আমি চোখ বন্ধ করে কেনো শুধুমাত্র হানাফি ফিকহ অনুসরণ করব????

আমি চোখ বন্ধ করে কেনো শুধুমাত্র হানাফি ফিকহ অনুসরণ করব???? 
সালাফিজম ভাইরাসের অন্তরালে আহালে হাদীস হব না, কেন সেই জবাবও পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। 
-
দিনলিপি-১৫২৯
(০৪-০১-১৯)
হানাফী মাযহাব!
শাইখ আতিক উল্লাহ হাফি.
-
আজ মসজিদে খতীব সাহেবের বয়ানে একটা কথার রেশ ধরে, আমাদের হানাফী ফিকহ সম্পর্কে কিছু চিন্তা মাথায় এল,
১: হানাফি ফিকহের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হল, একদম শুরু থেকেই হানাফী ফিকহ অত্যন্ত বিন্যস্ত আর সুসমন্বিত। কুরআন কারীম, সুন্নাহ ও আকলি (বুদ্ধিবৃত্তিক) দলীল দ্বারা সমৃদ্ধ। এটা সম্ভব হয়েছে, কারণ ইমাম আযম রহ. শিক্ষক জীবনের শুরুতেই তার মেধাবী ছাত্রদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ফিকহ বোর্ড গঠন করেছিলেন। প্রতিটি মাসয়ালাকে বোর্ডের সদস্যগন চুলচেরা বিশ্লেষণ করতেন। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরখ করে দেখতেন। 
২: এই বোর্ডের সদস্যগন মতামত প্রকাশে এতটাই স্বাধীন ছিল, কেউ ভিন্নমত প্রকাশ করলে, সেটাও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হত এবং লিখে রাখা হত। 
৩: ইমামে আযমের ফিকহবোর্ডে যেসব শাগরিদ-সদস্য ছিলেন, তারা সবাই এতবেশি যোগ্য ছিলেন, প্রত্যেকেই চাইলে আলাদা মাযহাবের ইমাম বনে যেতে পারতেন। কিন্তু ওস্তাদের সম্মানে করেননি। শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাব বলতে গেলে, হানাফী মাযহাবেরই ছাত্র। 
৪: বাকি তিন মাযহাব (মালেকী-শাফেয়ী-হাম্বলি)-এর এই সৌভাগ্য হয়নি। তাদের এমন সক্রিয় ফিকহবোর্ড ছিল না। শুরুতেই এত বেশি যোগ্য ছাত্রের সমাহারও বাকি তিন মাযহাবে ঘটেনি। 
৫: হানাফী ফিকহের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, বাকি তিন ইমামের বক্তব্য (ফতোয়া) তাদের জীবদ্দশায়, তাদের ছাত্রদের দ্বারা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়নি। হলেও কম হয়েছে। কিন্তু ইমাম আযমের অনেক বক্তব্য তার দরসেই চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। যাচাই-বাছাই হয়েছে। ইমাম আযমের কিছু বক্তব্য (ফতোয়া) তার শাগরিদগন গ্রহণ করেননি। কুরআন সুন্নাহ ও আকলী (বুদ্ধিবৃত্তিক) দলীলের আলোকেই তারা ওস্তাদের বক্তব্যকে রদ (রিফিউট) করেছেন। এখনো ইমাম আযমের কিছু বক্তব্যকে পাশ কাটিয়ে, তার ছাত্রদের বক্তব্য অনুযায়ী ফতোয়া দেয়া হয়। এমনটা কিন্তু অন্য মাযহাবে বিরল। কুরআন ও সুন্নাহকে বোঝার এমন উদারনৈতিক উন্মুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা অন্য তিন মাযহাবে, এতটা পোক্তভাবে ছিল না। খোদ ওস্তাদের বক্তব্যকে পাশ কাটানোর মত ইলমি হিম্মত অন্য মাযহাবেও ছিল, তবে এতটা শক্তিশালী আর গোছালোভাবে ছিল না। 
