ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ.-এর তিনটি বই : কিছু কথা—মাওলানা আবদুল মা‌লেক (হা‌ফিযাহুল্লাহ)

ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ.-এর তিনটি বই : কিছু কথা

-মাওলানা আবদুল মা‌লেক (হা‌ফিযাহুল্লাহ)
মারকাযুদ্দাওয়াহ আলইসলা‌মিয়া, ঢাকা
এখানে প্রসঙ্গক্রমে এ বিষয়টিও আরয করছি যে , ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (১৯৫৮ ঈ.-২০১৬ ঈ.) তাঁর “আল - ফিকহুল আকবর বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যা ” বইয়ে ( পৃ . ২৭৭ ) লেখেন, “ইবন কুল্লাবের ছাত্র ইমাম আবুল হাসান আলী ইবন ইসমাঈল আলআশআরী ( ৩২৪ হি.) তাঁর মত সমর্থন করেন এবং 'আশআরী' মতবাদের জন্ম হয় । ”

আরো লেখেন, “ তবে আকীদা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ইমাম মাতুরীদী ইমাম ইবন কুল্লাব ও ইমাম আশআরীর ইলমে কালাম নির্ভর ধারা অনুসরণ করেছেন । পক্ষান্তরে ইমাম তাহাবী মূলত ইমাম আবু হানীফা ও তাঁর দু' সঙ্গীর আকীদা ব্যাখ্যা করেছেন । ”

আল্লাহ তাআলা ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের প্রতি রহম করুন । এখানে তার ভুল হয়ে গেছে । তার বক্তব্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো আপত্তিজনক-

১.তিনি লিখেছেন,আবুল হাসান আশআরী রাহ. ইবনে কুল্লাবের ছাত্র অথচ তা একেবারে অসম্ভব ব্যাপার । কারণ ইবনে কুল্লাবের ওফাত ২৪১ হিজরীতে : এদিকে আবুল হাসান আশআরীর জন্ম ২৬০ হিজরীতে ।
এই কিতাবেরই ২৭০ পৃষ্ঠায় তিনি আবু বকর খাল্লালকে ইমাম আহমাদ রাহ. এর ছাত্র লিখেছেন । এটাও সঠিক নয়। খাল্লাল ইমাম আহমাদের নয় : বরং তাঁর ছাত্রদের ছাত্র ।

 ২. তিনি বলেছেন, ইমাম আবু মানসুর মাতুরীদী রাহ. আবুল হাসান আশআরী রাহ. এর ইলমে কালামের অনুসরণ করেছেন । এটা সঠিক নয় । কারণ মাতুরীদী রাহ. বয়সে আশআরী রাহ. থেকে বড় ছিলেন । আর ইতিহাসে এটা কোনোভাবেই প্রমাণিত নয় যে, তাঁদের পরস্পরের মাঝে কখনো কোনো সাক্ষাৎ হয়েছে কিংবা তাদের কেউ অপরজনের কিতাব লাভ করেছেন এবং তা পড়েছেন । ইতিহাসে এটাও প্রমাণিত নয় যে , মাতুরীদী বসরা সফর করেছেন কিংবা আশআরী রাহ. সমরকন্দ সফর করেছেন । আর সেখানে মাতুরীদী রাহ. এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটেছে । তলাবায়ে কেরাম এক্ষেত্রে আল্লামা সিনানুদ্দীন বায়াযী রাহ. এর বক্তব্য দেখতে পারেন-
فليس الماتريدي من أتباع الأشعرى ، لكونه أول من أظهر مذهب أهل السنة
كما ظن، .... ، لأن الماتريدي مفصل لمذهب الإمام أبي حنيفة وأصحابه المظهرين قبل الاشعري مذهب أهل السنة ، فلا يخلو زمان من القائمين بنصرة الدين وإظهاره ...

