনুল ইমাদ হাম্বলী (১০৮৯ হি.) ও বলেন, বলেন, ﻭ‍ﻛ‍‍ﺎ‍ﻥ‍ ‍ﻣ‍‍ﻦ‍ ‍ﺃ‍ﺫ‍ﻛ‍‍ﻴ‍‍ﺎﺀ ‍ﺑ‍‍ﻨ‍‍ﻲ‍ ‍ﺁ‍ﺩ‍ﻡ তিনি (আবু হানিফা) ছিলেন আদম সন্তানদের মধ্যে বড় বড় মেধাবীদের অন্যতম। (শাযারাতুয যাহাব, দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ. ভৈরুত: ১/৩৭২)

🍂আল্লামা ইবনে খালদূন (৮০৮ হি.) বলেন, ইমাম আবু হানিফা ছিলেন হাদীস শাস্ত্রের বড় বড় মুজতাহিদদের অন্যতম। (মুকাদ্দামা ইবনে খালদূন-দারুস শুয়াব: ৪১০ পৃ.)

🍂আল্লামা ইবনুল কায়্যূম (৭৫১ হি.) বলেন, وأئمة الحديث كالشافعي وأبي حنيفة والبخاري হাদীস শাস্ত্রের ইমাম হলেন: ইমাম শাফেয়ী, আবু হানিফা ও বুখারী। (ই’লামুল মুয়া’ক্কিয়ীন: ১/২৫৯)

↓↓
 ↓
💝🌻💝ইমাম আবু হানিফার রহঃ উক্ত মারফূ হাদীসটির পক্ষে অসংখ্য মাউকুফ হাদীস রয়েছে:—

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ حُجْرٍ قَالَ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى: أَخْبَرَنَا، وَقَالَ الْآخَرُونَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُصَيْفَةَ، عَنِ ابْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَأَلَ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ عَنِ الْقِرَاءَةِ مَعَ الْإِمَامِ، فَقَالَ: لَا، قِرَاءَةَ مَعَ الْإِمَامِ فِي شَيْءٍ، ( رَوَاه مُسْلِمٌ فِىْ بَابِ سُجُودٍ التِّلَاوَةِ)

‘আত্বা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

হযরত যায়েদ বিন সাবিত রা.কে ইমামের সাথে কুরআন পাঠের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: ইমামের সঙ্গে কোথাও কোন কুরআন পাঠ নেই। 

সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৮৫
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD

مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ إِذَا سُئِلَ هَلْ يَقْرَأُ أَحَدٌ خَلْفَ الإِمَامِ قَالَ إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ خَلْفَ الإِمَامِ فَحَسْبُهُ قِرَاءَةُ الإِمَامِ وَإِذَا صَلَّى وَحْدَهُ فَلْيَقْرَأْ ‏.‏ قَالَ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ لاَ يَقْرَأُ خَلْفَ الإِمَامِ

হযরত নাফে’ রহঃ বলেন: ইবনে উমার রা.কে যখন জিজ্ঞেস করা হলো: কেউ কি ইমামের পেছনে কুরআন পাঠ করবে? জবাবে তিনি বলেন: কেউ ইমামের পেছনে নামায পড়লে তার জন্য ইমামের কুরআন পাঠই যথেষ্ঠ। আর একাকী পড়লে কুরআন পাঠ করবে। ইবনে উমার রা. নিজেও ইমামের পেছনে কুরআন পাঠ করতেন না। 

(মুওয়াত্তা ইমাম মালেক: ১৮৮, ইমামের পেছনে কুরআন পাঠ পরিত্যাগ অধ্যায়)

حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إلَى عَبْدِ اللهِ فَقَالَ : أَقْرَأُ خَلْفَ الإِمَامِ ؟ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللهِ : إنَّ فِي الصَّلاَةِ شُغْلاً ، وَسَيَكْفِيك ذَاكَ الإِمَامُ.

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.-এর নিকটে এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করলো: আমি কি ইমামের পেছনে কুরআন পড়ব? উত্তরে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. তাকে বললেন: নিশ্চয় নামাযের মধ্যে নির্ধারিত কর্ম সম্পাদনের বিষয় রয়েছে। আর এক্ষেত্রে ইমামই তোমার জন্য যথেষ্ট। 
(ইবনে আবী শাইবা: ৩৮০১, ত্বহাবী: ১৩০৭)

হাদীসটির স্তর : সহীহ, মাউকুফ। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের প্রসিদ্ধ রাবী।

✍️ মাওলানা আরিফুল ইসলাম হাফিজাহুল্লাহ

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.