রাফয়ে ইয়াদাইন না করলে ইবনে উমর (রা.) কর্তৃক কংকর ছুড়ে মারার হাদীসটির বাস্তবতা!!!

রাফয়ে ইয়াদাইন না করলে ইবনে উমর (রা.) কর্তৃক কংকর ছুড়ে মারার হাদীসটির বাস্তবতা।

পর্যালোচনাঃগান্জা শায়খদের বলদ মুরগিদের জাল/জইফ হাদিসের আলোকে মুসলমানদের সাথে প্রতারণা!! 
._________________________________
ইদানীং কিছু কিছু লা মাযহাবী বন্ধু ইবনে উমর রাদিঃ কর্তৃক তরকে রফয়ে ইয়াদাইনকারীদের কংকর নিক্ষেপ করা মর্মে আসারটি দ্বারা রফয়ে ইয়াদাইন এর পক্ষে ওকালতি করতে দেখা যায়।তাই উক্ত আসারটির পর্যালোচনা করার এরাদা করছি।
আসারটি এই-
নাফে (রহঃ) থেকে বর্ণিত, ইবনে উমার (রাঃ) কোন ব্যক্তিকে তার ছালাতে প্রতিবার উঠতে এবং নিচু হতে রফউল ইয়াদাইন করতে না দেখলে তার প্রতি কংকর নিক্ষেপ করতেন, যতক্ষণ না সে তা উত্তোলন করে। মুসনাদে হুমাইদী ৬২৭ নং হাদিস। সনদসহ হাদিসটির পূর্ণ আরবী পাঠ-
.
٦٢٧ - ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺍﻟﺤﻤﻴﺪﻱ ﻗﺎﻝ : ﺛﻨﺎ ﺍﻟﻮﻟﻴﺪ ﺑﻦ ﻣﺴﻠﻢ، ﻗﺎﻝ : ﺳﻤﻌﺖ ﺯﻳﺪ ﺑﻦ ﻭﺍﻗﺪ، ﻳﺤﺪﺙ، ﻋﻦ ﻧﺎﻓﻊ، ﺃﻥ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮ : ‏« ﻛﺎﻥ ﺇﺫﺍ ﺃﺑﺼﺮ ﺭﺟﻼ ﻳﺼﻠﻲ ﻻ ﻳﺮﻓﻊ ﻳﺪﻳﻪ ﻛﻠﻤﺎ ﺧﻔﺾ ﻭﺭﻓﻊ ﺣﺼﺒﻪ ﺣﺘﻰ ﻳﺮﻓﻊ ﻳﺪﻳﻪ »
_____উক্ত হাদিসটা মুলত জয়ফ______
এ হাদিসের "ইসা ইবনে আবী ইমরান নামক রাবী যঈফ।(লিসানুল মীযান তরজমা-৫৯৪১)
.
লিসানের ভাস্য
.
ﻛﺘﺐ ﻋﻨﻪ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺣﺎﺗﻢ، ﺛﻢ ﺗﺮﻙ ﺍﻟﺮﻭﺍﻳﺔ ﻋﻨﻪ . ﺍﻧﺘﻬﻰ . ﻭﺫﻛﺮ ﺃﻥ ﺳﺒﺐ ﺫﻟﻚ : ﺃﻥ ﺃﺑﺎﻩ ﻧﻈﺮ ﻓﻲ ﺣﺪﻳﺜﻪ ﻓﻘﺎﻝ : ﻳﻜﺘﺐ ﺣﺪﻳﺜﻪ ﻋﻠﻰ ﺃﻧﻪ ﻏﻴﺮ ﺻﺪﻭﻕ .
.
ইমাম দারাকুতনী স্বয়ং তার জরাহ করেছেন।
( তারাজিমু রিজালিদ দারু কুতনী পৃঃ৩২৯ তরজমা- ৭৩২)
ইমাম ইবনু আবি হাতেম তার রেওয়াত গ্রহন করে আবার তাকে পরিত্যাগ করেছেন তিনি নিজেই এর সাক্ষী দিচ্ছেন।(দেখুনঃআল জারহু ওয়াত তা'দিল ৬/২৮৪)
>>> আরো একটু পর্যালোচনা দেখুন <<<<
.
[১] কংকর নিক্ষেপ করলে সালাত আদায়কারী আঘাত প্রাপ্ত হবে,এটা ঠিক না। কেননা বুখারী মুসলিমসহ অগনিত হাদিস গ্রন্থে একাধিক সাহাবায় কেরাম থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুল সা. বলেছেন-
.
ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﻣﻦ ﺳﻠﻢ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻮﻥ ﻣﻦ ﻟﺴﺎﻧﻪ ﻭﻳﺪﻩ »
সেই প্রকৃত মুসলমান, যার হাত ও মুখের দ্বারা অপর মুসলমান নিরাপদ থাকে। 
বুখারী-১০ ও ৬৪৮৪ নং হাদিস; মুসলিম- ৪০, ৪১ ও ৪২ নং হাদিস।
(ক) কংকর নিক্ষেপ করলে নিরাপদতো দূরের কথা, বরং আঘাত প্রাপ্ত হবে। আর নিরাপদ থাকার হাদিস মাশহুর পর্যায়ের মারফু হাদিস, কংকর নিক্ষেপ করার হাদিস গরিব পর্যায়ের মাউকুফ হাদিস,তাই মশহুরের মুকাবেলায় গরিব হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়।তাছাড়া ইবনে উমর এতো শক্তিধর হাদিসের বিপরিতে এমনটা করবেন, তা কল্পনাও করা যায় না।
(খ) লা মাযহাবিদের হাদিস গ্রহনের একটি মূলনীতি হলো, মারফু হাদিসের বিপরিত মাউকুফ হাদিস হলে, মারফু হাদিস আমলযোগ্য। যেমনঃ তারাবীহ ৮ রাকাত দলিল দিতে গিয়ে আয়েশা (রা.) থেকে ৮ রাকাতের মারফু হাদিস দ্বারা উমর (রা.) এর ২০ রাকাতের মাউকুফ হাদিসকে রদ করে দেয়। তাদের এই মূলনীতির আলোকে কংকর নিক্ষেপের হাদিস অগ্রহণযোগ্য।
(গ) তাদের আর একটি মূলনীতি হলো, বুখারী-মুসলিমের হাদিস কে অগ্রাধিকার দেওয়া। নিরাপদের হাদিস বুখারী-মুসলিমসহ আর অগনিত গ্রন্থে বিদ্ধমান। কংকর নিক্ষেপের হাদিস বুখারী-মুসলিম তো দূরের কথা, সিহা সিত্তার কোন কিতাবেই নেই। তাই নিরাপদের হাদিস প্রধান্য পাবে।
(ঙ)নিরাপদের হাদিসটি স্বয়ং ইবনে উমর থেকেও বর্ণিত, তাই কংকরের হাদিসটি স্ববিরুধী হওয়ায় তা সহীহ নয়।
[২] কংকর নিক্ষেপ দ্বারা সালাত আদায়কারীর খুশু নষ্ট হয়ে যাবে । অথচ আল্লাহ তা'আলা বলেন,
ﻗﺪ ﺃﻓﻠﺢ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻮﻥ - ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻫﻢ ﻓﻲ ﺻﻼﺗﻬﻢ ﺧﺎﺷﻌﻮﻥ .
.
অবশ্যই মুমিনগণ সফল হয়েছে, যারা নামাজে খুশু অবলম্ভন কারী। (সুরা মুমিনুন, ১ও ২ আয়াত) ﻗَﺎﻝَ 
: " ﺍﻟﺴُّﻜُﻮﻥُ ﻓِﻴﻬَﺎ "
মুজাহিদ রহ. বলেন খুশু অর্থ হলো নামাজে শান্ত থাকা।(সুনানে কুবরা বায়হাকি ৩৫২৪ নং হাদিস), আর কেউ কেউ ﺧﺎﺷﻌﻮﻥ (খাশিউন/খুশু) এর তাফসির রফয়ে ইয়াদাইন না করা বলেছেন ।
যেমন ইমাম আবু লাইস সমরকন্দী তার তাফসিরে সমরকন্দে হাসান বসরি থেকে রেওয়ায়েত করেছেন-
.
ﻗﺎﻝ : ﺧﺎﺷﻌﻮﻥ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻻ ﻳﺮﻓﻌﻮﻥ ﺃﻳﺪﻳﻬﻢ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﺇﻻ ﻓﻲ ﺍﻟﺘﻜﺒﻴﺮﺓ ﺍﻷﻭﻟﻰ ،
.
হাসার বসরি রহঃ বলেন খাশিউন হলো,যারা শুধু তাকবিরে তাহরিমায় রফউল ইয়াদান করে। যাই হোক খুশু এর মর্মকথা হলো ভয় ও বিনয়ীর সাথে একাগ্র চিত্তে আল্লাহর দেনে মুগ্ন হয়ে নামাজ আদায় করা। সেটা রফা দ্বারা হকো আর রফা ছাড়া হকো। আর কংকর নিক্ষেপ করলে নামাজির খুশু নষ্ট হয়ে যাবে। অতএব কংকর নিক্ষেপ করে কুরআনে বর্ণিত খুশু ভঙ্গ করা ইবনে উমরে রা. এর শানের খেলাফ।
[৩] কংকর নিক্ষেপ করলে একাগ্রতা/শান্তভাবে নামাজ আদায় করা কষ্টকর। অথচ আল্লাহ বলেন-
.