(ইশারাতুল মারাম, বায়াযী , পৃ.২৪-২৫ ; ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন , খ. ২ পৃ. ৫ : আরো দেখুন তাবসিরাতুল আদিল্লা, আবুল মুঈন নাসাফী ৫০৮ হি . , খ . ১ পৃ . ৩১০ , ৩৫৬-৩৭৫ )

৩. তিনি বলেছেন , ইমাম তহাবী রাহ.তো 'আল- আকীদাতুত তহাবিয়্যা ' তে ইমাম আবু হানীফা, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ রাহ. এর রেওয়ায়েত মোতাবেক আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদাসমূহ উপস্থাপন করেছেন । তবে ইমাম আবু মানসুর মাতুরীদী রাহ. এই ইমামগণের রেওয়ায়েতের পরিবর্তে ইলমে কালামের তরীকা অবলম্বন করেছেন । এই কথা আপত্তিকর । কারণ ইমাম আবু মানসুর মাতুরীদীও ইমাম তহাবীর মত ইমাম আবু হানীফা ও তাঁর সঙ্গীগণের রেওয়ায়েত ও বর্ণনা মোতাবেকই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকাইদ বর্ণনা করেছে । তহাবী ও মাতুরীদীর পার্থক্য এই যে , তহাবী সংক্ষেপে শুধু আকীদাগুলো উপস্থাপন করেছেন আর মাতুরীদী সেগুলোর ব্যাখ্যাও করেছেন আবার সেসব বিষয়ে কুরআন , হাদীস ও আসার থেকে দলীল উল্লেখের পাশাপাশি আকলী দলীল তথা যুক্তি নির্ভর দলীলও উপস্থাপন করেছেন । পাশাপাশি ভ্রান্ত ফেরকাগুলোর বিভিন্ন সংশয় ও আপত্তির জবাবও দিয়েছেন । অতএব পার্থক্য সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত বর্ণনার এবং উপস্থাপনের বিভিন্নতার । নতুবা মূল আকীদার বিষয়ে তাঁদের মাঝে কোনো মতবিরোধ 
নেই । 

এতে কোনো সন্দেহ নেই- ইমাম মাতুরীদী রাহ. ইসলামী আকীদার যে খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন সেটা ইলমে কালামের অন্তর্ভুক্ত । কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে , তিনি ইমাম আশআরীর ইলমে কালামের অনুসরণ করেছেন। আসল বিষয় কুল্লাব , মাতুরীদী ও আশআরী এই তিনজনই আহলুস সুন্নাহ জামাআতের আকীদার তিনজনই এই আকীদারই সাহায্য ও সংরক্ষণের খেদমত সঠিক পন্থায় আঞ্জাম দিয়েছেন। সেজন্যই তাঁদের সকলের বক্তব্য ও বিশ্লেষণ একরকম হওয়াটাই
স্বাভাবিক। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই । কিন্তু এ কারণে একজনকে আরেকজনের শাগরিদ বা তার থেকে উপকৃত হয়েছে বলার সুযোগ নেই। এর জন্য ভিন্ন দলীল লাগবে ।

ইলমে কালামের কথা যখন চলে আসল তখন এ বিষয়টিও আলোচনা করা জরুরি মনে করছি যে, ইলমে কালামকে ঢালাওভাবে মন্দ বলা- এটা সালাফী বন্ধুদের ভুল প্রোপাগান্ডা । বেদআতীদের ইলমে কালাম নিঃসন্দেহে মন্দ ; কেননা তাঁরা এর মাধ্যমে তাদের বেদআতী চিন্তাধারা প্রমাণের অপচেষ্টা চালায় । কিন্তু যারা হকপন্থী অর্থাৎ যারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পথে আছেন তাদের ইলমে কালামকে মন্দ আখ্যা দেয়া ঠিক নয় । এ বিষয়ে তলাবায়ে কেরাম ইমাম আশআরী রাহ.- এর রিসালা-
استحسان الخوض في علم الكلام
-মুতালাআ করতে পারেন । এই কিতাবে তিনি দলীলের আলোকে ইলমে কালামের গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন ।