৬: ইমামে আযম তার ওস্তাদ হাম্মাদ রহ.-এর দরবারে ১৮ বছর ছিলেন। ওস্তাদের জীবদ্দশায় নিজে আলাদা হয়ে পড়াতে বসে যাননি। তিনি নিজের শিক্ষক জীবনে এসে এর বরকত পেয়েছিলেন। তার শাগরিদগনও কেউ ইমাম আযমের জীবদ্দশায় আলাদা করে পাঠদান মজলিস কায়েম করেননি। মজার ব্যাপার হল, ইমাম আযম একবার ওস্তাদ হাম্মাদ রহ.-কে ছেড়ে, আলাদা মজলিস কায়েম করেছিলেন। কিন্তু ওস্তাদের সামনে আলাদা দরস দিতে গিয়ে মনোবেদনায় ভুগছিলেন। তাই আবার ওস্তাদের মজলিসে ফিরে এসেছেন। ইমাম আবু ইউসুফও এমনটা করেছিলেন। পরে আবার ওস্তাদের মজলিসে ফিরে এসেছেন। আমার মনে হয়, ইমাম আযম নিজ ওস্তাদের সাথে এমনটা করেছিলেন, প্রতিফলে তার ছাত্রও তার সাথে এমনটা করেছে। শোধবোধ হয়ে গেছে। 
৭: ইমাম আযমের ফিকহ বোর্ডের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ইমাম যুফার রহ.-এর মতো পরম শানিত যুক্তিবাদী মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি। ইমাম যুফার প্রথম দিকে ‘আহলুল হাদীস’ ছিলেন। অনেক খুঁজেও একটি মাসয়ালার উত্তর পাচ্ছিলেন না। কেউ একজন পরামর্শ দিল, নুমান বিন সাবিত (আবু হানীফা)-এর মাজলিসে যাও। এই মাসয়ালার উত্তর আর কেউ দিতে পারবে না। ইমাম যুফার রহ. হাজির হলেন ইমাম আযমের দরবারে। প্রশ্ন করলেন। ইমাম আযম সাথে সাথে উত্তর দিয়ে দিলেন। ইমাম যুফার যারপরনাই অবাক। প্রশ্ন করলেন, 
-আপনি এই উত্তর কোথায় পেয়েছেন? 
ইমাম আযম বললেন, অমুক হাদীস থেকে বের করেছি উত্তরটা। ইমাম যুফার স্বগতোক্তি করলেন, কী আশ্চর্য! হাদীসটা আমি কতবার পড়েছি, কই আমার মাথায় তো এই ‘ইজতিহাদ’ আসেনি। এরপর আর কোথাও যাননি। ইমাম আযমের দরসে বসে গেছেন। 
৮: ছাত্র যোগ্য হয়ে ওঠার পর, ওস্তাদের মজলিস থেকে আলাদা হয়ে, স্বতন্ত্রভাবে পড়াতে বসে যাওয়াই স্বাভাবিক রীতি। কিন্তু ইমামে আযমের শাগরিদগনের আজীব এক বৈশিষ্ট্য হল, তারা ওস্তাদের জীবদ্দশায় ওস্তাদকে ছেড়ে আলাদাভাবে দরস দেয়ার কথা ভাবেননি। 
৯: ইমাম যুফার রহ. ওস্তাদ আবু হানীফা রহ.-এর মজলিসে ২০ বছর ছিলেন। ইমাম যুফারের মতো এমন প্রখর বুদ্ধিবৃত্তির অধিকারী একজন মানুষ যখন ওস্তাদের দরবারে একটানা এতদিন পড়ে থাকেন, তাহলে ধরেই নিতে হয়, এটা এক বিশেষ ঘটনা। আমরা যেমনটা মনে করি, ওস্তাদের কাছে ছোটবেলা থেকে ২০ বছর ছিলেন, এমন নয়। ইমাম যুফার শরীয়তের বিভিন্ন বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করার পরই ইমাম আযমের দরবারে এসেছিলেন। 
১০: হানাফী মাযহাবের প্রধান বৈশিষ্ট্য কি? 
-কুরআনকেন্দ্রিকতা। হানাফী মাযহাব কুরআনকে প্রাধান্য দানকারী মাযহাব। খেয়াল করে দেখেছি, ইমাম আযম একটি মায়সালার স্বপক্ষে দলীল দাঁড় করাতে গিয়ে, প্রথমে কুরআনের আয়াতকে সামনে আনেন। এই আয়াতকে মূলকেন্দ্রে রেখে, আয়াতের ব্যাখ্যায় সংশ্লিষ্ট হাদীসের দ্বারস্থ হন। 
-তাহলে অন্য মাযহাব কি তাদের মাসয়ালার স্বপক্ষে কুরআন কারীমকে প্রাধান্য দেন না?
