💐🌿🌻তাকলীদ না করার পক্ষে দলীল🕋🕋🕋
তাকলীদ না করার পক্ষে যাদের কথা দলীল হিসাবে পেশ করা হয়ে থাকেঃ
আমাদের আহলে হাদীস বন্ধুরা অতীতের কয়েকজন আলেমের উক্তির অপব্যবহার করে কারো তাকলীদ করাকে নাজায়েয ও শিরক প্রমাণ করতে চায়। তারা সাধারণত যে কয়জন উলামায়ে কেরামের উক্তিকে নিজেদের পক্ষে উল্লেখ করে থাকেন তারা বাস্তবেই ঐ কথা বলেছেন কিনা বা বলে থাকলেও কার জন্য কোন্ প্রেক্ষাপটে বলেছেন, তা আমরা যাচাই করে দেখার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
তারা সবচেয়ে বেশি যার কথা উল্লেখ করে তিনি হলেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.। অথচ তাকলীদ জায়েয হওয়ার পক্ষে ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এত উক্তি করেছেন যে, তা যদি একত্রিত করা হয়, তাহলে একটি মাঝারি আকৃতির একটি পুস্তক হয়ে যাবে। আমরা তাকলীদ বৈধ হওয়ার পক্ষে তার কয়েকটি উক্তি উল্লেখ করছি:
والذى عليه جماهير الامة ان الاجتهاد جائز فى الجملة والتقليد جائزفى الجملة... والتقليد جائز للعاجز عن الاجتهاد.
‘উম্মাতের অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের মতামত হলো বাস্তবে ইজতিহাদ করা জায়েয আর তাকলীদ করাও জায়েয... যে ব্যক্তি ইজতিহাদ করতে পারে না তার জন্য তাকলীদ করা বৈধ।’ (মাজমূআতুল ফাতাওয়া:২০/২০৩)
ইবনে তাইমিয়া রহ. আরো বলেনঃ
من كان عاجزا عن معرفة حكم الله ورسوله وقد اتبع فيها من هو من اهل العلم والدين ولم يتبين له ان قول غيره ارجح منه فهو محمود يثاب لايذم على ذالك ولايعاقب.
‘যে ব্যক্তি সরাসরি কুরআন-সুন্নাহ থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হুকুম-আহকাম জানতে অক্ষম, সে যদি এ ক্ষেত্রে দ্বীনদার কোনো আলেম (মুজতাহিদ)-এর অনুসরণ করে এবং তার পক্ষে এটা জানা সম্ভব না হয় যে, অন্য ইমামের উক্তি তার অনুসরণীয় ইমামের উক্তির চেয়ে প্রাধান্যপ্রাপ্ত, তবুও সে প্রশংসার যোগ্য এবং সে সাওয়াবের অধিকারী হবে, এই তাকলীদের জন্য তাকে তিরস্কার করা যাবে না এবং আখেরাতেও সে শাস্তিযোগ্য সাব্যস্ত হবে না।’ (মাজমূআতুল ফাতাওয়া:২০/২২৫)
ইবনে তাইমিয়া রহ. এই উক্তি দ্বারা এ কথা পরিষ্কার বুঝে আসে যে, যে ব্যক্তি সরাসরি কুরআন-সুন্নাহ থেকে হুকুম-আহকাম উদঘাটন করতে অক্ষম তার জন্য উচিত হলো দ্বীনদার কোনো মুজতাহিদের তাকলীদ করা । আর এ কথা স্পষ্ট যে, বর্তমান পৃথিবীর হাতেগোনা কয়েকজন বড় বড় আলেম ছাড়া সবার অবস্থাই এমন যে, তারা সরাসরি কুরআন-সুন্নাহ থেকে হুকুম-আহকাম উদঘাটন করার যোগ্যতা রাখে না। তাই ইবনে তাইমিয়া রহ. এর উক্তি অনুযায়ী বর্তমান পৃথিবীর সমস্ত মুসলিমেরই উচিত কোনো না কোনো মাযহাবের তাকলীদ করা।
ইবনে তাইমিয়া রহ. আরো বলেনঃ
المقلد يقلد السلف اذ القرون المتقدمة افضل مما بعدها.