হাঁ , ইলমে কালামের কিতাবসমূহ অধ্যয়নের সময় হাকীমুল উম্মত থানবী রাহ. -এর সেই গুরুত্বপূর্ণ কথাটি মনে রাখা জরুরি , যেটি তিনি তাঁর কোনো এক মজলিসে আলোচনা করেছেন এবং মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ . তা কলমবন্দ করেছেন । তার সারকথা হল , ইলমে কালামের মূলনীতি ও পরিভাষাসমূহ, যেগুলো বিভ্রান্তিকর আপত্তিসমূহের খণ্ডনে ব্যবহৃত হয়েছে , সেগুলো ইসলামী আকীদার অংশ নয় । সেগুলো বেদআতপন্থীদের মোকাবেলায় অবশ্যই ব্যবহার করা যাবে, তবে সেগুলো কোনোভাবে ইসলামী আকীদার অংশ নয় । সেগুলো তো তর্কশাস্ত্রের ফর্মুলা মাত্র । ইসলামের আকীদাসমূহ তো ভিন্নভাবে আলাদা শিরোনামে লেখা হয়েছে, যেগুলো কিতাব ও সুন্নাহয় স্পষ্টভাবে উল্লেখিত আছে এবং ইলমের ধারক-বাহকগণের মাঝে তাওয়ারুস তথা যুগপরম্পরায় বিদ্যমান আছে । তলাবায়ে কেরামের প্রয়োজন বিবেচনা করে আমরা থানবী রাহ্ - এর সে আলোচনা এখানে উদ্ধৃত করছি-

ایک بات یاد رکھنی چاہئے کہ علم کلام کی تحقیقات کو صرف معنی اصطلاحی کا درجہ دیا جاۓ جس کا حاصل ایک احتمال پیدا کرنا ہے کہ یوں بھی ہو سکتا ہے اس کو عقیدہ کا درجہ دینا حد سے تجاوز کرنا ہے جن حضرات علماء نے

 علم کلام کے اشتغال کو منع کیا ہے وہ اسی غلو اور حد سے تجاوز کی بنا پر کیا ہے مثلا حضرات متکلمین نے فلاسفہ کے اس قول کو رد کیا کہ جسم ہیولی اور صورت سے مرکب ہے اس کے بالمقابل جسم کی ترکیب اجزاء لا تتجزا سے قرار دیں تو جو لوگ جزء لا یتجزا کے مسئلے کو مانع یعنی احتمال پیدا کرنے کے درجے میں رکھیں وہ کوئی خلاف شرع کام نہیں کر رہیں لیکن اگر یہ عقیدو بنا لیں کہ جسم کی ترکیب اجزاء لا تتجزاً سے ہے تو شریعت میں اس کی کوئی دلیل نہ ہونے کی بنا پر ایسا عقیدہ رکھنا غلط اور ناجائز ہو گا ۔

-মাজালিসে হাকীমুল উম্মত, মুফতী মুহাম্মাদ শফী , পৃ . ১৩২-১৩৩ : উলূম ও ফুনুন ও নেসাবে তালীম , মুফতী মুহাম্মাদ যায়েদ মাযাহেরী পৃ . ৯২

 হযরত থানবী আরো বলেন-
اس لئے میں تو یہ کہتا ہوں کہ علم کلام کو صرف مدافعت اہل بدعت اور منع اصطلاقی یعنی احتمال وامکان کے درجے میں رکھنا چاہئے ۔ اور عقائد کو مثل سلف صالحین کے ان مباحث سے سادہ رکھنا چاہئے ۔

-মাজালিসে হাকীমুল উম্মত , মুফতী মুহাম্মাদ শফী , পৃ . ১৭৯ : উলূম ও ফুনূন ও নেসাবে তালীম , মুফতী মুহাম্মাদ যায়েদ মাযাহেরী , পৃ . ৯৩)

ডক্টর আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের “শরহে ফিকহে আকবর ” ও “ইহইয়াউস সুনান” সম্পর্কে মাসিক আলকাউসারে এক প্রসঙ্গে আমি একটি নোট লিখেছিলাম । সেই পুরো নোটটি আরো বিশ্লেষণের সঙ্গে এখানে পেশ করা মুনাসিব মনে করছি- 