-জ্বি, দেন। তবে সূক্ষ্ণ একটা পার্থক্য আছে। হানাফী ইমামগন, কুরআনি আয়াতের উমূমকে (ব্যাপকতাকে) অক্ষুন্ন রেখেই সংশ্লিষ্ট হাদীসের ব্যাখ্যা করেন। যে কোনও মূল্যে আয়াতের উমূমিয়্যত (ব্যাপকতাকে) অক্ষুন্ন রাখার চেষ্টা করেন। সংশ্লিষ্ট কোনও হাদীস যদি কুরআনী আয়াতের উমূমিয়্যতবিরোধী বক্তব্য ধারণ করে, সেক্ষেত্রে আয়াতের উমূমিয়্যত অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে, উক্ত হাদীসটির গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। হাদীসের এই ব্যাখ্যা করাকেই অনেকে না বুঝে, হাদীসবিরোধিতা বা হাদীস না জানা বলে চালিয়ে দেয়। 
১১: অন্য মাযহাবেও (মানে শাফেয়ী মাযহাবে) কুরআনী আয়াতের ব্যাখ্যায় হাদীসকে সামনে আনা হয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, আয়াতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হাদীসকে গ্রহণ করতে গিয়ে, কুরআনের উমূমিয়্যতে সংকোচন এসে গেছে। একটা উদাহরণ দেয়া যাক, 
وَإِذَا قُرِئَ ٱلۡقُرۡءَانُ فَٱسۡتَمِعُوا۟ لَهُۥ وَأَنصِتُوا۟
কুরআন পাঠকালে, তোমরা মনোযোগ দিয়ে শোন ও চুপ থাক (আ‘রাফ ২০৪)। 
হানাফি ইমামগনের মতে, নামাযে যেহেতু ইমাম সাহেব কেরাত (আস্তে বা জোরে) পড়ছেন, তাই মুক্তাদি সম্পূর্ণ চুপ থাকবে। নিজ থেকে কিছু পড়বে না। এটাই কুরআনের দাবি। কুরআন চুপ থাকতে বলেছে, তাই চুপ থাকতে হবে। 
-এর উত্তরে কেউ বলতে পারে, অন্য দুই মাযহাবে তো কুরআন পড়ার সময় সূরা ফাতিহা পড়া হয় না। ইমাম সাহেব সূরা ফাতিহা পড়ে একটু থামেন, সেই ফাঁকে মুক্তাদিগন সূরা ফাতিহা পড়ে নেন। 
-এমন হলেও কুরআনের ব্যাপকতায় সংকোচন আসে। একটানা কুরআন কারীম পড়ার মাঝে একটু থামার ব্যবস্থা করে, মুক্তাদিকে পড়ার সুযোগ করে দেয়া, একধরনের জোর করে সুযোগ আদায় করে নেয়ার মত। 
১২: অন্য মাযহাবে (শাফেয়ী-হাম্বলী)-ও এই আয়াত সামনে রাখা হয়। কিন্তু তারা আয়াতের ব্যখ্যায় সেই বিখ্যাত হাদীস (لا صَلاةَ لمَن لَم يقرَأ فيها بِفاتِحَةِ الكِتابِ) আনেন। সূরা ফাতিহা না পড়লে, নামাজ হবে না। তার মানে তারা বলেন, মুক্তাদি চুপ থাকবে না। সূরা ফাতিহা পড়বে। ব্যাপার দাঁড়াল এই, তারা হাদীস দিয়ে কুরআনের ব্যাপকতাকে ক্ষুন্ন করেছেন। প্রশ্ন হতে পারে, এই ক্ষুন্ন করা কি গুনাহ? জ্বি না, গুনাহ হবে না। এটা তাদের ইখলাসপূর্ণ ‘ইজতিহাদ’। ইজতিহাদ গুনাহ নয়। 
১৩: হানাফী ইমামগন সূরা আরাফের আয়াতটিকে সামনে রেখে বলেন, আল্লাহ বলেছেন, কুরআন পড়ার সময় চুপ থাকতে। তাই আমরা চুপ থাকব। তাহলে সূরা ফাতিহা পড়ার হাদীসটা? জ্বি, সে হাদীসের উপর আমল করব, যখন আমি একাকি নামায পড়ব তখন। তাহলে কুরআনী আয়াতের উমূমিয়্যত (ব্যাপকতা)-ও অক্ষুন্ন থাকল, হাদীসের উপরও আমল হল। 
১৪: এককথায় বলতে গেলে, হানাফী মাযহাব ‘কুরআনপ্রধান মাযহাব’। যারা বলেন, হানাফীদের নামায হয় না। তারা মূলত কুরআন কারীমের বিরুদ্ধেই কথা বলেন। অতি ভয়ংকর ব্যাপার। সাবধান হওয়া উচিত। কুরআন বলেছে চুপ থাকতে, তাই হানাফীগন চুপ থাকেন। আর আপনি সেই কুরআন কারীমের অনুসরণকে ‘ভুল’ বলছেন?  