‘যারা তাকলীদ করবে তাদের জন্য উচিত হলো সালফে সালেহীনের তাকলীদ করা। কারণ পূর্বের শতাব্দী পরবর্তী শতাব্দী থেকে উত্তম।’ (মাজমূআতুল ফাতাওয়া:২০/৯)
ইবনে তাইমিয়া রহ. আরো বলেনঃ
مسائل الاجتهاد من عمل فيه بقول بعض العلماء لم ينكر عليه ولم يهجر واذا كان فى المسألة قولان فان كان الانسان يظهرله رجحان احد القولين عمل به والا قلد بعض العلماء الذين يعتمد عليهم.
‘ইজতিহাদী মাসাইলের মধ্যে যদি কেউ কোনো আলেম (মুজতাহিদ)-এর উক্তি অনুযায়ী আমল করে, তাহলে তাকে কোনো দোষ দেওয়া যাবে না এবং তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে না। যদি কোনো মাসআলার ক্ষেত্রে দুই ধরনের উক্তি থাকে আর সে যদি এমন হয় যে, তার কাছে কোনো এক উক্তি (দলীলের বিবেচনায়) প্রাধান্য পায়, তাহলে সে সে অনুযায়ী আমল করবে, অন্যথায় যে আলেমের উপর তার আস্থা হয় তার তাকলীদ (অনুসরণ) করবে।’ (মাজমূআতুল ফাতাওয়া:২০/২০৭)
ইবনে তাইমিয়া রহ. এর উপরোক্ত উক্তিসমূহের সারকথা এই যে, তিনি এমন যোগ্যতাসম্পন্ন আলেমকে তাকলীদ করতে নিষেধ করেছেন, যে নিজেই কুরআন-সুন্নাহ ঘেটে পূর্ববর্তী ইমামদের উক্তির মধ্যে থেকে প্রাধান্যপ্রাপ্ত ও অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত নির্ণয় করতে পারে। আর যার এমন যোগ্যতা নেই তাকে তিনি তাকলীদ করতে বলেছেন। অতএব, ব্যাপকভাবে এ কথা বলা যে, ইমাম ইবনে তাইমিয়া তাকলীদকে নাজায়েয বলেছেন তা তাঁর উপর অপবাদ বৈ কিছু নয়।
ইবনুল কাইয়্যিম ও তাকলীদঃ
আহলে হাদীস ভাইয়েরা তাকলীদ করা যাবে না মর্মে ইবনুল কাইয়্যিম রহ. এর উক্তি বেশ জোশের সাথে উল্লেখ করে থাকে। অথচ তাকলীদ সম্পর্কে ইবনুল কাইয়্যিম রহ. এর অবস্থান পরিষ্কার নয়। কারণ তিনি ‘ইলামুল মুআক্কিয়ীন’-এ তাকলীদ সম্পর্কে পরস্পর বিরোধী কথা বলেছেন। তাকলীদ আলোচনার শুরুতেই তিনি বলেনঃ
ذكر تفصيل القول فى التقليد. وانقسامه الى ما يحرم القول فيه والافتاء به والى ما يجب المصير اليه و الى مايسوغ من غير ايجاب.