ﻭﻗﻮﻣﻮﺍ ﻟﻠﻪ ﻗﺎﻧﺘﻴﻦ { ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ٢٣٨ ]
.
তোমরা আল্লাহর সামনে বিনম্রভাবে/
একাগ্রচিত্তে/শান্তভাবে (নামাজে) দন্ডায়মান হও।(সুরা বাকারা -২৩৪) 
.
এ আয়াতে ﻓﺄﻣﺮﻧﺎ ﺑﺎﻟﺴﻜﻮﺕ আমাদের কে (রাসুল সা.) নামাজে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। (বুখারী- ১২০০ নং হাদিস)।
তাছাড়া এ আয়াতের তাফসীরে হযরত মুজাহিদ রহ. থেকেও হাসান সনদে বর্ণিত আছে যে, ﻗﺎﻧﺘﻴﻦ এর অর্থ হলো শান্তথাকা, নড়াচড়া না করা।
 (তাফসীরে তাবারী, ৫৫৩১ নং হাদিস)
[৪] এ হাদীসটি নাফে রহ. থেকে একমাত্র যায়দ ইবনে ওয়াকিদ বর্ণনা করেছেন। তিনি অবশ্য বিশ্বস্ত। তার বাড়ি ছিল দামেস্কে। মদীনায় নাফে’র অনেক ছাত্র ছিল, তাদের কারোর বর্ণনায় এটি আসেনি। এতেই অনুমিত হয়, হয়তো কদাচিৎ তিনি এমনটি করেছেন। বেশী বেশী করলে অন্য অনেকে তা বর্ণনা করতেন।
[৫] ইবনে ওমর যদি কংকর নিক্ষেপ করেই থাকেন, তাহলে এদ্বারা এটাও প্রমানিত হয়ে যায় যে, তখন অনেক সাহাবায় কেরাম প্রত্যেক উঠা-বসায় রফউল ইয়াদাইন করতেন না। সকল সাহাবা/তাবেঈ রফউল ইয়াদাইন করলে কংকর কাকে নিক্ষেপ করতেন? আসা করি বুঝতে পারছেন।
এই পর্যন্ত আলোচনায় বুঝার কথা। কিন্তু যদি পাক্কা/কষ্টর লা মাযহাবি বা হানাফি মাযহাবের বিরুধিতায় একেবারে অন্ধহয়ে থাকেন কিংবা মাযহাব বিদ্ধেষই আপনার মানষিকতা। তাহলে বুঝবেন না। যদি বুঝার নিয়ত থাকে, তাহলে কোমর শক্ত করে বসে পড়ুন। যদি আপনার হৃদয়ের মরিচীকা দূর হয়ে যায়;তাই আর একটু আলোকপাত করছি। শুনুন-
[৬] এ হাদিসে ﻛﻠﻤﺎ ﺧﻔﺾ ﻭﺭﻓﻊ দ্বারা শুধু রুকুর সাথে খাস করা হয়নি, সেজদার সময়ও মাথা উচু, নিচু করা হয়।ইবনে উমর রা. নিজেও সিজদায় রাফয়ে ইয়য়াদাইন করা লাগবে না।
এর বীপরিত আমল করেছেন...
2796 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: نا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، «أَنَّهُ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السَّجْدَةِ الْأُولَى»
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাঃ প্রথম সিজদা থেকে মাথা তুললেই রফউল ইয়াদাইন করতেন ৷৷ (ইবনে আবি শাইবাঃ ২৭৯৬,মুজমাউয যাওয়ায়েদ ২৫৯০ নং হাদিসের বরাতে মুজামুল আওসাত তাবারানী ১৬ নং হাদিস, জুযয়ে রফয়ে ইয়াদাইন লীল বুখারী ১২ ও ১৩ নং হাদিস)
................................ 
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: " أَنَّهُ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي كُلِّ خَفْضٍ، وَرَفْعٍ، وَرُكُوعٍ، وَسُجُودٍ وَقِيَامٍ، وَقُعُودٍ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ، وَيَزْعُمُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ "
ইবনে উমর (নামাযে) প্রত্যেক ওঠা-নামার সময়, রুকু ও সেজদার সময়, দাঁড়ানোর সময় ও দুই সিজদার মাঝখানে বসার সময় রফয়ে ইয়াদাইন করতেন এবং বলতেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এমনটি করতেন। 
(তাহাবী, মুশকিলুল আছার، হা/৫৮৩১)
হাদীসটির মানঃ শায়খ শুআয়ব আরনাউত বলেছেন, رجاله ثقات رجال الشيخين  এর রাবীগন বিশ্বস্ত , বুখারী ও মুসলিম শরীফের রাবী। শায়েখ আলবানী রহঃও এসব জায়গায় রফা করাকে সুন্নাত সাব্যস্ত করেছেন এবং এই বর্ণনাকে সহীহও আখ্যা দিয়েছেন। (সিফাতুস সালাহ, পৃ. ১৫১, ১৫৪)
অতএব এ হাদিস শুধু হানাফিরে বিরুদ্ধে নয়, লা মাযহাবিদেরও বিরুদ্ধে, কারন লা মাযহাবীরাও সেজদায় মাথা নিচু ও মাথা উচু করতে রাফউল ইয়াদাইন করে না। যদিও সেজদায় রফউল ইয়াদাইন করার উল্লেখিত একাধিক সহীহ হাদিস শুধু ইবনে উমর থেকেই রয়েছে।
[৭] ইবনে উমরের পিতা খলিফাতুল মুসলিমীন ওমর (রা.) শুধু প্রথম বারই হাত উঠাতেন। তাহলে খলিফা উমরও কি ছেলে কর্তৃক নিক্ষেপিত কংকরের আঘাত প্রাপ্ত হতে পারেন!