১৫: ইমাম আযম ও তার শাগরিদগনের ফিকহ বোর্ড কুরআন কারীমকে যে গভীর তাদাব্বুরের সাথে বুঝেছেন, সেভাবে উম্মাহর আর কোনও জামাত বুঝেছে, তার প্রমাণ ইসলামের ইতিহাসে নেই। বিশেষ করে বিধান সম্বলিত আয়াতগুলোর বুঝ। হানাফীদের নামায না হওয়ার কথা বলা মানে, সর্বকালের সেরা কুরআনি জামাতের বিরুদ্ধে কথা বলা। এটা যে কতবড় ধৃষ্টতা, বলে বোঝানো মুশকিল।
১৬: ইমাম আযম ও তার শাগরিদগন হানাফী মাযহাবকে যে সুদৃঢ় ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে গেছেন, এরপর আর নতুন করে কেনও মাযহাবের উদ্ভব হওয়ার কথা কল্পনাও করা যেত না। তারপরও দু’টি মাযহাব (শাফেয়ী ও হাম্বলী)-এর উদ্ভব হয়েছে। এটা কি করে সম্ভব হল? 
-এই প্রশ্নের উত্তরে, আল্লাহ তা‘আলার সেই অবিনশ্বর ‘সুন্নাহ’ বা কর্মনীতিকে আলোচনায় আনতে হয়। তা হল, আল্লাহ তা‘আলার ‘দফা’ (دفع) নীতি। তিনি কোনও একটি দল-জাতি-রাষ্ট্রকে নিরংকুশ স্বাধীনতায় বাড়তে দেন না। হকদল হলেও, তাদেরকে দফা’ করার জন্য আরেকটি হকদল বা আরেকটি বাতিল দল দাঁড় করিয়ে দেন। ইমাম আযমের ইজতিহাদের এমন দুর্ভেদ্য দেয়ালকে ভাঙার জন্যই আল্লাহ তা‘আলা তার দফা’ নীতির আলোকে ইমাম শাফেয়ী রহ.কে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। এটা আমার একান্তই নিজস্ব ভাবনা, ভুল হতে পারে। ইমাম শাফেয়ী রহ. এসে যদি জোরেশোরে হাদীসের চর্চা শুরু না করতেন, তাহলে মুসলিম উম্মাহ হানাফী আগ্রাসনে (!) সুন্নাহর চর্চা থেকে আস্তে আস্তে দূরে সরে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা ছিল। 
১৭: আগে হানাফী ছিলেন, পরে অন্যদিকে চলে গেছেন, এমন কারো কথা শুনলে, বড্ড কৌতুহল নিয়ে তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করি। আলিম হলে, বোঝার চেষ্টা করি, তিনি আদৌ হানাফী ফিকহ ও উসুলে ফিকহ বুঝেছেন তো? হানাফী ফিকহ ও উসুলে ফিকহ গভীরভাবে বুঝেছেন, তারপরও হানাফী মাযহাব ছেড়ে অন্য দিকে গেছেন, এমন মানুষ খুঁজে বেড়াই। এখনো পর্যন্ত পাইনি। আমি না পাওয়ার মানে এই নয়, এমন কারো অস্তিত্ব নেই। নিজে অযোগ্য হওয়ার কারণে, তাদের বিষয়টা ভালোমত ঠাহর করে উঠতে পারি না। 