‘তাকলীদের বিস্তারিত আলোচনাঃ তাকলীদ কখনো হারাম, কখনো ওয়াজিব ও কখনো জায়েয হয়, এই তিন প্রকার তাকলীদের বর্ণনা।’ (ই‘লামুল মুআক্কিয়ীন:২/১৬৮)
ইবনুল কাইয়্যিম রহ. উপরিউক্ত কথা দ্বারা বুঝা যায় যে, তাঁর মতে তাকলীদ তিন প্রকারঃ ১. এমন তাকলীদ যা হারাম। হারাম তাকলীদের মধ্যে তিনি আলাদাভাবে তিন প্রকার তাকলীদকে উল্লেখ করেছেনঃ ক. আল্লাহ তা‘আলার হুকুম থেকে বিমুখ হয়ে বাপ-দাদার অন্ধ অনুকরণ। খ.এমন ব্যক্তির তাকলীদ করা যার সম্পর্কে জানা নেই যে, সে বাস্তবে তাকলীদের উপযুক্ত কি না? গ. দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে অনুসৃত ইমামের মতামত কোনো ক্ষেত্রে ভুল প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও তার তাকলীদ করা।
এই তিন ধরনের তাকলীদকে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহ. হারাম বলেছেন। আমরাও এই তিন প্রকার তাকলীদ হারাম হওয়ার ব্যাপারে তাঁর সাথে একমত। আমরাও বাপ-দাদার অন্ধ অনুসরণকে জায়েয বলি না, আর এমন ইমামের তাকলীদ আমরা করি না বা করতে বলি না যার অবস্থা সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। আর ইমামের কোনো মতামত দলীল প্রমাণের আলোকে ভুল প্রমাণিত হওয়ার পরও সেক্ষেত্রে আমরা তার তাকলীদ করাকে জায়েয মনে করি না। মোটকথা ইবনুল কাইয়্যিম রহ. এর এই মতামতের সাথে আমাদেরও কোনো বিরোধ নেই।
এই আলোচনার একটু পরে তিনি বলেনঃ
واما تقليد من بذل جهده فى اتباع ما انزل الله وخفى عليه بعضه فقلد فيه من هو اعلم منه فهذا محمود غير مذموم ومأجور غيرمأزور كما سيأتى بيانه عنده ذكر التقليد الواجب والسائغ ان شاءالله.
‘আল্লাহ তা‘আলা যা নাযিল করেছেন তা অনুসরণ করার ব্যাপারে যে ব্যক্তি নিজ সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে, আর যে বিষয়গুলো নিজে বুঝতে পারে না সে বিষয়ে তার চেয়ে বেশি কারো তাকলীদ করে, তাহলে সে প্রশংসনীয় কাজ করলো তাকে তিরস্কার করা হবে না, সে ছাওয়াব পাবে, গুনাহ হবে না। এর বিস্তারিত বর্ণনা ওয়াজিব ও জায়েয তাকলীদের আলোচনায় আসছে।’ (ই‘লামুল মুআক্কিয়ীন:২/১৬৯)
ইবনুল কাইয়্যিম রহ. এর এই উক্তি মূলত ঐ বড় আলেমের জন্য যে নিজে নিজেই কুরআন-সুন্নাহ থেকে হুকুম আহকাম উদঘাটন করতে পারে। যে অংশ তার বুঝে আসে না সে ক্ষেত্রে অন্য কোনো বড় আলেমের তাকলীদ করে।
আমাদের মতামতও এক্ষেত্রে ইবনুল কাইয়্যিম থেকে ভিন্ন নয়। কারণ এমন আলেম যে সরাসরি কুরআন-সুন্নাহ থেকে হুকুম-আহকাম উদঘাটন করতে পারে (যার মধ্যে একধরনের ইজতিহাদের যোগ্যতা এসে গেছে) তার জন্য আমরা নির্দিষ্ট কোনো ইমামের তাকলীদকে জরুরী বলি না।
এতটুকু পর্যন্ত ইবনুল কাইয়্যিম রহ. কথা ঠিক ছিল। কিন্তু এরপর তিনি ৮০-৯০ পৃষ্ঠা ব্যাপী দীর্ঘ আলোচনা করে সব ধরনের তাকলীদকে নাজায়েয ও হারাম প্রমাণের প্রাণান্তকর চেষ্টা করেছেন। এমন কি এমন সাধারণ মুসলিম যে কুরআন সুন্নাহ সম্পর্কে কিছুই জানে না সেও যদি তাকলীদ করে তাকেও তিনি মূর্খ ও গোমরাহ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেনঃ
المقلد ان كان يعرف ما انزل الله على رسوله فهو مهتد وليس بمقلد وان كان لم يعرف ما انزل الله على رسوله فهو جاهل ضال باقراره على نفسه. اعلام الموقعين:٢/١٧٠
এখানে তিনি তাকলীদ ও মুকাল্লিদদের সমালোচনায় এত নিমগ্ন হয়ে গেছেন যে, ইতোপূর্বে ওয়াজিব ও জায়েয তাকলীদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে যে ওয়াদা তিনি করেছিলেন, তাও বে-মালুম ভুলে গেছেন। এই দীর্ঘ প্রায় ৯০ পৃষ্ঠার আলোচনায় তিনি ওয়াজিব ও জায়েয তাকলীদ সম্পর্কে কোনো আলোচনাই আর করেন নি।
