আকিদা সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর

 প্রশ্ন: মুহতারাম, তাহলে এরূপ বর্ণনার ব্যাখ্যা কেমন হবে ?

ইমাম বুখারি রহিমাহুল্লাহর উস্তাদ, ইমাম মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ আল-ফিরইয়াবি রহিমাহুল্লাহ বলেন,

من قال إن الله ليس على عرشه فهو كافر

❝যে ব্যক্তি বলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা তাঁর আরশের উপরে নয়, সে ব্যক্তি কাফের।❞

[খালখু আফ'আলিল ইবাদ লিল-বুখারী, ২/৩৯]

[একজন সালাফি ভাই থেকে ঊদ্ধৃত করলাম। উত্তরটা জানা জরুরি।]

উত্তর:

১। এখানে আরশে বা উপরে বলতে কী উদ্দেশ্য? স্থানগত ভাবে? তাহলে এ বক্তব্যের বিপরীতে অসংখ্য ইমামের বক্তব্য রয়েছে যে, আরশে থাকার অর্থ কখনও স্থানগত নয় যে, আল্লাহ তায়ালা আরশে অবস্থান করেন। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ, ইমাম খাত্তাবী, ইমাম বাইহাকী সহ অসংখ্য ইমামের বক্তব্য দেখান যাবে।

২। যদি উদ্দেশ্য নেয়া হয়, স্থানগতভাবে আরশে বিশ্বাস না করলে কুফুরী, তাহলে এটি অকাট্যভাবে বাতিল। কারণ, আরশ মাখলুক। আর মাখলুক হওয়ার অর্থই যেটা আগে ছিলো না, পরে অস্তিত্বে এসেছে। যখন আরশ ছিলো না, তখন কী আরশে বিশ্বাস না করলে কুফুরী ধরা হবে? যদি সেটা কুফুরী না হয়, তাহলে বোঝা গেল, এই বক্তব্যটি সব-সময় সঠিক নয়। যৌক্তিকভাবে আরশের ক্ষেত্রে এটা অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে, সেটি অনাদি নয়, সুতরাং উপরের বক্তব্যটি কুফুরী হওয়ার কোন সুযোগ নেই যখন আরশই ছিল না। 

সুতরাং আরশের উপরে আল্লাহকে বিশ্বাস না করলে কুফুরী, এটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত নয়। বরং আল্লাহ তায়ালা স্থান ও সময়ের সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত, এটি অকাট্য। 

৩। শিয়াদের মত আমরা ইসমাতে সালাফ এর আক্বিদা রাখি না। এজন্য যুগ হিসেবে সালাফ বলা হোক বা ব্যক্তি হিসেবে সালাফ, শিয়ারা যেমন তাদের ইমামদেরকে মা'সুম বা নিষ্পাপ মনে করে, আমরা সেভাবে করি না। এজন্য তাদের কারও একক বক্তব্য অকাট্য বিষয়ের বিপরীতে দলিল হতে পারে না। আর কেউ যদি অকাট্য বিষয়ের বিপরীতে ইজমার দাবী করে, সেটাও সঠিক নয়। কারণ, অকাট্য বিষয়ের বিপরীতে কখনও ইজমা হতে পারে না। ইজমার দাবী করলে সেটা মিথ্যা দাবী হিসেবে পরিগণিত হবে।

৪।  আল্লাহ তায়ালার স্থান ও সময়ের সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হওয়ার বিষয়টি অকাট্য। এর বিপরীতে অন্য কারও বক্তব্য সঠিক হতে পারে না। তিনি সালাফ হোন বা পরবর্তী কেউ। খ্রিষ্টানদের সালাফরা অকাট্য বিষয়ের বিপরীতে ত্রিত্ববাদ চালু করেছিল আর খ্রিষ্টানদের অনেকে সেটা মেনে নিয়েছে। আমাদের সাথে তাদের পার্থক্য হল, সালাফের দোহায় দিয়ে আমরা খ্রিষ্টানদের মতো অকাট্য বিষয়ের বিপরীতে সালাফের বক্তব্যকে গ্রহণ করি না। অকাট্য বিষয়ের বিরোধিতা ছাড়া সালাফের বুঝের গুরুত্ব অবশ্যই আছে। কিন্তু কেউ যদি সালাফের নাম নিয়ে বলে, সালাফ বলেছেন দুই আর দুই পাচ, তাহলে আমরা সেটা কখনও মানতে পারি না। মোটকথা, সালাফের কারও বক্তব্যই অকাট্য বিষয়ের বিপরীতে দলিল হতে পারে না। সম্ভাব্য বা জন্নী বিষয়ের ক্ষেত্রে তাদের বুঝকে আমরা গুরুত্ব দিব।

লিখেছেনঃ মুফতি ইজহারুল ইসলাম হাফিঃ 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.