মাযহাব কেন মানি ধারাবাহিক আলোচনা পর্ব ১


👉🌼🌻🌿মাযহাব বিষয়ে আলোচনার পর্বে যেই সমস্ত আলোচনা করবো এই আলোচনা হলো 👇💌🌿🍀🌼🌼

👉 শুরুর কথা

👉আল্লাহর আইন/ইসলামী শরী‘আতের উৎস

👉রাসূল ﷺ এর যুগে কিয়াস ইজতিহাদ ও তাকলীদ

👉নবীজী ﷺ কর্তৃক সাহাবায়ে কিরামের ইজতিহাদ সমর্থন ইত্যাদি

👉রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জীবদ্দশায় সাহাবা কর্তৃক কিয়াস ইত্যাদি

👉পরবর্তীদের জন্য সাহাবায়ে কেরামের তাকলীদের অনুসরণঃ

👉 সাহাবায়ে কেরামের যুগে কিয়াস-ইজতিহাদ ও তাকলীদ সাহাবাযুগে কিয়াস ও ইজতিহাদের নমুনাঃ

👉তাবেঈ ও তাবে তাবেঈদের যুগে কিয়াস, ইজতিহাদ ও তাকলীদঃ

👉চৌদ্দশত বছর ধরে উম্মত ইমাম মেনে দ্বীনের উপর আমল করছেঃ

👉বড় বড় হাদীস বিশারদগণ নির্দিষ্ট ইমামের অনুসরণ করতেনঃ

👉নির্দিষ্ট মাযহাব মানার ব্যাপারে উম্মতের ইজমা ও ঐক্যমতঃ

👉ইজমা অস্বীকার ও অমান্যকারীর অশুভ পরিণতি

👉ইমাম আবূ হানীফা রহ.এর শ্রেষ্ঠত্ব

👉হাদীস ও সুন্নাহর পার্থক্য

👉সুন্নাহ ও ফিকহ এক ও অভিন্ন জিনিস

👉নির্দিষ্ট মাযহাব মানার শরয়ী বিধান

👉তাকলীদে শাখসী অর্থাৎ নির্দিষ্ট মাযহাব মানার হাকীকত

👉মাযহাব অনুসরণ ওয়াজিব হওয়ার ফাতাওয়া

👉মাযহাবের বিভিন্নতা ও তাকলীদের হাকীকত

👉মাযহাব একাধিক হল কেন?

👉হানাফী মাযহাবের উৎস

👉তাকলীদ না করার পক্ষে যাদের কথা দলীল হিসাবে পেশ করা হয়ে থাকেঃ

👉হানাফী মাযহাবের বিরুদ্ধে অভিযোগসমুহ

👉হাদীস বিষয়ক মৌলিক নীতিমালা

👉দালীলিক প্রমাণপঞ্জির আয়নায় আহলে হাদীস মতবাদ


শুরুর কথা


‘রব’ আল্লাহ তা‘আলার গুণবাচক নাম। আদি-অন্ত সর্বগুণের ধারক, সত্তা হিসেবে অধীনস্তের উপযোগিতা বিবেচনা করতঃ যিনি তাকে ক্রমান্বয়ে পূর্ণতায় পৌঁছান তিনিই রব। উল্লেখ-অযোগ্য বস্তু থেকে সৃষ্ট বনী আদমকে শক্ত-সামর্থ্যপূর্ণ মানবে রূপান্তরের ক্ষেত্রে তিনি যেমন রব, বাধা-বন্ধনহীন দায়ভারমুক্ত মানুষকে বিধি-নিষেধের আওতাধীন করার ক্ষেত্রেও তিনি রব। সে মতে মানবজাতির ক্রমবিকাশ অনুযায়ী ‘রব্বুন নাস’, আল্লাহ তা‘আলা যুগে যুগে আইন স্বরূপ কিতাব ও রিজাল প্রেরণ করেছেন। কিতাবুল্লাহ বর্ণিত আইন বিশ্লেষণ করে এর ব্যবহারিক দিকটি মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন রিজালুল্লাহ। এভাবেই সায়্যিদুনা শীস ‘আলাইহিস সালাম থেকে সর্বযুগে শরী‘আতে ইলাহী পালিত হয়ে আসছে। এই ধারাবিহকতায় চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ শরী‘আত হিসেবে নবীজী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে কুরআনুল আযীম। ইরশাদ হচ্ছেঃ


الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا


‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে ইসলামকে (চিরদিনের জন্য) পছন্দ করে নিলাম। (সুতরাং) এ দ্বীনকে পরিপূর্ণভাবে পালন করো। (তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন, সূরা মায়িদা-৩)