👉আমীরুল মুমিনীন হযরত উমার বিন খাত্তাব রা.-এর আমল:—
.
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ حَسَنِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبْجَرَ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْأَسْوَدِ، قَالَ: «صَلَّيْتُ مَعَ عُمَرَ، فَلَمْ يَرْفَعْ يَدَيْهِ فِي شَيْءٍ مِنْ صَلَاتِهِ إِلَّا حِينَ افْتَتَحَ الصَّلَاةَ» قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ : وَرَأَيْت الشَّعْبِيَّ ، وَإِبْرَاهِيمَ ، وَأَبَا إِسْحَاقَ ، لاَ يَرْفَعُونَ أَيْدِيَهُمْ إِلاَّ حِينَ يَفْتَتِحُونَ الصَّلاَةَ.
.
হযরত আসওয়াদ রহ. বলেন: আমি হযরত উমার রা.-এর সাথে নামায পড়েছি। তিনি নামায শুরু করার সময় ব্যতীত নামাযে আর কোথাও হাত উঠাননি। আব্দুল মালেক বলেন: আমি শা’বী, ইবরাহীম ও আবু ইসহাককে দেখেছি; তাঁদের কেউ নামাযের শুরু ব্যতীত হাত উঠাননি। 
(ইবনে আবী শাইবা: ২৪৬৯,ইবনে আবী শাইবা: ২৪৫৪ শামেলা, ত্বহাবী: ১৩৬৪)
হাদিসটি সহীহ। এ হাদীসটির রাবীগণ সবাই-ই বুখারী/ মুসলিমের ﺛﻘﺔ “নির্ভরযোগ্য” রাবী।
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন: ﻭَﻫَﺬَﺍ ﺭِﺟَﺎﻟﻪ ﺛِﻘَﺎﺕ এ হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সবাই-ই নির্ভরযোগ্য ।(আদ দিরায়াহ: ১৮১ নং হাদীসের আলোচনায়) আল্লামা যাইলাঈ রহ. বলেন: ﻭَﺍﻟْﺤَﺪِﻳﺚُ ﺻَﺤِﻴﺢٌ ، “হাদীসটি সহীহ”।
(নাসবুর রায়াহ: সিফাতুস সলাত অধ্যায়, ৩৯ নং হাদীস-এর আলোচনায়)
বল ভাই লা মাযহাবী, ইবনে উমরের নিক্ষিপ্ত কংকর তার পিতা উমরের উপর পতিত হয় কিনা? একবারও ভেবেছ বন্ধু?
[৮] 👉আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী রা-এর আমল :—
حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قِطَافٍ النَّهْشَلِيِّ،عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ«أَنَّ عَلِيًّا كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ ثُمَّ لَا يَعُودُ» قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ: «وَرَأَيْتُ الشَّعْبِيَّ، وَإِبْرَاهِيمَ، وَأَبَا إِسْحَاقَ، لَا يَرْفَعُونَ أَيْدِيَهُمْ إِلَّا حِينَ يَفْتَتِحُونَ الصَّلَاةَ»
.
হযরত আছেম বিন কুলাইব তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন: হযরত আলী রা. শুধু নামাযের শুরুতে হাত উঠাতেন পরবর্তীতে আর উঠাতেন না। (ইবনে আবী শাইবা: ২৪৫৭, ত্বহাবী: ১৩৫৩ ও ১৩৫৪)
হাদীসটি সহীহ মাউকুফ। আছেমের পিতা কুলাইব ব্যতীত এ হাদীসের রাবীগণ সবাই বুখারী/মুসলিমের রাবী।আর কুলাইব ﺛﻘﺔ “নির্ভরযোগ্য”।আল কাশেফ-৪৬৭১।
.
