হৃদয়বিদারক কিছু কথা...

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের হাদিসের ওস্তাদ এবং তাঁদের ওস্তাদের ওস্তাদের হাদিসের কিতাব আমরা চিনি কী?
----------------------------------------------
আমাদের দেশে সাধারণ মানুষকে এমনভাবে ব্রেইন ওয়াশ করা হয়েছে যে, তারা এখন বিশ্বাস করে বুখারি ও মুসলিম অথবা সর্বোচ্চ সিহাহ সিত্তার ৬ হাদিসের কিতাবের বাহিরে আর কোন হাদিসের কিতাব নেই। থাকলেও সেগুলোর হাদিসের কোন ভ্যালু নেই। ওসব কিতাবের কোন মূল্য নেই৷ কেন বলছি এই কথা? কারণ, এই ৬ কিতাবের বাহিরে অন্য কোন কিতাব থেকে সহিহ কিংবা হাসান সনদের হাদিস দিলেই আজ আমাদের শিক্ষিত সমাজ তাচ্ছিল্য করে। "এটা কোন কিতাব আবার" বলে ভ্রু কুঁচকায়। আহলে হাদিস সালাফিরা সফল তাদের প্রপাগান্ডাতে৷ অথচ জ্ঞানের জগতের মানুষেরা জানেন যে, "কোন কিতাবে হাদিস আসল এটা কোন বিষয়ই না, বরং প্রতিটি হাদিসের বর্ণনাকারী রাভীগণ গ্রহণযোগ্য কীনা এটা হচ্ছে মূল বিষয়। এর ভিত্তিতেই সাধারণত কোন একটি হাদিস গ্রহণ করা হয় অথবা বর্জন করা হয়।" 

এমনকি ইমাম বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদের মত হাদিসের ইমামগণকে যারা গড়ে তুলেছেন, যাদের পায়ের কাছে বসে এই ইমামগণ হাদিস সংগ্রহ করতেন, হাদিসের দরস নিতেন, সেই ইমামগণের সংকলিত হাদিসের কিতাবকেও আজ সাধারণ মানুষ তাচ্ছিল্য করে। তেমনি তিনখানা কিতাব হচ্ছেঃ
১। মুসনাদ আহমদ ইবনে হাম্বলঃ যা ইমাম বুখারির সরাসরি শায়খ হাম্বলি মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ. কর্তৃক সংকলিত৷ এই হাদিস ও আসারের (সাহাবায়ে কেরামের কওল) কিতাবে ৩০ হাজারের উপর হাদিস সংগৃহীত আছে৷ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ. এঁর লক্ষ লক্ষ হাদিস সনদ মতন সহ মুখস্থ ছিল৷ আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস বলে হত তাঁকে।

২। মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবাহঃ ইমাম আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ রাহ. যিনি ইমাম বুখারি, ইমাম মুসলিম, আবু দাউদ, ইমাম ইবনে মাজাহর সরাসরি ওস্তাদ ছিলেন হাদিসের ক্ষেত্রে, তার সংকলিত হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের কওলের সবচাইতে বড় সংগ্রহ এই মুসান্নাফ। ৩৭ হাজারের বেশি হাদিস ও আসার আছে এই কিতাবে। ইমাম আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ রাহ. থেকে সহিহ বুখারিতে ইমাম বুখারী ৩০ টির বেশি হাদিস বর্নণা করেছেন। মুসলিমে ইমাম মুসলিম রাহ. ৩০০ এর বেশি হাদিস এনেছেন। অনুরুপ ৬ কিতাবের বাকি ৪ কিতাবেও অসংখ্য হাদিস এসেছে ইমাম আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ রাহ. হতে। যার লক্ষ লক্ষ হাদিস সনদ মতনসহ মুখস্থ ছিল৷ ইমাম আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ রাহ. কেও আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস বলা হয়।
৩। মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাকঃ ইমাম আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হামমাম আস সানয়া'নি রাহ. তিনি ইমাম বুখারির দাদা ওস্তাদ, তার সংকলিত হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের কওলের অনেক বড় সংগ্রহ মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক। ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রাহ. এর ছাত্র ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ ও শিক্ষালাভ করেছেন ইমাম বুখারী রাহ.!

অথচ আজ এরক বড় ইমামগণের কিতাবের রেফারেন্স দিলে একদল অজ্ঞ মূর্খরা মুখ টিপে হাসে, কিংবা টিটকিরি দেয়। তাচ্ছিল্য করে। এগুলো সম্পূর্ণ জাহালত৷ অজ্ঞতা মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়। 

এছাড়াও হাদিসের আরো বহু কিতাব আছে। মুয়াত্তা ইমাম মালিক, সহিহ ইবনে হিব্বান, সহিহ ইবনে খুজাইমাহ, তাবরানী, সুনানুদ দারেমি, দারা কুতনি, মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন, সুনানুল কুবরা বাইহাকি, মুসনাদে বাজ্জার, মুসনাদে হুমাইদি, মুসনাদ আবি ইয়া'লা, মুসনাদ আবু দাউদ তাইয়ালিসি ইত্যাদি ইত্যাদি। 

মোটকথাঃ"কোন কিতাবে হাদিস আসল এটা কোন বিষয়ই না, বরং প্রতিটি হাদিসের বর্ণনাকারী রাভীগণ গ্রহণযোগ্য কীনা এটা হচ্ছে মূল বিষয়। এর ভিত্তিতেই সাধারণত কোন একটি হাদিস গ্রহণ করা হয় অথবা বর্জন করা হয়।"

লিখেছেন: সৈয়দ সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া আজহারী🖊️🖋️

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.