তাকলীদ সম্পর্কে ইবনুল কাইয়্যিম রহ. এর আলোচনা মনোযোগসহ যে-ই অধ্যায়ন করবে, তার জন্য এই ফলাফলে পৌঁছা কষ্টকর হবে না যে, তাকলীদ সম্পর্কে ইবনুল কাইয়্যিম রহ. এর মতামত অসম্পূর্ণ ও পরস্পর বিরোধী। কোনো আলেমের অসম্পূর্ণ ও পরস্পর বিরোধী মতামতকে নিজেদের পক্ষের বড় দলীল মনে করা চরম মূর্খতা ছাড়া আর কী হতে পারে! অবশ্য তার কথা দ্বারা এতটুকু প্রমাণিত হয়েছে যে, তার মতে তাকলীদের এমন একটি প্রকার আছে যা জায়েয, আর এমন একটি প্রকারও আছে যা ওয়াজিব। কিন্তু তিনি মুকাল্লিদদের দোষ বর্ণনা করতে গিয়ে সেগুলোর আলোচনা ভুলে গেছেন।
শায়েখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব ও তাকলীদঃ
আহলে হাদীস ভাইদের কাছে তাকলীদ না করার ব্যাপারে আরেকজন মান্যবর ব্যক্তি হলেন শায়েখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব রহ.। তাকলীদ করা যাবে না মর্মে তারা মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব রহ. এর উক্তিও দলীল হিসাবে পেশ করে থাকেন। অথচ আমাদের জানা মতে মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব নজদী রহ. চার মাযহাবের মধ্য থেকে কোনো মাযহাবের তাকলীদ করতে নিষেধ করেননি। বরং তিনি নিজে, তার পুত্র ও তার সিলসিলার (সালাফী সিলসিলার) অন্যান্য আলেমগণ সবাই ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. এর মাযহাবের অনুসারী ছিলেন।
শায়েখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব তাঁর উপর উত্থাপিত কিছু অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে বলেনঃ
منها قوله انى مبطل كتب المذاهب الاربعة وانى اقول ان الناس من ست مائة سنة ليسوا على شي ء وانى ادعى الاجتهاد وانى خارج عن التقليد... جوابى عن هذه المسائل ان اقول : سبحانك هذا بهتان عظيم.
‘সে সব অভিযোগের মধ্য থেকে কয়েকটি এইঃ আমি না কি বলি ১. চার মাযহাবের কিতাবসমূহ বাতিল ২. হিজরী ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে মুসলমানরা ভিত্তিহীন জিনিসের উপর আমল করে আসছে ৩. আমি মুজতাহিদ হওয়ার দাবীদার, আমি তাকলীদ করি না । এসব অভিযোগের জবাবে আমি শুধু এতটুকুই বলবো, আল্লাহর কসম এগুলি সবই আমার উপর আরোপিত অপবাদ বৈ কিছু নয়।’ (আররাসাইলুশ শাখসিয়া:পৃ.৪)
শায়েখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব রহ. এর পুত্র শায়েখ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ যিনি পিতার মৃত্যুর পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন, তিনি বলেনঃ
ونحن ايضا فى الفروع على مذهب الامام احمد بن حنبل رحمه الله ولا ننكر على من قلد احد الاربعة دون غيرهم لعدم ضبط مذاهب الغير.
‘ফিকহী মাসাইলের ক্ষেত্রে আমরা আহমদ বিন হাম্বল রহ. এর তাকলীদ করা। আর যে ব্যক্তি চার মাযহাবের মধ্যে থেকে কোনো একটির তাকলীদ করে আমরা তার উপর কোনো অভিযোগ করি না। তবে আমরা (চার মাযহাব ছাড়া) অন্য কোনো মাযহাবের উপর চলতে দেই না কারণ, অন্য মাযহাব সংকলিত ও সংরক্ষিত নয়।’ (আদ্দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজবিবাতিন নাজদিয়্যাহ:১/২২৭)
শায়েখ মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহাব রহ. এর সিলসিলার একজন বড় আলেম ও দাঈ শায়েখ মুহাম্মাদ আল উসাইমীন রহ. তাকলীদের দুইটি প্রকার উল্লেখ করতে গিয়ে বলেনঃ
احدها ان يكون المقلد عاميا لا يستطيع معرفة الحكم بنفسه ففرضه التقليد.