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন: ﻭَﺭِﺟَﺎﻟﻪ ﺛِﻘَﺎﺕ ﻭَﻫُﻮَ ﻣَﻮْﻗُﻮﻑ “এ হাদীসের রাবীগণ সবাই নির্ভরযোগ্য। আদ দিরায়াহ: ১৮১নং হাদীসের আলোচনায়। যাইলাঈ রহ. বলেন: ﻭَﻫُﻮَ ﺃَﺛَﺮٌ ﺻَﺤِﻴﺢٌ ، “এ হাদীসটি সহীহ”। নাসবুর রায়াহ: সিফাতুস সলাত অধ্যায়, ৩৯ নং হাদীস-এর আলোচনায়।
বল ভাই লা মাযহাবী, এত বড় জলীলুল কদর, খুলাফায়ে রাশেদার একজন সাহবী, বাচ্চা সাহাবী ইবনে উমর কর্তৃক নিক্ষেপিত কংকরে আঘাত প্রাপ্ত আবশ্যক আসে কি? কোন দিন কি ভেবে দেখেছো বন্ধু??
[৯] আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, আমি কি তোমাদেরকে রাসুল (সা.) এর নামাযের মতো নামায দেখাব না? এরপর তিনি নামায পড়লেন এবং তাতেমাত্র একবার হাত তুললেন। (অর্থাৎ, তাকবীরে তাহরিমার সময়ে)। ইবনে আবী শায়বা - হাদিস নং ২৪৪১। আরবী পাঠ-
.
٢٤٤١ - ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻭﻛﻴﻊ، ﻋﻦ ﺳﻔﻴﺎﻥ، ﻋﻦ ﻋﺎﺻﻢ ﺑﻦ ﻛﻠﻴﺐ، ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺍﻷﺳﻮﺩ، ﻋﻦ ﻋﻠﻘﻤﺔ، ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ، ﻗﺎﻝ : ﺃﻻ ﺃﺭﻳﻜﻢ ﺻﻼﺓ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ؟ ‏« ﻓﻠﻢ ﻳﺮﻓﻊ ﻳﺪﻳﻪ ﺇﻻ ﻣﺮﺓ »
.
এ হাদিসের সনদ সহীহ। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী/মুসলিমের রাবী।
বল ভাই লা মাযহাবী, বাচ্চা সাহাবী ইবনে উমর কর্তৃক কংকর নিক্ষেপ প্রখ্যাত সাহাবী ও সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকিহ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর উপর পতিত হয় কিনা একবার ভেবে দেখেছো কি বন্ধু?
[১০]
হযরত ইবনে মাসউদ রাদিঃ এর আমলঃ-
٢٤٤٦ - ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻭﻛﻴﻊ، ﻭﺃﺑﻮ ﺃﺳﺎﻣﺔ، ﻋﻦ ﺷﻌﺒﺔ، ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺇﺳﺤﺎﻕ، ﻗﺎﻝ : ‏« ﻛﺎﻥ ﺃﺻﺤﺎﺏ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺃﺻﺤﺎﺏ ﻋﻠﻲ، ﻻ ﻳﺮﻓﻌﻮﻥ ﺃﻳﺪﻳﻬﻢ ﺇﻻ ﻓﻲ ﺍﻓﺘﺘﺎﺡ ﺍﻟﺼﻼﺓ، ﻗﺎﻝ ﻭﻛﻴﻊ،، ﺛﻢ ﻻ ﻳﻌﻮﺩﻭﻥ »
হযরত আবু ইসহাক রহ. বলেন, আলী রা.এবং ইবনে মাসউদ রা.এর ছাত্রগণ শুধু নামাযের শুরুতেহাত উঠাতেন। ইবনে আবী শায়বা -২৪৪৬ 
এ হাদিস সহীহ মাউকুফ। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই বুখারী-মুসলিমের রাবী।
قال ابن أبي شيبة: حدَّثَنَا وَكِيعٌ ، عَنْ مِسْعَرٍ ، عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ ، عَن عَبْدِ اللهِ ؛ أَنَّهُ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي أَوَّلِ مَا يَفْتَتِحُ ، ثُمَّ لاَ يَرْفَعُهُمَا.
وقال الطحاوي: حدثنا بن أبي داود قال: ثنا أحمد بن يونس قال: ثنا أبو الأحوص ، عن حصين ، عن إبراهيم قال: كان عبد الله لا يرفع يديه في شيء من الصلاة إلا في الافتتاح.
ইবরাহীম নাখায়ী থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. নামাযের শুরুতে রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন। এরপর আর তা করতেন না। মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২৪৫৮; শরহু মাআনিল আছার ১/১৬
হযরত আলী রা.এর ছাত্রদের নামের যে তালিকা
.
