কিছু জরুরি বিষয়ঃ-
এই কথা তো একদম পরিষ্কার যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ইমাম মাতুরীদী ও ইমাম আশআরী এবং তাঁদের অনুসারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় । তাঁদের উভয়ের জন্ম হিজরী তৃতীয় শতকে আর ওফাত চতুর্থ শতকে । অথচ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের প্রথম জামাত হলেন সাহাবায়ে কেরাম । দ্বিতীয় জামাত জামাত তাবে তাবেয়ীন আর তৃতীয় ও তাবে তাবেয়ীন। অতঃপর সমস্ত ইসলামী শহর ও অঞ্চলে যেসকল মনীষী অনুসারীগণ ঈমান-আকীদা, নীতি-আদর্শ ও ঐতিহ্যে খায়রুল কুরূনের মনীষীদের পথে রয়েছেন তারা সকলে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অংশ : আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ বললে তারাও উদ্দেশ্য। স্পষ্ট কথা- ইমাম মাতুরীদী ও ইমাম আশআরী তাঁদের পূর্ববর্তী এই মনীষীগণের মাধ্যমেই দ্বীন-শরীয়ত ও ঈমান- আমলের সঠিক ও নির্ভরযোগ্য ইলম হাসিল করেছেন, যেমনটি আমরা ইঙ্গিত করেছি । অতএব মাতৃরীদী ও আশআরী তাঁদের পূর্ববর্তী মনীষীগণের পথে আছেন ; এই নয় যে, তাঁরা এই দুইজনের পথে ছিলেন ।
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পূর্ববর্তী মনীষীগণের পথে অবিচল থাকার কারণে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁরা ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেন । ফলে চতুর্থ শতাব্দীর শেষ থেকে আজ অবধি উম্মাহ্ অধিকাংশ আহলে ইলম অর্থাৎ ইলমে দ্বীনের যত শাখা রয়েছে সেগুলোর যারা ধারক - বাহক , তাদের অধিকাংশ ব্যক্তি হয়ত আশআরী নতুবা মাতুরীদী । কখনো সুযোগ হলে তাদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা পাঠকগণের সামনে পেশ করা যেতে পারে । তবে এই বাস্তবতাটুকু স্বীকারের পাশাপাশি আমাদের এই কথা প্রকাশ করতে কোনো সংকোচ নেই , বরং সেটা প্রকাশ করা আমরা জরুরি মনে করি যে, শরীয়ত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাপকাঠি আশআরী বা মাতুরীদী হওয়াকে বানায়নি; বানিয়েছে সুন্নাহ ও জমাআতকে । তেমনিভাবে হকের অনুসারীদের আশআরী বা মাতুরীদী নিসবত রাখাটাও জরুরি করে দেয়নি । সেজন্য এটা একদম স্বাভাবিক যে আশআরী - মাতুরীদী ধারা থেকে উপকৃত হওয়া এবং এর দিকে নিজেকে নিসবত করা মানুষের সংখ্যা বিপুল ও ব্যাপক তা সত্ত্বেও এমন আহলে ইলম পাওয়া যাবে, যারা এবং তাদের অনুসারীরা নীতি আদর্শে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অনুসারী তবে তারা আশআরী - মাতুরীদী নিসবত রাখেন না ।