কুরআনুল আযীমে আল্লাহ তা‘আলা কেয়ামত পর্যন্ত আগত মানবজাতির দ্বীনি সকল সমস্যার সমাধান বাতলে দিয়েছেন। কোনোটি স্পষ্টভাবে সবিস্তারে, কোনোটি সংক্ষেপে মূলনীতি আকারে। এদিকে মানুষের স্বভাব চরিত্র, রুচি-বৈশিষ্ট্য অভিন্ন নয়। স্থান কাল পাত্র ভেদে তার সমস্যাবলিও ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু সর্বক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করতে হবে সরল পথ সীরাতে মুস্তাকীম। এজন্য উদ্ভূত সমস্যা নিরসণকল্পে তাকে কুরআন ও তার ব্যাখ্যা সুন্নাহ থেকে জেনে নিতে হবে আল্লাহর আইন-ইসলামী শরী‘আতের উৎস কী কী? যেন এর আলোকে সে খুঁজে নিতে পারে কাঙ্ক্ষিত মানযিল।


🌻🌻আল্লাহর আইন/ইসলামী শরী‘আতের উৎস🌼🌿🌿


ইসলামী শরী‘আতের উৎস তথা দলিল চারটিঃ


১. কুরআনুল কারীম

২. সুন্নাহ

৩. ইজমা

৪. কিয়াস।


সংক্ষেপে এগুলোর পরিচয় ও প্রমাণ তুলে ধরা হলো।


🌻🌿১. কুরআনুল কারীম🌼🌻


কুরআন সম্পর্কে দুটি কথা মনে রাখতে হবে।


ক. কুরআন আল্লাহ তা‘আলার কালাম। মানব রচিত গ্রন্থ নয়। কুরআনের অনুরূপ একটি গ্রন্থ, নিদেনপক্ষে এর ছোট্টতম সূরার সমমানের একটি সূরা প্রণয়নে মানুষের অক্ষমতাই এর প্রমাণ। চৌদ্দশ বছর পেরিয়ে গেছে; কুরআনের সাহিত্য-সুষমা, শিল্পগুণ, অর্থ-মর্ম ও ভাব-ব্যঞ্জনার আদলে একটি আয়াতও আজ পর্যন্ত কেউ গড়তে পারেনি। এ বিষয়টিই কুরআনুল কারীম অসীম শক্তিধর সত্তা আল্লাহ তা‘আলার কালাম হওয়ার প্রমাণ।


খ. কুরআন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর নাযিলকৃত ইসলামের প্রধান দলীল। বিষয়টি চৌদ্দশ বছর ধরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের সরাসরি শ্রবণ ও আত্মস্থ করার দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। হঠকারিতা বশতঃ দুপুরের তেজোদীপ্ত সূর্যকেও অস্বীকার করা যেতে পারে কিন্তু এ বাস্তবতাকে শত্রু-মিত্র কেউ অস্বীকার করতে পারে না। (বিস্তারিত জানতে আল ওয়াজীয ফী উসূলিল ফিকহ্ পৃষ্ঠা ২৬, তাকবীমুল আদিল্লাহ পৃষ্ঠা ২০)


২. সুন্নাহ🌼🌿🌻🌻


ইসলামী শরী‘আতের দ্বিতীয় উৎস সুন্নাহ। উম্মতের উদ্দেশ্যে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা, কাজ ও মৌনসমর্থনকে সুন্নাহ বলা হয়। সুন্নাহ মূলত কুরআনেরই ব্যাখ্যা। যারা কুরআন মেনে নিয়েছে তারা সুন্নাহ মানতেও বাধ্য। কারণ কুরআনের অসংখ্য আয়াতে নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী ও কর্ম অনুসরণের নির্দেশ এসেছে। সাহাবায়ে কেরামসহ গোটা মুসলিম উম্মাহ একমত যে, সুন্নাহ ইসলামের দ্বিতীয় পর্যায়ের দলীল। নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথা সুন্নাহর অনুসরণ উম্মতের অবশ্য কর্তব্য এ-সম্পর্কিত কুরআনের কয়েকটি আয়াতঃ


এক.


أَطِيعُوا اللهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُوْلَ


‘তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর এবং আনুগত্য করো রাসূলের’। (সূরা তাগাবুন, আয়াত-১২)


দুই.


وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا


‘রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা গ্রহণ করো আর যা কিছু থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।’ (সূরা হাশর, আয়াত ৭)


তিন.


قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي


‘হে নবী! মানুষকে বলে দিন তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবেসে থাকো, তবে আমার অনুসরণ করো।’ (সূরা আল-ইমরান, আয়াত-৩১) (বিস্তারিত জানতে হুজ্জিয়াতে হাদীস: পৃষ্ঠা ১৫-২০)


💝💟৩. ইজমা


ইসলামী শরী‘আতের তৃতীয় পর্যায়ের দলীল ইজমা। ইজমা হলো, উম্মতে মুহাম্মাদীর সত্যনিষ্ঠ মুজতাহিদগণের একই যুগে কোনো কথা বা কাজের ওপর ঐক্যমত পোষণ করা। (নূরুল আনওয়ার পৃ:-২১৯) ইজমা তার যাবতীয় শর্তসহ সংঘটিত হয়ে গেলে তার অনুসরণ ওয়াজিব; বিরোধিতা নাজায়িয ও গোমরাহী। (আল ওয়াজিয-পৃষ্ঠা:৫২)


ইজমা শরী‘আতের দলীল হওয়ার প্রমাণ


কুরআনের ভাষ্যঃ


وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا


‘যে ব্যক্তি তার সামনে হিদায়াত স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও রাসূলের বিরুদ্ধাচারণ করবে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য কোনো পথ অনুসরণ করবে আমি তাকে সেই পথেই ছেড়ে দেব, যা সে অবলম্বন করেছে। আর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব, যা অতি মন্দ ঠিকানা।’ (সূরা নিসা, আয়াত ১১৫)


আয়াতে কারীমায় ‘মুমিনদের পথ’ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এটাই ইজমা। আল্লামা ইবনে কাসীর রহ. বলেন, ইজমা শরী‘আতের দলীল, এর বিরোধিতা করা হারাম। বিষয়টি অনেক চিন্তা-ভাবনা করার পর ইমাম শাফেয়ী রহ. এই আয়াত দ্বারা সাব্যস্ত করেছেন। (তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৪৬০)


হাদীসের আলোকে ইজমাঃ

উম্মতে মুহাম্মাদিয়ার ইজমা শরী‘আতের দলিল এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসমূহ অর্থগত দিক থেকে মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। উদাহরণতঃ


لاتجتمع امتي على ضلالة


আমার উম্মত গোমরাহীর ওপর একমত হবে না। (জামে তিরমিযী হাদীস নং ২১৬৭)


এ-জাতীয় বহু হাদীস সুস্পষ্টরূপে প্রমাণ করে ইজমা শরী‘আতের দলীল।


সাহাবাযুগে ইজমাঃ

সকল সাহাবা রা. ইজমাকে শরী‘আতের দলীল মনে করতেন। সাহাবাযুগে ইজমা দ্বারা সাব্যস্ত কয়েকটি মাসআলা উল্লেখ করা হলোঃ


ক. নাতি-নাতনির মীরাস থেকে দাদির এক ষষ্ঠাংশ পাওয়া।


খ. যুহরের পূর্বে চার রাক‘আত সুন্নাত কোনো অবস্থায়ই তরক না করা।


গ. এক বোনের ইদ্দত চলাকালীন তার প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে অপর বোনের বিবাহ অবৈধ হওয়া।


ঘ. বিশুদ্ধ নির্জনবাসের দ্বারা মহর আবশ্যক হওয়া। ইত্যাদি। (নূরুল আনওয়ার পৃষ্ঠা ২২২)


এ-জাতীয় আরো অনেক মাসআলা সাহাবায়ে কেরাম রা. এর যুগে ইজমা দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে। (বিস্তারিত: আলমাহসুল ফী ইলমিল উসূল ২/৩৪, কাওয়াতিউল আদিল্লাহ ফিল উসূল পৃ. ৪৬১)


🌿🌼🌼৪. কিয়াস


শরী‘আতের চতুর্থ দলীল কিয়াস। কিয়াসের শাব্দিক অর্থ অনুমান করা, পরিমাপ করা। পরিভাষায়ঃ যে বিষয়ের বিধান কুরআন হাদীস বা ইজমাতে সুস্পষ্টভাবে নেই সেটাকে কুরআন, হাদীস বা ইজমায় বর্ণিত সুস্পষ্ট বিধান সংবলিত অনুরূপ কোনো বিষয়ের সঙ্গে মিলিয়ে তার বিধান বের করা; উভয় বিষয়ে বিধানের কারণ এক হওয়ার কারণে। (আল ওয়াজীয পৃ: ৫৬)


কিয়াস শরী‘আতের দলীল হওয়ার বিষয়টি কুরআন সুন্নাহ ও ইজমা দ্বারা প্রমাণিত।


কুরআনের আলোকে কিয়াসঃ


কুরআনের অনেক আয়াত দ্বারা কিয়াস সাব্যস্ত হয়। সূরায়ে হাশরের দুই নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহুদী গোত্র বনী নযীরের অশুভ পরিণতির কথা আলোচনা করার পর বলেছেন, فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الْأَبْصَارِ ‘হে চক্ষুষ্মানেরা! নিজেদের অবস্থা এদের সঙ্গে পরিমাপ করো।’ (এবং শিক্ষা গ্রহণ করো।)