ইমাম মিজ্জী রহ. ‘তাহজীবুল কামাল’-এ পেশ করেছেন তার সংখ্যাই ৩৫৪ জন। এর মধ্যে অনেক সাহাবায়ে কিরামও রয়েছেন এবং তাবিঈগণও রয়েছেন। এর উপর হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.এর ছাত্রদেরকে হিসেব করা হলে এর পরিমাণ আরও কোথায় গিয়ে পৌঁছবে আল্লাহই ভালো জানেন। সহীহ হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী এরা সবাই-ই কেবল নামাযের শুরুতে হাত উঠাতেন। এরপরে আর উঠাতেন না।
বল ভাই লা মাযহাবী, একটু চিন্তা করেছো কি, ইবনে উমরের কংকর নিক্ষেপ সঠিক হতো, তাহলে এত এত সাহাবায় কেরাম যারা শুধু তাকবিরে তাহরিমার সময় হাত উঠাতো। তাদের উপর কংকরাঘাত আবশ্যক হয় কিনা?
একটু খানি সময় বিদ্বেষের জাল ছিন্ন করে বিবেকের কাছে প্রশ্ন কর বন্ধু। "আল মুসলিমু আখুল মুসলিম। "
[১১] ইবনে আব্বাস ও ইবনে ওমর রা. কর্তৃক বর্ণিত, রাসুল সা. ইরশাদ করেন যে, রাফয়ে ইয়াদাইন করা হয় মাত্র সাত জায়গায়।
১.তাকবীরে তাহরীমায়, ২.বাইতুল্লাহর কাছে,৩. সাফা ও ৪.মারওয়াতে, ৫.আরাফায়, ৬ মুযদালিফা ও ৭. কংকর নিক্ষেপের সময়। আরবী পাঠ-
ﻋﻦ ﺍﻟﻤﺤﺎﺭﺑﻲ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﻟﻴﻠﻰ ﻋﻦ ﺍﻟﺤﻜﻢ ﻋﻦ ﻣﻘﺴﻢ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ، ﻭﻋﻦ ﻧﺎﻓﻊ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ، ﻗﺎﻻ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : " ﺗﺮﻓﻊ ﺍﻷﻳﺪﻱ ﻓﻲ ﺳﺒﻌﺔ ﻣﻮﺍﻃﻦ : ﻋﻨﺪ ﺍﻓﺘﺘﺎﺡ ﺍﻟﺼﻼﺓ . ﻭﺍﺳﺘﻘﺒﺎﻝ ﺍﻟﻘﺒﻠﺔ . ﻭﺍﻟﺼﻔﺎ ﻭﺍﻟﻤﺮﻭﺓ . ﻭﺍﻟﻤﻮﻗﻔﻴﻦ . ﻭﺍﻟﺠﻤﺮﺗﻴﻦ " ،
ইবনে আব্বাস ও ইবনে ওমর রা. রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন উল্লেখিত সাত জায়গায়। আরবী পাঠ-
.
ﻭﺑﺈﺳﻨﺎﺩﻩ ﺃﻳﻀﺎ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﻟﻴﻠﻰ ﻋﻦ ﻧﺎﻓﻊ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ، ﻭﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﻟﻴﻠﻰ ﻋﻦ ﺍﻟﺤﻜﻢ ﻋﻦ ﻣﻘﺴﻢ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ، ﻗﺎﻻ : ﺗﺮﻓﻊ ﺍﻷﻳﺪﻱ ﻓﻲ ﺳﺒﻌﺔ ﻣﻮﺍﻃﻦ : ﻓﻲ ﺍﻓﺘﺘﺎﺡ ﺍﻟﺼﻼﺓ . ﻭﺍﺳﺘﻘﺒﺎﻝ ﺍﻟﻘﺒﻠﺔ . ﻭﻋﻠﻰ ﺍﻟﺼﻔﺎ ﻭﺍﻟﻤﺮﻭﺓ . ﻭﺑﻌﺮﻓﺎﺕ . ﻭﺑﺠﻤﻊ . ﻭﻓﻲ ﺍﻟﻤﻘﺎﻣﻴﻦ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﺠﻤﺮﺗﻴﻦ،
.