এটা কেবল সম্ভাবনা- ই নয় , বাস্তবতাও । চতুর্থ শতাব্দীর শেষ দিকের ও তার পরের অনেক মুহাদ্দিস আশআরী বা মাতুরীদী নিসবত রাখতেন না ; তবে তাঁরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অনুসারী । ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রাহ. এর অনেক অনুসারীও এই নিসবত রাখতেন না ; তবে তাঁরা আহলুস সুন্নাহর পথে ছিলেন । এই মনীষীগণের আকাইদের বিষয়ে যদি সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা যায় তাহলে দেখা যাবে , তাঁদের এবং আশআরী - মাতুরীদীর আকাইদে কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই ।
যেমন ইমাম মুহাদ্দিস ইবনে হিব্বান বুদ্ধী ( ২৭০ হি . ৩৫৪ হি . ) । তেমনিভাবে হাম্বলীগণের মধ্যে আছেন আবুল ফযল তামীমী ( ৪১০ হি . ) ও ইবনুল জাওযী ( ৫১০ হ . - ৫৯৭ হি . ) । ইবনুল জাওযী রাহ. এর - دفع شبه التشبيه بأكف التنزيه চমৎকার কিতাব । সচেতন তালিবে ইলমগণ এটি মুতালাআ করতে পারেন ।
আশআরী আলেম শায়েখ আবু আবদিল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবুল ফযল কাসিম আল বাক্কী তিউনিসী ( ৯১৬ হি . ) রাহ.বলেন , অনুসন্ধান মোতাবেক আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ বলতে তিনটি দল উদ্দেশ্য হয়।
১. মুহাদ্দিসগণ যারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকাঈদ কে হাদিস-আসারের আলোকে কিংবা আলআকীদাতুত তহাবিয়্যার মত সরলভাবে প্রচার করেছেন ।
২. আশআরী ও হানাফীগণ ( অর্থাৎ মাতুরীদীগণ ) ।
৩. সুফীগণ । অর্থাৎ শরীয়ত ও সুন্নতের অনুসারী সুফিয়ায়ে কেরাম, যারা সহীহ আকীদাসমূহকে কাশফ - ইলহামের হাওয়ালাতেও বর্ণনা করেছেন । আসলে এটার কোনো দরকার ছিল না । তবু শরীয়তের দলীলাদির মাধ্যমে প্রমাণিত আকীদা বা আমলের সমর্থনে কোনো বুযুর্গ যদি নিজের কোনো স্বপ্ন বা কাশফ-ইলহাম উল্লেখ করেন,এতে গুনাহের কিছু নেই। এখানে ওসব বেদআতী সূফী উদ্দেশ্য নয় , যারা ঈমান-আমলের ক্ষেত্রে শরীয়তের দলীলের চাইতে কাশফ-ইলহামকেই বেশি গুরুত্ব দেয় । এদের সবাই গোমরাহ । কেউ ফাসেক আর কেউ একেবারে মুলহিদ ও যিন্দীক । মুরতাযা যাবীদী রাহ . উল্লেখিত বক্তব্যটি বাক্কীর কিতাব - شرح عقيدة ابن الحاجب -
থেকে উদ্ধৃত করেছেন । আমি এখানে তার সারকথাটুকু কিছুটা বিশ্লেষণের সঙ্গে উল্লেখ করলাম । ( দেখুন ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন , খ . ২ , পৃ . ৬-৭ ; ফযলুল বারী দরসে বুখারী , আল্লামা শায়খুল ইসলাম শাব্বীর আহমদ উসমানী , খ .১ , পৃ . ২৩৫-২৩৬ )
দুই .
যেসকল মুহাদ্দিস বা হাম্বলী আশআরী-মাতুরীদী নিসবত রাখেন না তাদের প্রত্যেকে এমন নন যে, তাদেরকে ব্যাপকভাবে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত বলা যায় ; বরং তাদের মধ্যে অনেক লোক এমনও আছেন , যারা সিফাতের মাসআলায় মুজাসসিমা বা মুশাব্বিহার দিকে ঝুঁকে গেছেন কিংবা তাদের পথ গ্রহণ করেছেন । যেমন ইবনে
হামেদ হাম্বলী ( ৪০৩ হি .) , আবু আলী আহওয়াযী ( ৩৬২ হি . - ৪৪৬ হি . ) ও আবু ইয়ালা হাম্বলী ( ৩৮০ ) হি. ৪৫৮ হি.) । ( আবু ইয়ালা মাওসিলী ৩০৭ হি . নয়; তিনি আরো আগের এবং মুসনাদ গ্রন্থের সংকলক।
তিন .