১৭: তাহলে কি হানাফী মাযহাব ছেড়ে অন্য দিকে যাওয়া খারাপ? জ্বি না, খারাপ বলিনি। কৌতুহলের সাথে লক্ষ্য করি বলেছি। তারা কেন হানাফী মাযহাব ছেড়ে অন্য দিকে যান, তার কারণ বোঝার চেষ্টা করি বলেছি। চার মাযহাবই হক। এমনকি যারা মাযহাব মানেন না, পাশাপাশি মাযহাবকে অবজ্ঞাও করেন না, তারাও হকের উপর আছেন। আর সত্যি বলতে কি, দুনিয়াতে ফিকহের ক্ষেত্রে, চার মাযহাবের বাইরে কোনও মুসলমানের অস্তিত্বই নেই। যারা বলে আমরা কোনও মাযহাব মানিনা, তারা মূলত শাফেয়ী ফিকহ অনুসরণ করেন। বাইরে মোড়কটা থাকে হাম্বলী মাযহাবের। আরও খোলাসা করে বলতে গেলে, ইসলামি দুনিয়ায় মাযহাব মূলত দুইটি। হানাফী ও শাফেয়ী। ৯০% ভাগেরও বেশি মাসয়ালা এই দুই মাযহাব অনুযায়ীই হয়ে থাকে। মালেকি মাযহাবের কিছু মাসয়ালা হানাফীদের মতো। কিছু মাসয়ালায় শাফেয়ীদের মতো। আর হাম্বলি মাযহাবের বেশিরভাগ মাসয়ালাই শাফেয়ী মাযহাবের মতো। 
১৮: হানাফীরা কেন আকীদায় মাতুরিদী, সেটা নিয়ে রাব্বে কারীম তাওফীক দিলে, আরেকদিন নিজের অসম্পূর্ণ ভাবনা তুলে ধরব। আপাতত এটুকু বলি, ফিকহের মতো আকীদার ক্ষেত্রেও হানাফী মুজতাহিদগন কুরআন কারীমকে মূল ধরে, অন্য দিকে অগ্রসর হন। 
১৯: আর হাঁ, ইমাম যুফার রহ. ছিলেন ইমাম আযমের শাগরিদের মধ্যে সবচেয়ে বর্ণিল চরিত্র। তাকে নিয়ে আলোচনা এত কম হওয়ার কারণ হল, তিনি বেশিদিন বাঁচেননি। (আমার জানামতে) মাত্র ৪৮ বছর বয়েসেই ইন্তেকাল করেছিলেন। তিনি বেঁচে থাকলে হানাফী মাযহাব সত্যিকার অর্থেই অন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে যেত। ইমাম শাফেয়ী রহ.-কে আগে বাড়ানোর জন্যই বোধ হয়, রাব্বে কারীম হানাফী মাযহাবের এই দিকপালকে তাড়াতাড়ি উঠিয়ে নিয়েছেন। এভাবে বলা বোধ হয় উচিত নয়। রাব্বে কারীমই ভালো জানেন। 
(২০): আজকে বলতে বসেছিলাম ইমাম যুফার রহ.-কে নিয়ে। কথা চলে গেল, অন্যদিকে। যারা ইমাম যুফার রহ.-কে জানতে চান, তারা এই ডক্টরেট থিসিসখানা (الإمام زفر ابن الهذيل..أصوله وفقهه) দেখতে পারেন। রাব্বে কারীম সাদ্দাম হুসাইনকে (যদি তাওবা করে থাকেন) মাফ করে দিন। তার শাসনামলেই বাগদাদে এই থিসিসখানা হয়েছে। ইমাম যুফার রহ.-কে জানার ব্যাকুল আগ্রহ ছিল দীর্ঘদিনের। রাব্বে কারীম তার বান্দার নেক আগ্রহকে বড় কদর করেন। তিনিই এই কিতাবখানা মিলিয়ে দিয়েছেন। 
(২১) হানাফী ইমামগন কুরআন কারীমের কুরআন কারীমের উমূমিয়্যত (ব্যাপকতা)-কে অক্ষুন্ন রেখে, হাদীসকে আমলে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। 
(২১): আমি মুফতি নই। কোনও ভুল হয়ে গেলে, ধরিয়ে দেয়ার বিনীত অনুরোধ রইল। আমাদের মাযহাব ও অন্য মাযহাব নিয়ে অনেক ভাবনা অব্যক্ত রয়ে গেল। ইন শা আল্লাহ।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.