“এক মজলিসে আমি সরাসরি ডক্টর খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে শুনেছি যে, আমাদেরকে চলতে হবে সুন্নাহ ও উম্মাহকে সঙ্গে নিয়ে । কথাটির উদ্দেশ্য হল , শরীয়তের দলীল তো হল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ এবং এই সুন্নাহই উম্মতের জন্য উসওয়ায়ে হাসানা ও সর্বোত্তম আদর্শ । তবে যেহেতু অনেক মাসআলার ক্ষেত্রেই সুন্নাহর বিভিন্নতা রয়েছে আবার বহু মাসআলায় সুন্নাহ অনুধাবনের ক্ষেত্রে বা তার আমলী রূপরেখা নির্ধারণের ক্ষেত্রে হাদীস ও সুন্নাহ-বিশেষজ্ঞ ফকীহদের মাঝে
ইজতিহাদী ইখতিলাফ রয়েছে, এজন্য নিয়ম এটা হওয়া উচিত, যে এলাকায় উম্মাহর মধ্যে যে আমল চালু আছে যদি সুন্নাহ বা আসারে তার কোনো নির্ভরযোগ্য দলীল বিদ্যমান থাকে তাহলে সাধারণ মানুষের সামনে ঐ সুন্নাহর মোকাবেলায় আরেক সুন্নাহর দাওয়াত দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করা উচিত নয়।” তার এই কথাটি আমার খুব ভালো লেগেছে । মূলত সব যুগের মুহাক্কিক ও মুতাদিল উলামায়ে কেরামের নীতি এটাই ছিল । আমার বিশ্বাস, যদি তার উল্লেখ করা এই নীতি অনুযায়ী তিনি তার পুরোনো কিতাব “ইহইয়াউস সুনান” এর নযরে সানী করার সুযোগ পেতেন, তাহলে অনেক মাসআলায় তার রায় পরিবর্তন হয়ে যেত। তার যেসব অডিও-ভিডিও এখন প্রচারিত হচ্ছে, যদি ব্যবস্থাপকগণ উক্ত নীতি অনুযায়ী বিচার-বিশ্লেষণ করেন তা হলে তারা এগুলোর অনেক কিছু আর হয়ত প্রচার করবেন না। কিন্তু মুতালাআর স্বল্পতা এবং উসূলে ফিকহের পর্যাপ্ত ইলমের অভাবে তারা এ বিষয়টি হয়ত বুঝতে পারছেন না । আসলে ব্যক্তির উচিত,(এবং তার পরে যারা তার ইলমী ওয়ারিস তাদেরও উচিত,) রচনাবলীর মত নিজের অডিও ভিডিওসমূহ (যদিও ব্যক্তিগতভাবে ভিডিওকে আমি দাওয়াতের সুন্দর মাধ্যম মনে করি না।)-এরও নযরে সানী ও সম্পাদনা করতে থাকা । কারণ অনেক সময় তাতে এমন অনেক কথা থাকে, যেগুলো সংশোধনযোগ্য। নযরে সানীর সময় সেগুলো ধরা পড়ে। আর নযরে সানী ও সম্পাদনা ব্যতীত নিজের লেখা ও আলোচনা কোনো কিছুই প্রচার করা ঠিক নয়।
কেউ আমাকে খোন্দকার সাহেবের একটি ভিডিও পাঠিয়েছেন, যাতে তিনি ইজতিহাদের প্রয়োজনীয়তা বলতে গিয়ে কুরআন ও সুন্নাহকে স্বর্ণের বারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এরপর সেটাকে স্পষ্ট করতে গিয়ে তিনি যা বলেছেন সেটা একেবারে অনুচিত কথা। আমার ধারণা, যদি তিনি বেঁচে থাকতেন এবং বিষয়টি নযরে সানী করার সুযোগ পেতেন তাহলে তিনি তা মুছে দিতেন। অথবা সংশোধন করে নতুনভাবে উপস্থাপন করতেন ।
প্রসঙ্গক্রমে এখানে বলে রাখি, অনেক ভাই আমাকে জিজ্ঞাসা করেন , তার অমুক কিতাবটি কেমন? আমি কি এ কিতাবটি পড়তে পারি? এধরনের প্রশ্ন আমার জন্য খুবই বিব্রতকর। কোনো কিতাবের উপর মতামত দিতে হলে সে কিতাবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে হয়। যদি কেউ এর সুযোগ না পায় তাহলে সে কীভাবে জবাব দেবে? তাছাড়া কে কোন কিতাব পড়বে তা বলার জন্যে তো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থা জানতে হয় । এজন্য সঠিক পন্থা এটাই যে, সকলেই আমরা নিজ নিজ দ্বীনী ও ইলমী মুশীর তথা পরামর্শকের সাথে মাশওয়ারা করেই মুতালাআর কিতাব নির্বাচন করব । 

