সহীহ আকীদার মাদরাসা!

 সহীহ আকীদার মাদরাসা! 

তার মানে বাকি  মাদরাসাগুলো সব ভুল আকীদার মাদরাসা? দেশে সালাফি মাদরাসা ছিল আছে। যারা জন্মগত সালাফি অথবা ন‌বিন সালাফি তারা তাদের মাদরাসাগুলো চেনে এবং সেখানে তারা তাদের সন্তানদেরকে ভর্তি করায় তাদের মাসলাক তৈরী করবার জন্য। দেশে এমনিতে দু ধারার মাদরাসা, সরকারী ও বেসরকারী বা কওমী মাদরাসা। সালাফি ঘরানারও অ‌নেক  কওমী মাদরাসা আছে। আমাদের বাড়ির পাশে শত বছরের সালাফি মাদরাসা কুরআন সুন্নাহর খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে। এলাকায় শরঈ সমাধানের জন্য হানাফি সালাফি সবাই ‘কাফি মৌলভি’ সাহেবের নিকট যেত  তি‌নি ফায়সালা দি‌তেন। আর তিনি প্রশিদ্ধ সালাফি আলেম ছিলেন। ঝগড়া ফাসাদ বিভাজন আদৌ তৈরী ক‌রে নি ছিলও না। 

আমাদের দেশে সরকারী বা ক্যাডেট ধরণের কিছু আলীয়া মাদরাসা  আছে  যেগুলো সাধারণত জামাত ঘরাণার লোকেরা পরিচালনা করে, এমনি করে প্রশিদ্ধ কওমী মাদরাসা আছে যেগু‌লো‌কে  মুস‌লিম মাত্রই   শ্রদ্ধার সাথে দেখে থাকে। জামাতি মাদরাসা, হানাফি মাদরাসা-সাইনবোর্ডে এমন কিছু লিখে অন্য মাদরাসাগুলো থেকে আলাদা করা বা নিজেদেরকে অতি শুদ্ধ করার তাগিদ তারা অনুভব করেনি। কিন্তু হাল আমলে, আমাদের অ‌তিবিশুদ্ধবাদি ভাইয়েরা কি যে শুরু করলো! তারা সহিহ আকীদার মসজিদ, সহীহ আকীদার মাদরাসা নাম দিয়ে একটি অস্থিরতা শুরু ক‌রে সমাজ‌কে আরও ভাগ ক‌রে দি‌চ্ছে।

এগুলো স্পষ্ট উস্কানি, সাম্প্রদায়িকতা। আপনি আপনার মতবাদ,দর্শন মাদরাসার অভ্যন্তরে পড়ান।একাডেমিকালি যোগ্য স্কলার তৈরী করুন। আপনাদের মতাদর্শি আলেমগণ, অনুসারিগণ সেখানে তাদের বাচ্চাদের ভর্তি করাবে,পড়াবে। তা না করে আপনারা রাজনী‌তির  মত বি‌রোধী দলীয় মত করে প্রচারের মাধ্যমে বিভেদের প্রাচির নির্মাণ করছেন। 

৯০এর দশ‌কে এক‌টি কোম্পা‌নি ‘হালাল’ সাবান নাম দিয়ে মা‌র্কে‌টে সাবান এ‌নে‌ছিল। ধর্মীয় অনুভুতি কাজে লাগিয়ে মার্কেটে একচেটিয়া ব্যবসায় করে, মাল কামাই ক‌রে প‌রে সেটা দি‌য়ে  গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ গড়ে তুলে‌ছে। সে টাকা দি‌য়ে মিডিয়া হাউজ প্রতিষ্ঠা করে এখন ইসলামের বারটা বাজাচ্ছে। ঠিক তেমনি এই গ্রুপটা ‘সহীহ’ আওয়াজ তুলে বিশুদ্ধবাদি তরুন-যুবকদের কাছে টেনে একটি মাল্টিপারপাস গ্রুপ তৈরী করে নিচ্ছে এবং এই সার্কেল ভাল একটি ব্যবসায়িক প্লাটফর্ম  তৈরী করে নিচ্ছে যারা মূলত ইসলাম প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে প্রক্সি এমেরিকান সেক্যুলার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। কখনো মাদখালিজম দ্বারা কখনো  আলে সৌদ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে।

সত্যি বলতে কি, এদের বেশিভাগের কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে খুবই গরিবী অবস্থা। এ নাজুক অবস্থা তাদের কর্মের ফল। আল্লাহর কিতাব কুরআনকে তারা ইগনোর করে নিজেদের মতাদর্শ ভিত্তিক একটি প্রান্তিক দলে পরিণত হওয়ার ফল। ভাইদের বলবো, ব্যালান্স করুন। নিয়ত ঠিক থাকলেও আপনাদের পদ্ধতি প্রশ্নবিদ্ধ এবং সন্দেহ জনক। দে‌শের অ‌নেক তরুন যুবক এক সময় আপনা‌দের ফাঁ‌দে পড়‌লেও এখন বৈ‌শ্বিকভা‌বে আপনা‌দের অবস্থান বুঝ‌তে পে‌রে স‌রে দাঁ‌ড়ি‌য়ে‌ছে। ব্যবসায় মন্দা হওয়ার আ‌গেই  ভাল হ‌য়ে যান।

লিখেছেনঃ মুফতি মনোয়ার হোসাইন

তারা আপনাদের আকীদা বাতিল মনে করে বলেই এমন শব্দ ইউজ করে। ঢালাওভাবে চোখবন্ধ করে কোন রাখঢাক ছাড়া আশআরিদের বিদআতী বলে। হোক এর আওতায় যত বড় বড় আলেমরাই পড়ে যাক না কোন পরোয়া করে না।

শুধু এদেশে না। বিশ্বব্যাপী সালাফীদের চিত্র নেম রকম। ইল্লা মাশাআল্লাহ। কয়েকমাস আগে মিশরের প্রসিদ্ধ আলেম ও খতীব শায়খ মুহাম্মাদ হাসসান আদালতে বিচারকের প্রশ্নের মুখে আশআরিদের আহলুস সুন্নাহের অন্তর্ভুক্ত বলার কারণে মিশরে ও মিশরের বাইরের সালাফী আলেমরা তাকে পুরো ধুয়েছে সার্ফেক্সেল দিয়ে। এটাই সাধারণ চিত্র। এগুলোর প্রতিক্রিয়া পড়ে তাদের ফলো করা আম লোকদের উপর। তাদের আচরণও সেরকম হয়। অথচ এদের অনেকের বিভিন্ন আকীদাও সালাফী আলেমদের বক্তব্য অনুসারেই সহীহ নয়। ফলে সৌদি সালাফী আলেম ভার্সেস দেশী সালাফী আলেম একটা চাপা দ্বন্দ্ব আছে। তাদের মহলেই বিতর্ক উঠে মাঝেমাঝেই। অনেকের দাবী এদেশী সালাফীদের আকীদা নিয়ে স্বচ্ছ ও গভীর সহীহ ইলম নাই। উদাহরণ হিসেবে তারা আবদুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ সাহেবের বইয়ের মুজাসসিমা টাইপ আকীদাগুলো তুলে ধরে। সব মিলিয়ে এক হযবরল অবস্থা।

উস্তাদ আবদুল্লাহ আল মাসউদ

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.