আয়াতে কারীমার তাফসীরে আল্লামা মাহমুদ আলূসী রহ. বলেন, ফুকাহায়ে কেরাম এই আয়াত দ্বারা কিয়াসকে শরী‘আতের দলীল সাব্যস্ত করেছেন। তাঁরা বলেন, আল্লাহ তা‘আলা এখানে ই‘তিবার এর নির্দেশ দিয়েছেন। ই‘তিবার মানে অতিক্রম করা, এক বস্তু থেকে অপর বস্তুর দিকে যাওয়া। কিয়াসের মধ্যেও হুবহু এই ব্যাপারটি পাওয়া যায়। কারণ কিয়াস অর্থই হল মূলের বিধানকে শাখার ওপর আরোপ করা। (তাফসীরে রূহুল মাআনী ১৫/৫৯)


এ ছাড়া সূরা নিসার ৫৯ নং আয়াত এবং সূরা ইয়াসীনের ৭৯নং আয়াত দ্বারাও কিয়াস সাব্যস্ত হয়। (বিস্তারিতঃ আলওয়াজীয ফী উসূলিল ফিকহ পৃঃ ৫৯)


সুন্নাহর আলোকে কিয়াসঃ


হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী স্বয়ং নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামও কিয়াস করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে এ ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন।


একবার রমাজান মাসে হযরত উমর রা. নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলেন, রোযা অবস্থায় স্ত্রী চুম্বন করা কেমন? নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রোযা অবস্থায় তুমি যদি কুলি করো এতে কোনো সমস্যা হয় কি? হযরত উমর রা. বললেন, না, তা তো হয় না। নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে পেরেশান হচ্ছো কেন?


দেখা যাচ্ছে, নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহবাসের ভূমিকা চুম্বনকে পান করার ভূমিকা কুলির ওপর কিয়াস করেছেন এবং কুলির দ্বারা রোযা ভঙ্গ না হওয়ার বিধানকে বীর্যপাতহীন চুম্বনের ওপর প্রয়োগ করেছেন। (আল মুহাররার ফী উসূলিল ফিকহ ২/১০১ ও আলওয়াজীয পৃ: ৬০)


ইজমার আলোকে কিয়াসঃ


উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ অংশ সাহাবায়ে কেরাম রা.ও অনেক ক্ষেত্রে কিয়াস করে শরয়ী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। কিন্তু কোনো একজন সাহাবীর পক্ষ থেকেও এর বিরোধিতা হয়নি। এতে প্রমাণিত হয় কিয়াস শরী‘আতের দলীল হওয়ার ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।


সাহাবাযুগের কিয়াসের দৃষ্টান্তঃ


নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকালের পর খলীফা নির্বাচন প্রসঙ্গে অনেক সাহাবীই খেলাফতকে ইমামতে সালাতের ওপর কিয়াস করে হযরত আবূ বকর রা. কে মনোনীত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁরা বলেছিলেনঃ


رضيه رسول الله لديننا أفلانرضي لدنيانا.


‘নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দ্বীনী ব্যাপারে তাঁকে পছন্দ করেছেন, আমরা কি আমাদের দুনিয়াবী ব্যাপারে তাঁকে পছন্দ করব না।


উল্লেখ্য, এই কিয়াস পেশ করা হয়েছিল গণ্যমান্য সকল সাহাবীর উপস্থিতিতে। কিন্তু কেউ তা দলীল নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেননি। অতএব সাহাবায়ে কেরামের ঐক্যমতের ভিত্তিতেও কিয়াস শরী‘আতের দলীল সাব্যস্ত হলো। (বিস্তারিত জানতে আলওয়াজীয পৃঃ ৬০, তাকবীমুল আদিল্লাহ পৃঃ ২৭৮)


সুতরাং অধুনা যেসব মুসলমান ইজমা ও কিয়াসকে শরী‘আতের দলীল মানতে চান না, তাদের ভুল সিদ্ধান্ত পরিহার করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আকীদার দিকে ফিরে আসা ঈমানী দায়িত্ব। যাতে আহলে হকের বিরোধিতার কারণে আখেরাতে আযাবের সম্মুখীন হতে না হয়।


🌷🌷🌺বাকি আলোচনা পরের পর্বে আলোচনা করা হবে ইনশা'আল্লাহ

লিখেছেনঃ Mawlana Mujahidul Islam


Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.