আশআরী - মাতুরীদীদের বিরুদ্ধে অনেক প্রোপাগান্ডা করা হয়েছে । তাদেরকে যেসব অপবাদ দেয়া হয়েছে , সম্ভবত সেগুলোর সবচে বেশি চর্চা করেছেন সউদী সালাফীগণ । এমনকি তারা এদেরকে জাহমিয়া আখ্যা দিয়েছেন । এটাও বলেছেন যে , এরা শুধু তাওহীদে রুবূবিয়াতের চর্চা করে ; অথচ আসল তাওহীদ হল তাওহীদে উলূহিয়াত । তাওহীদে উলূহিয়াত সাব্যস্ত করার জন্যই আল্লাহ তাআলা সকল নবী - রাসূল পাঠিয়েছেন ; নতুবা কাফের - মুশরিকরা তো তাওহীদে রুবুবিয়াত মানেই ।
এই বেচারারা আশআরী- মাতুরীদীদের বিরোধিতা করতে গিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন । সেজন্য তাদের মুখ ও কলম থেকে এ ধরনের বাতিল কথা বের হয়েছে । সত্য কথা হল , আল্লাহ তাআলা তাওহীদের দিকে দাওয়াত দেয়ার জন্য খাতামুন নাবিয়্যীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামসহ সকল নবী - রাসূলকে তাওহীদে পাঠিয়েছেন; যার মধ্যে রুবূবিয়াত ও তাওহীদে উলূহিয়াত সবই অন্তর্ভুক্ত । মুশরিকরা যেভাবে তাওহীদে উলূহিয়াত অস্বীকার করত তেমনিভাবে তাওহীদে রুবূবিয়াতও অস্বীকার করত । আল্লাহ তাআলা খালিক ও মালিক ' স্বীকার করে নেয়ার দ্বারা তাওহীদে রুবূবিয়াত সাব্যস্ত হয়ে যায় না । তাওহীদে উলূহিয়াতের প্রতি ঈমান আনা ব্যতীত তাওহীদে রুবূবিয়াত সাব্যস্ত হওয়া সম্ভবই নয় । ' আল্লাহ তাআলা খালিক ও মালিক ' শুধু এটুকু স্বীকারের দ্বারা ঈমান সাব্যস্ত হয়ে যায় না । মুশরিকরা বিতর্কের সময় আল্লাহ তাআলার রুবূবিয়াত স্বীকার করত । তবে তারা আল্লাহ তাআলার রুবুবিয়াত এবং এই সিফাতের ক্ষেত্রে তিনি একক- এর প্রতি কুরআন - সুন্নাহ ঈমান আনত না । মুতাআলার দ্বারা এই বিষয়টি একদম পরিষ্কার হয়ে যায় । কিন্তু আশআরী - মাতুরীদীদের বিরোধিতায় সীমা ছাড়িয়ে এই বন্ধুরা এই হাকীকত থেকে গাফেল হয়ে গেছেন ।
এরপর তারা যে বলেন , মাতুরীদী-আশআরীরা তাওহীদে উলুহিয়াতের আলোচনা করেন না- এটা ডাহা মিথ্যা। সবচে পাক্কা আশআরী আলেম ফখরুদ্দীন রাযী ( ৫৪৪ হি . - ৬০৬ হি .) - এর 'তাফসীরে কাবীর ' [ সূরা ফাতিহা ( ১ ) ৪ ] এবং স্বয়ং ইমাম আবু মানসুর মাতুরীদীর কিতাব
تأويلات أهل السنة
[ সূরা ফাতিহা ( ১ ) : ৪ ] সুরা হুদ ( ১১ ) : ৫০ , ৬১ : সুরা ইসরা ( ১৭ ) : ২৩: সূরা কাহফ ( ১৮ ) : ৪৬ ) দেখুন , তাঁরা কত স্পষ্ট ভাষায় তাওহীদে উলূহিয়াতের আলোচনা করেন।
চার .
আশআরী ও মাতুরীদী মাসলাক সম্পর্কে যা বলেছি সেটা মাসলাকের মুহাক্কিক এবং ভারসাম্য বজায় রাখেন এমন আহলে ইলম কর্তৃক মাসলাকের খেদমতসমূহকে সামনে রেখে বলা হয়েছে । এর অর্থ এই নয় যে , আশআরী বা মাতুরীদী মাসলাকের কোনো লেখক কোথাও বাড়াবাড়ি করেননি । নিঃসন্দেহে ইলমে কালাম সম্পর্কে যারা লিখেছেন তাদের কেউ কেউ কোনো কোনো জায়গায় বাড়াবাড়ির শিকার হয়েছেন এবং কোনো আকীদার অপ্রয়োজনীয় চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ভুলের শিকার হয়েছেন । আমরা এ ধরনের বাড়াবাড়ি থেকে নিজেদেরকে মুক্ত ঘোষণা করছি : এগুলোর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই । আমরা কারো বাড়াবাড়ির সঙ্গ দেই না । তেমনিভাবে কোনো মুক্তাদা ও অনুসরণীয় আলেমের ত্রুটি - বিচ্যুতিকেও হক মনে করি না। এবং ভুল - ত্রুটির ক্ষেত্রে আমরা কারো অনুসরণ করি না।
পাঁচ .