(নসবুর রায়াহ - ১/৩৯১,শামেলা) সনদ হাসান।
এ উভয় হাদিসের সুত্রে মুহাম্মদ ইবনে আবী লায়লা রয়েছেন।তিনি বিতর্কিত রাবী হলেও ইমাম দারাকুতনী বলেন সে নির্ভরযোগ্য।
(সুনানে দারাকুতনী ৪৪৭ নং হাদিসের আলোচনায়)
 অধিকন্তু সর্বাধিক সঠিক কথা হল, হায়ছামী (৫৪৬১) বলেছেন, এর সনদে মুহাম্মদ ইবনে আবু লায়লা আছেন, ﻭﺣﺪﻳﺜﻪ ﺣﺴﻦ ﺇﻥ ﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ইনশাআল্লাহ, তার হাদীস হাসান।
আর একক ভাবে ইবনে আব্বাস থেকেও মাওকুফ হিসেবে মিকসামের মুতাবে সাঈদ ইবনে জুবায়ের। (ইবনে আবী শায়বা-২৪৫০, শামেলা )। আরবী পাঠ -
٢٤٥٠ - ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺍﺑﻦ ﻓﻀﻴﻞ، ﻋﻦ ﻋﻄﺎﺀ، ﻋﻦ ﺳﻌﻴﺪ ﺑﻦ ﺟﺒﻴﺮ، ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ، ﻗﺎﻝ : " ﻻ ﺗﺮﻓﻊ ﺍﻷﻳﺪﻱ ﺇﻻ ﻓﻲ ﺳﺒﻌﺔ ﻣﻮﺍﻃﻦ : ﺇﺫﺍ ﻗﺎﻡ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺼﻼﺓ، ﻭﺇﺫﺍ ﺭﺃﻯ ﺍﻟﺒﻴﺖ، ﻭﻋﻠﻰ ﺍﻟﺼﻔﺎ ﻭﺍﻟﻤﺮﻭﺓ، ﻭﻓﻲ ﻋﺮﻓﺎﺕ، ﻭﻓﻲ ﺟﻤﻊ، ﻭﻋﻨﺪ ﺍﻟﺠﻤﺎﺭ "
এ হাদিসটা পূর্বের মারফু মাউকুফ উভয় হাদিসকে আরো অধিক শক্তিশালি করে দেয়।
তাহলে বল ভাই লা মাযহাবি, এখানেও ইবনে উমরের নিক্ষেপিত কংকর স্বয়ং ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাস এর উপর পতিত হয় কিনা একটু ভেবে দেখেছ?
[১২]ইবনে উমর থেকে বর্ণিত রাসুল সা. যখন নামায শুরু করতেন তখন রফয়ে ইয়াদাইন করতেন। এর পর আর করতেন না।
.
( নসবুর রায়াহ ১/৪০৪ এর বরাতে বায়হাকী, আল খিলাফিয়াত)।আরবী পাঠ-
ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ ﻓﻲ ﺍﻟﺨﻼﻓﻴﺎﺕ ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻮﻥ ﺍﻟﺨﺮﺍﺯ ﺛﻨﺎ ﻣﺎﻟﻚ ﻋﻦ ﺍﻟﺰﻫﺮﻱ ﻋﻦ ﺳﺎﻟﻢ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﺎﻥ ﻳﺮﻓﻊ ﻳﺪﻳﻪ، ﺇﺫﺍ ﺍﻓﺘﺘﺢ ﺍﻟﺼﻼﺓ، ﺛﻢ ﻻ ﻳﻌﻮﺩ ،
এছাড়া বুখারীর উস্তাদের মুসনাদুল হুমায়দীতে এসেছে। 
626 – حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ قَالَ: ثنا الزُّهْرِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: «رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ، وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ، وَبَعْدَ مَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فَلَا يَرْفَعُ وَلَا بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ»
হযরত ইবনে উমর রাঃ বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, যখন তিনি নামায শুরু করতেন, তখন কাঁধ বরাবর রফউল ইয়াদাইন করতেন। আর যখন রুকু করতে ইচ্ছে করতেন, এবং রুকু থেকে মাথা উঠাতেন, তখন রফউল ইয়াদাইন করতেন না। সেই সাথে দুই সিজদার মাঝেও রফউল ইয়াদাইন করতেন না। 
[মুসনাদুল হুমায়দী-১/৫১৫, হাদীস নং-৬২৬, মুহাক্কিক-হাসান সালিম আসাদ আদদারানী, প্রকাশকঃ দারুস সাকা, দামেশক]
[১৩]মুজাহিদ রহ. বলেন: আমি ইবনে উমার রা.কে তাকবীরে তাহরিমা ব্যতীত হাত উঠাতে দেখিনি।
 আরবী পাঠ -
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: «مَا رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ، يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِلَّا فِي أَوَّلِ مَا يَفْتَتِحُ»
হযরত মুজাহিদ রহ. বলেন: আমি ইবনে উমার রা.কে তাকবীরে তাহরিমা ব্যতীত হাত উঠাতে দেখিনি। (ইবনে আবী শাইবা: ২৪৬৭, ত্বহাবী: ১৩৫৭)