যাই হোক , রবিউল আউয়াল ১৪৩৫ হিজরীতে ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর "আলফিকহুল আকবার''- এর বাংলা অনুবাদ ও ব্যাখ্যা প্রকাশ করেন । তার বড় একটা অংশ আমি মুতালাআ করেছিলাম এবং সে বিষয়ে আমার মতামত তাকে জানিয়েছিলামও । কিন্তু জানি না, কেন তিনি দলীল-নির্ভর পর্যালোচনাগুলোকে গ্রহণ করতে পারেননি । সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থে মাশাআল্লাহ কিছু উপকারী আলোচনা রয়েছে । তবে কিছু কিছু বিষয়ে আপত্তিও রয়েছে । প্রথম কথা তো এই যে "আল ফিকহুল আকবার" এর অনুবাদ তিনি করেছেন, তা নির্ভরযোগ্য ও প্রমাণসিদ্ধ রায় মোতাবেক আবু হানীফা রাহ.এর কিতাব নয় । যদিও মোল্লা আলী কারী রাহ. সেটাকে আবু হানীফা রাহ.এর কিতাব মনে করে তার শরাহ্ও লিখে দিয়েছেন এবং ইবনু আবিল ইয রাহ. "শরহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যায়" তাকে আবু হানীফা রাহ. এর কিতাব বলে উল্লেখ করে তার থেকে হাওয়ালা উদ্ধৃত করেছেন। মনে হয়, আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেব তাদের অনুসরণ করেছেন। আসল "আল-ফিকহুল আকবার" সেটিই , যেটি মিসরের প্রকাশকগণ "আলফিকহুল আবসাত" নামে ছাপিয়েছেন এবং অনেক প্রকাশক এটিকে "আল ফিকহুল আকবার" নামেই ছাপিয়েছেন । সে ব্যাপারে অন্য কোনো প্রসঙ্গে আরো বিস্তারিত আলোচনার ইচ্ছা আছে ইনশাআল্লাহ।
দ্বিতীয় কথা হল, জাহাঙ্গীর সাহেবের বাংলা ব্যাখ্যায় মাতুরীদী ও আশআরীদের ঢালাওভাবে কিছুটা কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে, যা মুনাসিব হয়নি । যদি পূর্ববর্তী মাতুরীদী ও আশআরীদের কিতাবগুলো তার গভীরভাবে মুতালাআর সুযোগ হত তাহলে সম্ভবত তিনি এমন সমালোচনা করতেন না। অপরদিকে তিনি কট্টরপন্থী সালাফীদের ব্যাপারে (এমনকি এই যুগের এই এলাকার সালাফীদের ব্যাপারেও ) কোনো বিশেষ সমালোচনা করেননি এটাকে একটি ত্রুটিই বলতে হবে, যা সম্ভবত পর্যাপ্ত মুতালাআ ও মুযাকারার সুযোগ না হওয়ার কারণে ঘটেছে ।

সিফাতে মুতাশাবিহাতের বিষয়ে তিনি লম্বা আলোচনা করেছে কিন্তু আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর আসল মাসলাক তার আলোচনা থেকে ফুটে ওঠেনি। মোদ্দাকথা, এই কিতাবে নযরে সানী এবং সম্পাদনা দরকার ছিল।
এই আলোচনার আলোকে যদি চিন্তা করা হয় তাহলে দেখা যাবে তার আরেকটি কিতাব “ ইসলামী আকীদা ” 
এর মধ্যেও বেশ কিছু বিষয় সংশোধনযোগ্য রয়েছে। এটি তাঁর বেশ আগের লেখা একটি বই । এটি আমাদের মতে আরো বেশি নযরে সানী ও সম্পাদনাযোগ্য ।

মাসিক আল-কাউসার 
রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ || নভেম্বর ২০২১

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.