নির্ধারিত কোন মাজহাব না নেমে সকল মাজহাব থেকে অধিক শক্তিশালী মতটা গ্রহণ করা একটা বৃথা প্রচেষ্টা ও অরণ্য রোদন বৈ কিছু না।
কারণ,
১. অধিক শক্তিশালী মতটা স্পষ্ট ও নির্ণয় করার মতো বিষয় হলে, চার মাজহাব আবিস্কার হওয়ার কোন প্রয়োজন ছিলো না। দরকার ছিলো না এতো মত-পথ তৈরী হওয়ার।
২. অধিক শক্তিশালী মতটা স্পষ্ট হলে এযাবৎ সকল শক্তিশালী মত নিয়ে একটা মাজহাব প্রণয়ন হতো। যেটার নাম হতো শক্তিশালী মাজহাব। কিন্তু, ইতিহাসে এই শক্তিশালী মাজহাব এখনো জন্ম হয় নাই।
৩. অধিক শক্তিশালী মতটা সহসা বের করার মতো হলে এই অধিক শক্তিশালী মত-সমগ্র নিয়ে ফিকহী বই রচিত হতো। কিন্তু, মতানৈক্যর উর্ধ্বে উঠে এযাবৎ নিরংকুশ এমন কোন ফিকহি বই রচনা হয় নাই।
যেমন ধরুন -
সহীহ হাদিসের আলোকে নামাজ নিয়ে রচিত বাংলাদেশের দু'জন প্রখ্যত সালাফী আলিমের বই আছে। দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে, উভয়ের চিন্তা সহীহ হাদীস ও অধিক শক্তিশালী মত গ্রহণ করা থাকা সত্ত্বেও উভয় বইয়ের মধ্যে মতানৈক্য পাওয়া যায়।
তাছাড়া, আহলে হাদিস ও সালাফী আলেমদের মধ্যকার ইখতেলাফ নিয়ে রচিত হয়েছে একটা বই বাংলা ভাষায়। আপনারা বইটি পড়লে বুঝতে পারবেন যে, অধিক শক্তিশালী মাজহাব তৈরী করতে গিয়ে আরো কতো শত শত মাজহাব ও মত যে তৈরী হয়েছে, আল্লাহ মা'লুম। ( বইয়ের ছবি কমেন্ট বক্সে দিচ্ছি )
শেষ করছি, বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সালাফী আলেম শায়খ কাজী ইবরাহীম সাহেবের একটা উদ্ধৃতি দিয়ে। তিনি কোন এক বক্তব্যে বলেন -
" বাংলাদেশে আহলে হাদিসই এখন ১৯ দলে বিভক্ত। তারচেয়ে ভালো ছিল তো চার মাজহাব। "
সচেতন ও বিজ্ঞা পাঠক মহল অবশ্যই ক্রিটিকাল থিংক ও এথিক্স থেকে বুঝতে পারছেন যে, মুখে যেরকম বলা হয়ে থাকে অধিক শক্তিশালী মত গ্রহণ করা ; কাজে সে'রকম সহজ না। বিষয় এতোটা সহজ হলে সহীহ হাদিস ও শক্তিশালী মত গ্রহণের নামে বাংলাদেশে আহলে হাদিস আলেমগণ ১৯ দলে ( ইবরাহিম স্যারের বক্তব্যের আলোকে ) বিভক্ত হওয়ার কথা ছিলো না।
বিঃদ্র- অবশ্যই বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ আলেমদের হিসাব আমার এই পোস্টের বাহিরা। লেখাটি উদ্দেশিত হয়েছে, সাধারণ আম লোকের জন্য।