হাদীসটির স্তর : সহীহ, মাউকুফ। এ হাদীসের রাবীগণ সবাই-ই বুখারী-মুসলিমের ثقةٌ “নির্ভরযোগ্য” রাবী।
বল ভাই গাইরে মুকাদ্দিল, এখন তো ইবনে উমর থেকেই প্রমাণিত যে, তিনি শুধু তাকবিরে তাহরমায় হাত উঠাতেন। তাহলে নিজের স্থিতি নিজের উপর আবশ্যক। তা সর্বজনীয় ভাবেই বাতিল। একটু চিন্তা কর বন্ধু।
বুঝুন, এ বাচ্চা সাহাবি ইবনে উমর কর্তৃক কংকর নিক্ষেপ অসম্ভব,এতো বড় বড় সাহাবিদের আমলের বিপরিত, আর কি করেই বা সম্ভব সাহাবায় কেরামদের শরীরে কংকর নিক্ষেপ করবেন। আর যদি ধরেই নেওয়া হয় যে, তিনি কংকর নিক্ষেপ করতেন।
তাহলে হয়তো কদাচিৎ দু'একবার এমনটা করেছেন।কেননা ইবনে উমর এর আমলও তো শুধু তাকবিরে তাহরিমায় হাত উঠানো। 
শুধু তাই নয় রাসুলুল্লাহ সাঃ থেকে ইবনু ওমর রাদিঃ কর্তক আরও স্পষ্ট হাদীস রয়েছে দেখুনঃ-
حدثني عثمان بن محمد  قال:  قال لي عبيد الله بن يحيى حدثني عثمان بن سوادة بن عباد عن حفض بن ميسرة عن زيد بن أسلام عن عبد الله بن عمر قال: كنا مع رسول الله ﷺ  بمكة، فرفع ايدينا في بدء الصلوة وفي داخل الصلوة عند الركوع ، فلما هاجر النبي ﷺ  إلي المدينة ترك رفع اليدين في داخل الصلاة عند الركوع و ثبت علي رفع اليدين في بدء الصلاة.
হযরত ইবনে ওমর রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
আমরা  রাসুলুল্লাহ সঃ এর সাথে মক্কায় ছিলাম, তো আমরা নামাজের শুরুতে এবং নামাজের মধ্যের রুকুর সময় রফউল ইয়াদাইন করতাম ৷ অতঃপর নবী করিম সঃ মদিনায় হিজরত করার পরে নামাজের মধ্যের রুকুর সময়ে রফউল ইয়াদাইন করা পরিত্যাগ করেন এবং শুধুমাত্র নামাজের শুরুতে হাত উঠানো কে বহাল রাখেন ৷ 
(আখবারুল ফুকাহা ওয়া মুহাদ্দিসীন, হা. ৩৭৮)
🍂হাদীসটির স্তরঃ সহীহ, মারফূ ৷
🎓কি়তাবের মুসান্নিফ মুহাম্মদ বিন হারেস আল খুশানী আল ক্বায়রাওয়ানী আল উন্দুলুসি (২৯৯ হি—৩৬১হি)
.
🎓উসমান বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুদরিক (মৃঃ ৩২০ হি)  ইবনে ফরিদী রহঃ তার সম্পর্কে বলেছেন:-
كان: مُعْتَنِياً بالعِلم، حافِظاً لِلْمسائل: مُفتي أهل مَوضِعِه. 
তিনি ইলমের প্রতি যত্নশীল, মাসাঈলের হাফেজ, এবং স্থানীয় মুফতী ছিলেন ৷৷
(তারিখে উলামায়িল আন্দালুসি, রাবী নং ৮৯৩)
🎓উবাইদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া (মৃঃ২৮৯/২৯৮ হি) হলো:
أبو مروان عبيد الله بن يحيى بن يحيى بن كثير بن وسلاس الليثي فقيه وإمام مالكي أندلسي
তার সম্পর্কে কোনো জরাহ নাই, তবে তা'দিল আছে ৷ (সিয়ারু আ'লামুন নুবালা, রাবী নং ২৪৮০)
🎓উসমান বিন সাওয়াদাহ ثقة বা বিশ্বস্ত, মক্ববুল 
890 - عُثْمان بن سُوادَة: من أهْل قُرطُبة. قالَ محمدٌ. قال لي عُثْمان بن محمد: قالَ لي عُبَيْد الله بن يَحيى: كانَ عُثْمان بن سُوَادَة ثِقَة مَقبولاً
(তারিখে উলামায়ে আন্দালুসিঃ১/৩৪৬,রাবী:৮৯০)
🎓হাফস বিন মায়সারা ثقة বা নির্ভরযোগ্য ৷
30 - حَفْص بن ميسرَة الصَّنْعَانِيّ ثِقَة
(রিওয়ায়েতিছ ছিকাত, রাবী নং ৩০, জরাহ ওয়াত্তাদীল, রাবী নং ৮০৯)
🎓যায়েদ ইবনে আসলামা ثقة বা নির্ভরযোগ্য ৷ 
(জরাহ ওয়াত্তাদীল,রাবী নং:২৫১১)
সুতরাং হাদীসটি সহীহ ৷৷
সত্য সন্ধানীর জন্য এটুকুই যতেষ্ট। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.