‘তাকলীদের একটি প্রকার হলো; তাকলীদকারী এমন সাধারণ লোক হওয়া, যে নিজে নিজে (কুরআন-সুন্নাহ থেকে) বিধান উদঘাটন করতে পারে না, সে ক্ষেত্রে তার ফরয হলো তাকলীদ করা।’ (আল উসূল মিন ইলমিল উসূল:পৃ.৮৭)
সারকথা, নির্ভরযোগ্য সমস্ত উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত যে, সাধারণ মুসলিমদের জন্য চার মাযহাবের যে কোনো এক মাযহাবের তাকলীদ করা জরুরী। তবে কুরআন-সুন্নাহ উপর বিশেষ পাণ্ডিত্যের অধিকারী আলেমের নিকট যদি তার অনুসৃত ইমামের কোনো বিশেষ মাসআলা নিজ গবেষণা অনুযায়ী কুরআন সুন্নাহর অন্য কোনো দলীলের বিরোধী সাব্যস্ত হয়, সে ক্ষেত্রে তার জন্য ঐ মাসআলার মধ্যে চার মাযহাবের মধ্য থেকে অন্য কোনো মাযহাব মানার এখতিয়ার থাকবে। বরং ইমামের মত নিশ্চিতভাবে ভুল প্রমাণিত হলে,তার জন্য ঐ মাসআলায় নিজ গবেষণা অনুযায়ী অন্যমত গ্রহণ করা ওয়াজিব হয়ে যাবে।
আমাদের আহলে হাদীস বন্ধুরা বাংলা বই থেকে দুই একটি হাদীসের অনুবাদ পড়ে নিজেকে কুরআন-সুন্নাহের ব্যাপারে বিশেষ পাণ্ডিত্যের অধিকারী মনে করলে তাদেরকে কিছু বলার মতো ভাষা আমাদের নেই। আহলে হক উলামায়ে কেরাম ৫০-৬০ বছর যাবৎ লাগাতার কুরআন-সুন্নাহ অধ্যয়ন করার পরও নিজেকে ঐ স্তরের বিজ্ঞ আলেম মনে করার সাহস পায় না যাদের জন্য ক্ষেত্রবিশেষে ইমামের মতের বিরূদ্ধে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অথচ আহলে হাদীস বন্ধুরা দু‘চারটা হাদীস মুখস্থ করে নিজেকে কেমন যেন সেই পর্যায়ের আলেম ভাবতে শুরু করে দেয়। আল্লাহ তা‘আলার কাছেই সকল অভিযোগ।
আহলে হাদীস বন্ধুরা যদিও তাকলীদ না করার দাবি করে, কিন্তু বাস্তবে তারা আহলে হাদীস পণ্ডিতদের তাকলীদ করে থাকে। কারণ, আহলে হাদীস পণ্ডিতরা যা বলে দেয় সাধারণ আহলে হাদীস ভাইয়েরা অন্ধের মত তাই মুখস্থ করে বলে বেড়ায়। তাহলে দেখা যাচ্ছে, আহলে হাদীস ভাইয়েরা তাদের পণ্ডিতদের তাকলীদ করছে, আর আমরা মাযহাব অনুসারীরা নিজ নিজ ইমামের তাকলীদ করছি। সাধারণ আহলে হাদীস ভাইদের কাছে আমাদের প্রশ্ন, খাইরুল কুরুনের ইমাম, ইমাম আজম আবূ হানীফা রহ. এর তাকলীদ করা উত্তম নাকি বর্তমান যমানার স্কলার আহলে হাদীস পণ্ডিতদের তাকলীদ করা উত্তম? আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।
ইনশা আল্লাহ ধারাবাহিক আলোচনা চলবে🌹🌿