প্রসিদ্ধ আছে , আবু মানসুর মাতুরীদী রাহ-এর পর যে হানাফী আলেমগণ আছেন , তারা যে এলাকারই হন মাতুরীদী। আর আবুল হাসান আশআরী রাহ. এর পর শাফেয়ী মাযহাবের যে আলেমগণ আছেন , তারা যে অঞ্চলেরই হন- আশআরী । এই কথা অধিকাংশের বিবেচনায় ঠিক আছে । নতুবা আবু মানসুর মাতুরীদী রাহ.এর পরের হানাফী আলেমগণের মধ্যে এমন ব্যক্তিও ছিলেন , যিনি ভিন্ন মাসলাকের অনুসারী । উদাহরণস্বরূপ কেউ আকীদার বিষয়গুলো 'আলআকীদাতৃত তহাবিয়্যা ' - এর উপস্থাপন অনুযায়ী গ্রহণ করেছেন । এক্ষেত্রে তিনি ইলমে কালামের পথ অবলম্বন করেননি । আবার কেউ সালাফী চিন্তাধারার দিকে ঝুঁকে গেছেন-
যেমন ইবনু আবিল ইয এবং কেউ মু'তাযিলীদের অনুসরণ করেছেন- যেমন যামাখশারী !!
একই অবস্থা শাফেয়ীগণের । তাই এটা জরুরি নয় যে , কোনো ব্যক্তি ফিকহী বিষয়ে কোনো ইমামের মাযহাব অনুসরণ করলে আকীদার ক্ষেত্রেও তাঁর মাসলাক ( অর্থাৎ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাসলাক ) -এর উপর থাকবে । কারণ দেখা যায় , কোনো লোক হয়তো ফিকহের ক্ষেত্রে সঠিক পথে আছে কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আকীদার ক্ষেত্রে সরল পথ থেকে সরে গেছে । যেমন হাম্বলীগণের মধ্যে অনেক ব্যক্তি এমন আছেন , যারা আকীদার ক্ষেত্রে ইমাম আহমাদের মাসলাক থেকে সরে মুশাব্বিহাদের মাসলাকের দিকে ঝুঁকে গেছেন । অথচ ফুযালাউল হানাবিলা , মধ্যমপন্থী হাম্বলী আহলে ইলম , তাঁরা ইমাম আহমদের মাসলাকের অনুসারী ছিলেন , নয়তো ইমাম আবুল হাসান আশআরীর মাসলাকের । আশআরী রাহ -এর পর মুহাক্কিক মালেকী আলেম তাঁর মাসলাকের অনুসারী ছিলেন । তেমনিভাবে অধিকাংশ এখানে সংক্ষেপে বিষয়টির প্রতি ইশারা করা হল । ইতিহাসের আলোকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে গেলে তা সময়সাপেক্ষ । এর বিশেষ প্রয়োজনও নেই ।
ছয়.
সিফাতে মুতাশাবিহার ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ পথ ও পন্থা জানার জন্য তলাবায়ে কেরাম নিম্নোক্ত কিতাবগুলো মুতালাআ করতে পারেন-.
ا - « القول التمام بإثبات التفويض مذهبا للسلف الكرام » للدكتور سيف بن علي العصري .
ب - « الصفات الخبرية عند أهل السنة والجماعة » لمحمد عياش الكبيسي .
ج- « فصول في العقيدة بين السلف والخلف » للدكتور يوسف القرضاوي .
د- « السيف الصقيل في الرد على ابن زفيل » لتقي الدين السبكي ( 756 هـ ) رحمه الله .
ه- « تكملة الرد على نونية ابن القيم » للعلامة الكوثري ( ۱۳۷۱ هـ ) رحمه الله ( حاشية السيف الصقيل )
و- « دفع شبه التشبيه بأكف التنزيه » لابن الجوزي ( 597 هـ ) رحمه الله
. ز- « نجم المهتدي ورجم المعتدي » لابن المعلم القرشي ( 660 هـ ـ 753 هـ )
ح- ابن تيمية ليس سلفياء؛ لمنصور محمد محمد عويس . ( يريد أن ابن تيمية ليس على منهج السلف في مسألة الصفات ونحوها ) --
ط.« فرقان القرآن بين صفات الخالق وصفات الأكوان » للعلامة سلامة القضاعي ( 1376 هـ )
هذا ، وصلى الله تعالى وبارك وسلم على سيدنا ومولانا محمد خاتم النبيين ، وعلى آله وصحبه أجمعين ، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين .